ওমর মুখতার রাহিমাহুল্লাহ এর একটি ঈমানদীপ্ত গল্প

ওমর মুখতার রাহিমাহুল্লাহকে ইতালির আদালতে হাজির করা হয়েছে। বিচারক তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলেন-
– আপনিই কি ইতালির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন?
– জি, করেছি।
– আপনিই তাহলে জনগণকে ইতালির সরকারের বিরুদ্ধে উস্কে দিয়েছেন?
– জী, আমি তাদেরকে জালেমদেরর বিরুদ্ধে লড়তে বলেছি।
– যে অপরাধ আপনি করেছেন তার ভয়াবহ শাস্তি সম্পর্কে আপনার ধারণা আছে?
– জী, খুব আছে।
– কতদিন যাবত ইতালি সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন?
– বিশ বছর।

ওমর মুখতার রাহিমাহুল্লাহ এর একটি ঈমানদীপ্ত গল্প
ওমর মুখতার রাহিমাহুল্লাহ এর একটি ঈমানদীপ্ত গল্প

বিচারক তাঁর দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি ব্যথিত যে, আপনাকে এভাবে মরতে হচ্ছে। ওমর মুখতার রাহিমাহুল্লাহ প্রত্যুত্তর দিয়ে বললেন, যেভাবে আমাকে মারা হচ্ছে তাতে আজ আমি অত্যন্ত আনন্দিত।
বিচারক কথা না-বাড়িয়ে বললেন, আপনাকে ছেড়ে দেয়া হবে। শর্ত হলো শুধু মুজাহিদদের উদ্দেশ্যে লিখে দিবেন তারা যেন ইটালী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই না করে।
আসামী ওমর মুখতার রাহিমাহুল্লাহ বললেন, যে শাহাদাত অঙ্গুলি প্রতিদিন পাঁচবার সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই, এবং মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর মনোনীত রাসূল সে অঙ্গুলির পক্ষে কোন বাতিলের জন্য সাক্ষ্য দেয়া সম্ভব নয়।
আল্লাহ আমাদেরকে বাতিলের বিরুদ্ধে এইভাবে কথা বলার তৌফিক দান করুন। (আমিন)

দেখে নিন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কিভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতেন

কুরআন তিলাওয়াত :

নবী (সাঃ) প্রতিদিন কুরআন থেকে নির্ধারিত একটি পরিমাণ তিলাওয়াত করতেন। কখনই তিনি এর ব্যতিক্রম করেন নি। তিনি তারতীলের সাথে কুরআন পাঠ করতেন। প্রত্যেকটি অক্ষর তার নিজস্ব মাখরাজ (উচ্চারণের স্থান) থেকে সুস্পষ্ট করে উচ্চারণ করতেন এবং প্রতিটি আয়াত পাঠ শেষে ওয়াক্ফ করতেন (বিরতি গ্রহণ করতেন)। তিলাওয়াতের সময় হরফে মদ্ আসলে লম্বা করে পড়তেন। উদাহরণ স্বরূপ তিনি الرحمن الرحيم পাঠ করার সময় মদ-&এর সাথে পড়তেন। তিলাওয়াতের শুরুতে তিনিأَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ পাঠ করতেন। কখনও তিনি এই দু’আটি পাঠ করতেন-

أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ

দেখে নিন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কিভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতেন
                               কুরআন 

‘‘আমি বিতারিত শয়তান, তার ধোঁকা, ফুঁক ও তার যাদু থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি’’।[1] তিনি অন্যের কাছ থেকে কুরআন তিলাওয়াত শুনতে পছন্দ করতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদকে রসূল (সাঃ) কুরআন তিলাওয়াত করার আদেশ দিতেন। তিনি তাঁর সামনে কুরআন পড়তেন। নবী  (সাঃ) তা শুনতেন। এ সময় তাঁর অন্তরের অবস্থা ও একাগ্রতা এমন হত যে, তাঁর উভয় চোখ থেকে অশ্রম্ন প্রবাহিত হত।[2] তিনি দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। ওযূ ছাড়াও তিনি কুরআন পাঠ করতেন। তবে স্ত্রী সহবাস জনিত কারণে অপবিত্র হলে পবিত্রতা অর্জন না করে কুরআন পড়তেন না। তিনি আওয়াজ উঁচু করে সুন্দর সুর দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুগাফ্ফাল লম্বা আওয়াজে তাঁর সামনে কুরআন তিলাওয়াত করার ধরণটি আ-আ-আ (তিনবার) বলার মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী এরূপই বর্ণনা করেছেন।[3] আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুগাফ্ফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত ধরণটি যদি রসূল (সাঃ) এর বাণী-

زَيِّنُوا الْقُرْآنَ بِأَصْوَاتِكُمْ

‘‘তোমাদের আওয়াজের মাধ্যমে কুরআনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি কর। অর্থাৎ তোমরা সুন্দর আওয়াজের মাধ্যমে কুরআন পড়’’।[4] এবং তাঁর বাণীঃ

مَا أَذِنَ اللهُ لِشَىْءٍ مَا أَذِنَ لِنَبِىٍّ حَسَنِ الصَّوْتِ يتغنى بِالْقُرْآنِ

‘‘আল্লাহ্ তা‘আলা সুন্দর কন্ঠের অধিকারী নবীর কাছ থেকে সুন্দর স্বরে কুরআন তিলাওয়াত যেমনভাবে শুনেন অন্য কোন বস্ত্তকে সে রকমভাবে শ্রবণ করেন না’’[5] এই দুইটি হাদীসকে একত্রিত করলে বুঝা যায় যে, তিনি ইচ্ছা করেই কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজকে উঁচু ও সুন্দর করতেন। নিছক উট চালানোর জন্য স্বীয় আওয়াজ উঁচু করেন নি। বরং কুরআন তিলাওয়াতে তাঁর অনুসরণ করার জন্যই তা করেছেন। অন্যথায় আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুগাফাফাল (রাঃ) কুরআন তিলাওয়াতে তাঁর আওয়াজ উঁচু ও সুন্দর করার ধরণ বর্ণনা করে দেখাতেন না। কুরআন তিলাওয়াতে আওয়াজ উঁচু ও সুন্দর করা দু’ভাবে হতে পারে।