সাহাবীদের উপর যেভাবে জুলুম নির্যাতন করা হত

সাহাবায়ে কেরামদের অবস্থা এই ছিল যে, যার গোত্রীয় শক্তি ছিল, সে তার গোত্রের সাহায্য পেত এবং স্বীয় গোত্রের লোকেরা তাকে অন্যান্য কাফেরদেরে কষ্ট হতে তাকে রক্ষা করত। কিন্তু বহু সংখ্যক সাহাবীর এ রকম কোন Continue reading “সাহাবীদের উপর যেভাবে জুলুম নির্যাতন করা হত”

নবুয়ত প্রাপ্তির পর নবীজিকে যেভাবে অত্যাচার করা হয়েছিল

নবুয়ত প্রাপ্তির পর দীর্ঘ নয় বত্সর যাবৎ নবীয়ে কারীম (সাঃ) পবিত্র ভুমি মক্কা নগরীতে দ্বীন প্রচার করিতে থাকেন এবং জাতির হেদায়াতে জন্য সর্বাত্নক চেষ্টা করিতে থাকেন ।এই সময় স্বল্প সংখ্যক লোক যাঁহারা ইসলাম গ্রহণ করিয়া হুজুরে পাক (সাঃ)এর প্রতি সাহায্য ও সহযোগীতা করিয়াছিলেন তাহারা ব্যতীত অধিকাংশ কাফেরই হুজুর (সাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরামের প্রতি অকথ্য অত্যাচার করিতেছিল । তাহারা ঠাট্টা বিদ্রুপ করিত এবং নির্যাতনমূলক যাহা ইচ্ছা তাহাই করিত । অমুসলিম হওয়া সত্বেও যাহারা হুজুরে পাক (সাঃ) এর প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন, হুজুরে পাক (সাঃ) এর চাচা আবু তালেব তাহাদের মধ্যে অন্যতম।

যখন তাহার ইন্তেকাল হইয়া গেল তখন কাফেরগন প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণে বাধা দিতে লাগিল ও মুসলমানদের প্রতি অমানুষিক নির্যাতন করিতে আরম্ভ করিল। এমতাবস্থায় নবীয়ে কারীম (সাঃ) এই উদ্দেশ্যে তায়েফ গমন করিলেন যে, হয়ত সেখানকার বিখ্যাত ছাক্বীফ গোত্রের লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করিবে যদ্দারা মুসলমানগণ কাফেরদের অত্যাচার হইতে নাজাত পাইবে এবং ইসলাম প্রচারের ভিত্তিও মজবুত হইয়া যাইবে ।

তায়েফে পৌছে হুজুরে পাক (সাঃ) তিন জন প্রভাবশালী লোকের সহিত সাক্ষাৎ করেন এবং তাহাদিগকে দ্বীনের দাওয়াত দিলেন ও আল্লাহ্ র নবী (সাঃ)এর সাহায্য করিতে আহ্বান করিলেন। কিন্তু তাহারা দ্বীন ইসলাম কবুল করা তো দূরের কথা, আরব জাতির বৈশিষ্ট মেহমানদারী ও আতিথেয়তার প্রতিও ভ্রুক্ষেপ না করিয়া অত্যন্ত অভদ্র ও রুক্ষ ব্যবহার করিল ।
তন্মধ্যে এক ব্যাক্ত বলিলঃ ওহ-হো, তোমাকে নাকি আল্লাহ নবী করিল ।আল্লাহ্ কি তোমাকে ব্যতিত আর কাউকে এই কাজ দিতে পান নি ?
পরক্ষনেই অন্য এক ব্যাক্তি বললেন , যেহেতু তোমার দাবি অনুসারে তুমি সত্যই নবী হও তবে তোমার কথা অস্বীকার করিলে বড় বিপদ আছে। আর যদি তুমি মিথ্যা নবী হও তবে এহেধ মিথ্যাবাদীর সহিত আমি কথা বলিতে চাইনা ।

অতঃপর হুজুর (সাঃ) সাহস করিয়া অন্যান্য লোকদের সহিত কথা বলার ইচ্ছা করিলেন। কিন্তু কেহই তাঁহার সহিত আলাপ করিতে সম্মত হলনা বরং ভত্সর্না করিয়া বলিতে লাগিল এক্ষুনি তুমি এই শহর ছাড়িয়া চলিয়া যাও। নয়তো তোমার কপালে অনেক খারাপী আছে । হুজুরে পাক (সাঃ) যখন সম্পূর্নরূপে নিরাশ হইয়া ফিরিয়া যাইতেছিলেন তখন তাহারা (উক্ত শহরবাসীরা) শহরের দুষ্ট ছেলেদিগকে তাহার পেছনে লেলাইয়া দিল। দুষ্ট ছেলেদের ক্রমাগত প্রস্তর আঘাতে মহানবী, জগের জ্যোতি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)এর শরীর মোবারক রক্তে রঞ্জিত হইয়া গেল ।

এইরূপ অপমান ,অপদস্থ এবং আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হইয়া হুজুর (সাঃ) শহরের বাইরে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হইয়া বসিয়া দুই হাত উপরে তুলিয়া প্রার্থনা করিতে লাগিলেনঃ “হে পরওয়ারদেগার ! আমি অসুস্থ ,নিপিরিত ,জর্জরিত হইয়া কেবল মাত্র এক তোমারই দরবারে হাত তুলিয়াছি। হে মহান প্রভু !তোমার পতাকা যদি দিয়েছ প্রভু ,হেন আমি ,দূর্বল আমি সেই পতাকা বহিবার শক্তি আমায় দাও। হে মাওলা !যদি তুমি আমার সন্তুষ্ট থাক তবে আমি কাহারও পরোয়া করিনা । এলাহী ! তোমার অসন্তষ্টিতে সন্তুষ্টি দ্বারা পরিবর্তন করাই আমার একমাত্র সাধনা ও কামনা ।তুমিই একমাত্র শক্তিশালী ।”

হযরত জিব্রাঈল (আঃ) হাজির হয়ে আরজ করলেন, আল্লাহ্ পাক তায়েফবাসীদের ধৃষ্টান্তমূলক যাবতীয় আচরণ ও দূর্ব্যবহার লক্ষ করেছেন এবং পাহাড় সমূহের খেদমত যার উপর ন্যাস্ত এমন এক জবরদ্স্ত ফেরেশতা আপনার কাছে পাঠিয়েছেন । আপনি তাহাকে যা বলিবেন সে (উক্ত ফেরেশতা)তাই ই করবে। অতঃপর উক্ত ফেরেশতা হুজুর (সাঃ)কে সালাম করে আরজ করলেন, আমাকে যা ইচ্ছা তা আদেশ করতে পারেন। যদি আপনার নির্দেশ পাই তবে তায়েফের উভয় প্বার্শের পাহাড়কে এমনভাবে মিলিয়ে দেব যেন সকলেই তার মাঝে নিষ্পেষিত হয়ে যায়। অথবা আপনার ইচ্ছানুসারে অন্য শাস্তিরও ব্যবস্থা করতে আজ্ঞা করতে পারেন।

কিন্তু দয়ার সাগর রহমাতুল্লিল আলাভীন (সাঃ) উত্তর করলেন,
“আমি আল্লাহর দরবারে এই আশাই পোষণ করি যে, যদি তারা পবিত্র ইসলাম গ্রহণ নাও করে তবুও তাদের বংশধরদের মধ্যে এমন লোকে জন্ম হবে যারা ইসলামের ছায়া তলে আশ্রয় গ্রহণ করে একমাত্র মহান আল্লাহ্ পাকের এবাদত বন্দেগী করবে।”

শিক্ষাঃ এই হলো সেই হুজুরে পাক (সাঃ)এর পবিত্র আখলাক, দয়া-মায়া এবং ক্ষমা-শীলতার একটি ক্ষুদ্র নমুনা। কিন্তু আমরা যারা তাঁর উম্মত বলে দম্ভ করে বেড়িয়ে থাকি অথচ কেউ আমাদের প্রতি ছোট্ট একটা অত্যাচার করলে আমরা এর চেয়ে বড় কোন অত্যাচার তাকে না করে ছেড়ে দেইনা ।

উৎসঃ মাওলানা মোঃ সাখাওয়াত উল্লাহ্ এর অনুবাদকৃত ‘হেকায়াতে সাহাবা বা ছাহাবাদের কাহিনী’

সফরের সময় মহানবী (সা.) রাতের বেলা যেভাবে ঘুমাতেন

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্যে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে বহুবার সফর করেছেন। যরাজীর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় কারণে অনেক সময় সঠিক গন্তব্যে পৌঁছার আগেই রাত চলে আসতো। তখন যেভানে রাত হতো সেখানেই তিনি রাত কাটিয়ে দিতেন। এ প্রসঙ্গে হাদিস শরীফে স্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে।
আরবি হাদিস

وَعَنْ أَبي قَتَادَةَ

رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا كَانَ فِي سَفَرٍ، فَعَرَّسَ بِلَيْلٍ اضْطَجَعَ عَلَى يَمِينهِ، وَإِذَا عَرَّسَ قُبَيلَ الصُّبْحِ نَصَبَ ذِرَاعَهُ، وَوَضَعَ رَأسَهُ عَلَى كَفِّهِ . رواه مسلم

বাংলা হাদিস
আবূ ক্বাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফরে থাকতেন এবং রাতে বিশ্রামের জন্য কোথাও অবতরণ করতেন, তখন তিনি ডান পার্শ্বে শয়ন করতেন। আর তিনি ফজরের কিছুক্ষণ পূর্বে বিশ্রাম নিলে তার হাতটা খাড়া করে হাতের চেটোর উপর মাথা রেখে আরাম করতেন।’
আলেমগণ বলেন, তিনি হাত খাড়া রেখে আরাম করতেন, যাতে গভীর নিদ্রা এসে ফজরের নামাযের ওয়াক্ত অথবা প্রথম ওয়াক্ত ছুটে না যায়।’[মুসলিম ৬৮৩, আহমদ ২২০৪০, ২২১২৫]

ইসলামে নারীদের কাজ সম্পর্কে যেভাবে আলোচনা করেছে

জীবনের সবচে’ কঠিন কাজ জীবিকার জন্য ঘাম ঝরানো এবং উপার্জনের জন্য দৌড়ঝাঁপ করা। ইসলাম নারীসমাজের প্রতি অনেক বড় একটি ইহসান এই করেছে যে, তার নিজের এবং পরিবারের অন্যসবার জীবিকা থেকে এবং যাবতীয় অর্থনৈতিক দায়-দায়িত্ব থেকে তাকে সম্পূর্ণরূপে অব্যাহতি দান করেছে এবং তা পুরুষের কাঁধে অর্পণ করেছে। এটা কন্যা হিসাবে, স্ত্রী হিসাবে এবং সন্তানের মা হিসাবে বাবার কাছে, স্বামীর কাছে এবং সন্তানের পিতার কাছে নারীর অধিকার ও প্রাপ্য।

মানবসমাজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য, সভ্যতার অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখার জন্য এবং সবচে’ বড় কথা, আল্লাহর পক্ষ হতে অর্পিত খেলাফতের দায়িত্ব বহন করার জন্য সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ, সবচে’ কঠিন ও কষ্টকর যে দায়িত্ব তা হলো সন্তান ধারণ ও সন্তান প্রসব। কে পালন করবে এ মহা-দায়িত্ব? আমাদের আল্লাহ এজন্য পুরুষের পরিবর্তে নারীকে নির্বাচন করেছেন এবং নারীর দেহসত্তা ও মানসসত্তাকে সেভাবেই তৈরী করেছেন।

তারপর সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল দায়িত্ব হচ্ছে সন্তানের শারীরিক ও মানসিক প্রতিপালন, তার শিক্ষা, দীক্ষা, নৈতিক ও চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধন। দুনিয়ার মানুষ গর্ব করে বলে, আজকের শিশু আগামী দিনের আদর্শ নাগরিক। আমরা বলি, আজকের শিশু হলো আগামী দিনের আদর্শ মা, আদর্শ বাবা এবং আলিমে দ্বীন, দাঈ ইলাল্লাহ ও মুজাহিদ ফী সাবীলিল্লাহ। তো কে পালন করবে শিশুকে গড়ে তোলার এ মহাদায়িত্ব? এখানেও নারীর ভূমিকাই বড়। এজন্যই ইসলাম নারীকে জীবিকার দৌড়ঝাঁপ থেকে এবং সর্বপ্রকার অর্থনৈতিক দায়-দায়িত্ব থেকে সযত্নে দূরে সরিয়ে রেখেছে, যেন সে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব স্বস্তির সঙ্গে, নিরাপত্তার সঙ্গে এবং মর্যাদার সঙ্গে পালন করে যেতে পারে। পুরুষের কর্তব্য নারীর এই ত্যাগ ও কোরবানিকে কৃতজ্ঞচিত্তে মূল্যায়ন করা এবং জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নারীর অর্থনৈতিক দায়-দায়িত্ব কৃতার্থতার সঙ্গে পালন করে যাওয়া।

কৃতজ্ঞতা ও কৃতার্থতার সঙ্গে কেন? উত্তরে বলা যায়, মাতৃত্ব দিয়ে নারীকে আল্লাহ গৌরবান্বিত করেছেন, আর পিতৃত্ব দিয়ে পুরুষকে আল্লাহ মুক্তি দান করেছেন। মাতৃত্বের গৌরব অর্জন করার জন্য পৃথিবীর প্রতিটি নারীকে প্রতিবার জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকি নিতে হয় এবং দীর্ঘ নয়মাস ব্যথার সাগর পাড়ি দিতে হয়। পক্ষান্তরে পুরুষকে শুধু উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও ব্যয়ভার বহন করতে হয়।

আল্লাহ তো নারী ও পুরুষ উভয়ের স্রষ্টা। তিনি জানেন, মাতৃত্ব কীভাবে অর্জিত হয়, আর পিতৃত্ব লাভ হয় কার কষ্টের সুফলরূপে। আল্লাহ বলেছেন-

ووصينا الانسان بوالديه احسانا حمتله امه كرها ووضعته كرها

(আর মানুষকে আমি উপদেশ দিয়েছি তার মা-বাবার সঙ্গে সদাচার করার। তার মা তাকে বহন করেছে কষ্ট করে এবং প্রসব করেছে কষ্ট করে।)

আল্লাহ তাআলা পিতামাতা উভয়ের প্রতি সদাচারের আদেশ করার পর বিশেষভাবে মার কষ্টের কথা বলেছেন। এভাবে আল্লাহ নারীর মাতৃত্বকে মহিমান্বিত করেছেন এবং সম্ভবত এ বিষয়েও তাম্বীহ করেছেন যে, পুরুষের পিতৃত্বের পিছনেও নারীর গর্ভযন্ত্রণা ও প্রসববেদনার অবদান।

তো পুরুষ তার এমন জীবনসঙ্গিনীর জন্য একটু ছাদের ছায়া, একটুকরো রুটির অন্ন এবং একখন্ড বস্ত্রের আবরণ যোগাড় করবে না? করতে হবে এবং কৃতজ্ঞতার সঙ্গেই করতে হবে। পুরুষের এটা শুধু নৈতিক দায়িত্ব নয়, আইনগত দায়িত্ব। ইসলামী খিলাফত কায়েম হলে রাষ্ট্রশক্তি পুরুষের এই দায়িত্বপালনের বিষয়টি নিশ্চিত করবে, করতে বাধ্য। এ জন্য নারীকে কেন তার মূল দায়িত্ব ছেড়ে ঘর থেকে বের হতে হবে? কেন তাকে দুনিয়ার ঝামেলায় জড়াতে হবে?

অন্তত মুসলিম বিশ্বে যত সরকার আছে, পাশ্চাত্য ও জাতিসঙ্ঘের হাতে ‘নৃত্যপুতুল’ না হয়ে তারা সত্যি যদি নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে চায় তাহলে আইন করে এ বিষয়টি নিশ্চিত করুক।

জেনে নিন, মহানবী (সা:) কে খুন করতে এসে যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছিলো এক খুনি…

মহানবী (সা) একদিন একটি গাছের তলায় ঘুমিয়েছিলেন। এই সুযোগে দাসুর নামের একজন শত্রু তাঁর পাশে এসে দাঁড়াল। শোরগোল করে সে মহানবী (সা) কে ঘুম থেকে জাগাল। মহানবী (সা) ঘুম ভাঙলে চোখ খুলে দেখলেন, একটা উন্মুক্ত তরবারি তাঁর উপর উদ্যত। ভয়ানক শত্রু দাসুর চিৎকার করে উঠলো, ‘এখন আপনাকে কে রক্ষা করবে?’

মহানবী(সা) ধীর শান্ত কণ্ঠে বললেন, ‘আল্লাহ’। শত্রু দাসুর মহানবী (সা) এর এই শান্ত গম্ভীর কণ্ঠের আল্লাহ শব্দে কেঁপে উঠল। তার কম্পমান হাত থেকে খসে পড়ল তরবারি।

মহানবী (সা) তার তরবারি তুলে নিয়ে বললেন, ‘এখন তোমাকে কে রক্ষা করবে, দাসুর? সে উত্তর দিল কেই নেই রক্ষা করার।’ মহানবী (সা) বললেন, ‘না, তোমাকেও আল্লাহই রক্ষা করবেন।’ এই বলে মহানবী (সা) তাঁকে তার তরবারি ফেরত দিলেন এবং চলে যেতে বললেন।

বিস্মিত দাসুর তরবারি হাতে চলে যেতে গিয়েও পারল না। ফিরে এসে মহানবীর হাতে হাত রেখে পাঠ করলঃ ‘লা- ইলাহ ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।’

আপনার কিডনিতে সমস্যা আছে কি না যেভাবে বুঝবেন

শরীরের রক্তকে বিশুদ্ধকরণের জন্য কিডনি হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। তাই কিডনি সবসময় স্বাভাবিক ভাবে কাজ করে কিনা তা জানার জন্য কিডনির বিভিন্ন লক্ষণগুলোর উপর আমাদের নজর রাখা এবং সজাগ থাকা অত্যন্ত জরুরি।

কিডনির অস্বাভাবিক ক্রিয়া

কিডনির অস্বাভাবিকতা গুরুত্বর স্বাস্থ্য সমস্যার কারন হতে পারে। এখানে কিছু সূচক এবং লক্ষণ বা উপসর্গ উল্লেখ করা হলো যেগুলো দেখা দিলে কিডনিকে সুস্থ রাখার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

ঘাম : কিডনি ও মূত্রনালী শরীরের পানির ভারসাম্য রক্ষার কাজ করে তাই যদি দেখা যায় খুব বেশি ঘাম হচ্ছে বা একেবারেই হচ্ছেনা তখন বুঝতে হবে যে কিডনির কাজে কোন ব্যাঘাত ঘটছে।

যারা সাধারণত বেশি ঘামেন তারা সৌন্দর্যবোধ সংক্রান্ত কারনে অস্বস্থিবোধ করেন। তাই অত্যাধিক ঘামের জন্য একটি প্রাকৃতিক সমাধান বের করতে হবে এবং সেই সাথে কিডনির কার্যকারিতা ঠিক আছে কিনা তা দেখার জন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

দেহে শক্তির অভাব দেখা দিলে : অত্যাধিক শারীরিক ও মানসিক কাজের পর ক্লান্ত লাগা স্বাভাবিক।তবে যদি এই অবস্থার সময়টা খুব বেশি বাড়তে থাকে তবে অবশ্যই তা স্বাভাবিক নয়। আবার যদি দেখা যায় কোন কারন ছাড়াই দীর্ঘ সময় ক্লান্ত লাগে সেটাও স্বাভাবিক নয়।

অলসতা ও ক্লান্ত লাগাও কিডনি ও লিভারের কাজের অস্বাভাবিকতাই প্রকাশ করে। তাই কিডনির ক্ষতিকর পদার্থ দূর করতে প্রাকৃতিকভাবে শরীরকে পরিষ্কার করা ও বিষাক্ততা দূর করার ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে তা নাহলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

শরীরে তরল জমে ফুলে যাওয়া : আমরা জানি যে কিডনি শরীরের তরল পদার্থকে নিয়ন্ত্রিত করে। তাই কিডনির ত্রুটিপূর্ণ কাজের ফলে শরীরের এক অংশের তরল অন্য অংশে গিয়ে জমা হতে পারে।

বিশেষ করে পা, পাকস্থলী, চোখের কোল ও চোখের পাতায় তরল জমা হয়ে ফুলে যেতে পারে। এই উপসর্গগুলো দেখা দিলে বুঝতে হবে যে কিডনি ভালো ভাবে কাজ করছে না এবং দেরী না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

শ্রবণশক্তির সমস্যা: শুনে যদিও অবাক লাগতে পারে তবুও কিছু ব্যাপার রয়েছে যেমন কানে শুনতে সমস্যা হওয়াও কিডনির কাজের অপ্রতুলতা প্রকাশ করে।

এই ব্যাপারটি তাদের জন্যই জরুরি যাদের মাঝে মাঝে শ্রবণশক্তি কমে যায়। তাই এই অবস্থায় কিডনির কার্যকারিতা প্রাকৃতিকভাবে উন্নত হবে এমন কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত।

কোমরের নিচে কটিদেশে ব্যাথা

সাধারণত কোমরের নিচের দিকে যেখানে কিডনি থাকে সেখানে চাপ দিলে যদি ব্যাথা বা কোন ধরনের অস্বস্থি অনুভূত হয় তাহলে তাহলে বুঝতে হবে যে কিডনি যততুকু ভালো কাজ করা উচিত ততটা ভালো কাজ করছেনা। তাই কোমরের নিচের দিকের ব্যাথা হলে তা উপেক্ষা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

হাঁটুতে ব্যাথা : কিডনি সাধারণত জয়েন্টগুলোর বিশেষ করে হাঁটুর সুস্থতার সাথে যুক্ত। যদি সাধারণ কোনো কারন ছাড়াই হাঁটুতে ব্যাথা অনুভব করেন তাহলে বুঝতে হবে কিডনিতে কোন সমস্যা হতে পারে। তাই হাঁটু ব্যাথা হলে দ্রুত ব্যাথার কারন খুঁজে বের করা এবং তা চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে।

লবনাক্ত খাবারের ইচ্ছা বেড়ে যাওয়া: মাঝে মাঝে দেখা যায় যে নির্দিষ্ট কিছু খাবার যেমন মিষ্টি, ঝাল, লবনাক্ত, মশলাযুক্ত ইত্যাদি খাবারের ইচ্ছা হঠাৎ বেড়ে যায়। শরীরে নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থের অভাবের কারনে এমন হতে পারে।

তাই যদি লবনাক্ত খাবারের ইচ্ছে হঠাৎ করে বেড়ে যায় তাহলে বুঝতে হবে কিডনির কাজ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় শক্তির অভাবে এমন হয়ে থাকে। তাই এসব পরিস্থিতিতে এর কারন জানা খুবই প্রয়োজন তা নাহলে শরীরের অবস্থা গুরুতরভাবে খারাপ হতে পারে।

ছোট্র এক শহরে হঠাৎ করে সবাই যেভাবে ধনী হয়ে গেলো

রুমানিয়ার এক ছোট শহর বুজেস্কুতে বাস করত একদল পরিযায়ী মানুষ। কারাভাঁ নিয়ে শহর থেকে শহরে, দেশ থেকে ভিনদেশে ঘুরে ঘুরে ধাতব পণ্যসামগ্রী বিক্রিই ছিল তাদের জীবিকার উপায়। কমিউনিজমের পতনের পর সেই মানুষগুলো হঠাৎ বিপুল বিত্তের অধিকারী হয়ে গেল। কিভাবে বিদেশী পত্রিকা অবলম্বনে সে কাহিনী লিখেছেন ঐশী পূর্ণতা

তার হাত দুটো বিশাল বপুর ওপর আড়াআড়ি করে রাখা। মাথায় খড়ের তৈরি মুকুট ধরনের একটা কিছু। বসে ছিল একটা বেঞ্চের ওপর। বসে বসে সামনের দিকে তাকিয়ে কী যেন দেখছিল।
রুমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্ট থেকে ৫০ মাইলের মতো দূরে এক গ্রামের দৃশ্য এটি। গ্রাম হলে হবে কী, তাতে নেই কোনো কুঁড়েঘর। বরং চার পাশে সব প্রাসাদোপম ভবন। ভবনের বহির্ভাগে তরঙ্গায়িত ব্যালকনি ও পিলার। প্রাসাদশৃঙ্গে হয় টাওয়ার নতুবা গম্বুজ। গ্রামের রাস্তা দিয়ে মাঝে মাঝেই ছুটে যাচ্ছে ঝাঁ-চকচকে নতুন গাড়ি। এই না-গ্রাম না-শহর এলাকাটির নাম বুজেস্কু। গোটা ইউরোপের মানচিত্রে এমন জায়গা আর একটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি। এখানে বসত করে ধনাঢ্য রোমা-রা।

শুরুতে যে লোকটার কথা বলেছি, তার নাম পারাচিভ। সেও একজন রোমা। রুমানীয় ভাষায় রোমা শব্দের অর্থ ‘মানুষ’। কিন্তু পারাচিভ বা তার স্বজাতির কেউই নিজেদের ‘রোমা’ বলে পরিচয় দেয় না। তারা নিজেদের বলে ‘সিগানি’। এর অর্থ যাযাবর বা জিপসি। দেশটির অন্যান্য গোত্রের লোকেরা ‘সিগানি’ বলতে বোঝে ভিখারী, চোর, অকর্মা এবং অন্য আরো কুৎসিত শব্দ। মনে করা হয় ‘জিপসি’ শব্দটি এসেছে ইজিপ্ট বা মিসর থেকে। এই গোত্রটির আদি বাসভূমি যেখানে। কিন্তু ভাষার দিক দেখলে বোঝা যায়, রোমারা এসেছে ইন্ডিয়া বা ভারত থেকে।

‘ধনাঢ্য রোমা’ এ কথাটিই একসময় ছিল এক নিষ্ঠুর কৌতুকের মতো। তারা ছিল গরিব ও নোংরা। বাস করত শহরের ধারে গড়ে ওঠা কোনো বস্তিতে; কার্ডবোর্ডের ঘরে। পূর্ব ইউরোপের অন্য সব দেশের মতো রুমানিয়ার রোমারাও চিরদরিদ্র। শিক্ষা-দীক্ষার সাথে তাদের কোনো সম্পর্কই ছিল না। যদিও দেশটির জনসংখ্যার এক-দশমাংশ অর্থাৎ ২০ লাখ তারা।

তবে ওই অবস্থা এখন আর বেশির ভাগ রোমা বা সিগানির জন্য প্রযোজ্য নয়। তাদের অনেকেই এখন বিলাসবহুল ও বহুতল ভবনের মালিক। এরকম একজন হচ্ছেন পারাচিভ। তার আছে একটি দোতলা ভবন। বেঢপ আকৃতির ভবনটির দেয়াল ধূসর ও সাদা মারবেল পাথরের। আর কোনায় কোনায় ব্যালকনি। ১৯৯৬ সালে যখন রোমারা ব্যাপক হারে ধনী হতে এবং ভবন বানাতে শুরু করে, সেই প্রথম দিককার ভবন এটি। এর চূড়ায় রয়েছে টিনে ছাওয়া একটি টাওয়ার। পারাচিভের দুই ছেলে লুইজি ও পেটুর কিন্তু বাবার তৈরি বাড়িটি একটুও পছন্দ নয়। তারা এটি ভেঙে ফেলে নতুন আরেকটি বাড়ি বানাতে চায়; হাল ফ্যাশানের বাড়ি। তাদের বাবা পারাচিভের এ নিয়ে তেমন মাথাব্যথা নেই। তার কথা : ছেলেরা যদি চায়, করুক!

দোতলা বাড়ি হিসেবে পারাচিভের বাড়িটি তো তবুও সাধাসিধে। শহরের দক্ষিণ ভাগের বাড়িগুলো দেখলে চোখে ধাঁধা লেগে যাওয়ার মতো। একেকটা একেক রকম। কোনোটা দেখলে মনে হবে বুঝি বা স্মৃতিসৌধ। কোনো আবার করপোরেট হেড কোয়ার্টারের মতো; কাচের দেয়ালশোভিত। কোনো প্রাচীন অভিজাতদের প্রাসাদের মতো। ছাদের চার পাশে দেয়াল, তাতেও ছিদ্র করা। প্রাচীনকালে আক্রান্ত হলে এ ধরনের ছিদ্র দিয়ে গুলি বা তীর নিক্ষেপ করা হতো।

এরকম প্রায় এক শ’ বাড়ি আছে ওই শহরতলীতেই। রোমারা সবাই যে ধনী তা নয়। তবে সবাই এতটুকু স্বচ্ছল অন্তত, যাতে তাদের জাতিগত অহঙ্কারটা ফুটে ওঠে।

এসব এলাকায় বাইরের কেউ গেলে তার মনে হবে, রোমারা বুঝি তাদের ঐশ্চর্য প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। আসলে ব্যাপারটা কিন্তু সেরকম নয়। ধনাঢ্য রোমারা এসবের খুব একটা পরোয়া করে না। বাইরের কেউ তাদের থামিয়ে কোনো প্রশ্ন করুক বা তাদের বাড়িঘরের ছবি তুলুক, শহরবাসী রোমারা এটা খুবই অপছন্দ করে এবং সেটা মুখের ওপর বলেও ফেলে। আমাকে দেখেই তো রোমা শিশুরা তারস্বরে চেঁচিয়েছে ‘প্লিকা, প্লিকা’ (চলে যাও, চলে যাও) আর যখনই আমি কথা বলতে গিয়েছি, বড়রা নিয়েছে মুখ ঘুরিয়ে। রোমা সমাজতত্ত্ববিদ গেলু ডুমিনিকা আমাকে সোজাসাপ্টা বলেছে, ‘এসব জায়গা তোমাদের জন্য নয়। (এখানে ‘তোমরা’ মানে রোমা নয় এমন যে কেউই)। এসব প্রাসাদ তারা বানিয়েছে নিজেদের দেখা ও দেখানোর জন্য।

প্রশ্ন হলো, চিরদরিদ্র রোমারা হঠাৎ এমন অঢেল সম্পদের মালিক হলো কিভাবে? স্থানীয় রোমা জনগোষ্ঠীর সরল জবাব : ‘ধাতু ব্যবসায়’। বুজেস্কু এলাকার বেশির ভাগ রোমাই বংশানুক্রমে কালদেরাশ (তাম্রকার)। তামার কাজই ছিল তাদের প্রধান বৃত্তি। ১৯৯০ সালের গোড়ার দিক পর্যন্ত এরা ঘোড়াচালিত কারাভাঁতে চড়ে চলে যেত দূর-দূরান্তে। পথে যত শহর পড়ত, সবখানে থামত আর বিক্রি করত কাজানে নামে। তামার তৈরি এক ধরনের পাতনযন্ত্র, যার সাহায্যে ফল থেকে মদ বানানো হয়। কাজানের দাম ছিল চড়া। ফলে পারাচিভের মতো কুশলী কারিগরদের কাছে এটা ছিল আকর্ষণীয় ব্যবসায়। একেকটা কাজানে বিক্রি হতো কয়েক শ’ ডলার দামে।তখন রুমানিয়ায় ছিল কমিউনিস্ট শাসন। সরকার রোমাদের দিকে কড়া নজর রাখত। এ কারণে টাকা-পয়সা থাকলেও তা প্রকাশ করত না ধনী রোমারা।

১৯৮৯ সালে রুমানিয়ায় কমিউনিস্ট শাসনের পতন ঘটে। আর তার পাশাপাশি রোমা কালদেরাশদের (তাম্রকার) ব্যবসায় বুদ্ধি হঠাৎ মুক্তির পথ খুঁজে পায়। এ সময় কাজানে কারিগর ও তাদের ছেলেপুলেরা ছড়িয়ে পড়ে রুমানিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের সর্বত্র। বন্ধ হওয়া বিভিন্ন কারখানা থেকে বৈধ ও অবৈধ উপায়ে রুপা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম, ইস্পাত ও মূল্যবান ধাতব যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে থাকে দুই হাতে। এসব জিনিস চড়া দামে বিক্রি করে বুজেস্কুর একদল রোমা রাতারাতি বিপুল বিত্তের মালিক হয়ে যায়। এরকম একজনের নাম মেরিন নিকোলে। এক সময় কাজানে বানিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। তার কথা : ওই সময় নানা ধরনের ধাতু কেনাবেচা করে নেহাত বোকারামও চার-পাঁচটি বাড়ির মালিক হতে পেরেছে।

বুজেস্কুর রাস্তায় রাস্তায় আমি এক সপ্তাহ ধরে অনবরত হেঁটেছি। চেষ্টা করেছি রোমাদের বাড়িতে যেতে এবং তাদের সাথে কথা বলতে। আমার সাথে ছিল দুই ফটোগ্রাফার কার্লা ও ইভান। তারা দুই মাস ধরে এখানে থেকে আসছে এবং সে কারণে কিছু মুখচেনা হয়ে গেছে। এই সূত্র ধরে তারা কখনো নাছোড়বান্দার মতো কোনো বাড়িতে ঢুকে পড়েছে, সেখানে বাড়ির লোকজনের ছবিও তুলতে পেরেছে। আর আমি অসহায়ের মতো বাড়ির সামনের গেটে দাঁড়িয়ে থেকেছি। কখনো কখনো কৌতূহল ও ভদ্রতাবশত বাড়ির মালিকেরা আমাকে ভেতরে ডেকে নিয়েছে।

বাড়ির ভেতরে আমি দেখেছি মারবেল পাথরের মেঝে ও দেয়াল। ছাদের সাথে ঝোলানো মূল্যবান ঝাড়বাতি। বেডরুমে যাওয়ার সিঁড়ি। নানা ধরনের খেলনা। কিন্তু এক ডজন বা তারও বেশি কক্ষবিশিষ্ট বাড়িগুলো প্রায়ই দেখেছি জনশূন্য। প্রায় বাড়িতেই বাস করে দাদা-দাদি ও জনাকয় ছোট ছেলেপিলে। তারাও থাকে বাড়ির পেছন দিককার রুমগুলোতে, খানাপিনা করে রান্নাঘরে। পরিবারের কর্তা-গিন্নি ও বড় ছেলেরা ব্যবসায় নিয়ে ব্যস্ত। তারা ছুটির দিনে, কারো ব্যাপ্টিজমের দিন কিংবা কেউ মারা গেলে তবেই বাড়ি আসে। এই বাড়িগুলো তাই ধনগর্বের শোরুম হয়েই দাঁড়িয়ে থাকে।

তাদের বাড়িগুলোর বহির্ভাগ এত কারুকার্যময় করার পেছনেও একটা কারণ আছে। তা হলো, বহুকাল ধরে চলে আসা তাদের সামাজিক প্রথা। আমি এক দিন ভিক্টর ফিলিসান নামে এক রোমার বাড়িতে ঢোকার সুযোগ পাই। তিনি আমাকে স্থানীয়ভাবে তৈরি দু’রকম মদ দিয়ে আপ্যায়ন করেন। কথাবার্তার এক ফাঁকে আমি টয়লেটে যেতে চাই। তিনি আমাকে বাড়ির বাইরে একটি টয়লেট দেখিয়ে দেন। গৃহকর্তা ও গিন্নি দু’জনেও এই টয়লেটই ব্যবহার করেন। অথচ তাদের বাড়ির ভেতরভাগে একটি সুসজ্জিত টয়লেট আমি দেখেছি। কিন্তু তারা সেটি ব্যবহার করেন না। কেন? জেনেছি, রোমা জনগোষ্ঠীর অনেকেই, বিশেষ করে প্রবীণেরা, ধর্মীয় বিধান অনুসারে পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে একই ছাদের নিচে রান্নাঘর ও টয়লেট থাকলে শেষেরটিতে যান না।

আর কয়েকটি বাড়িতে আমি দেখেছি বালক বয়সী স্বামী-স্ত্রী। পরে জেনেছি, রোমা অভিভাবকেরা তাদের ছেলেমেয়ে ১৩-তে পা দিলেই বিয়ে করিয়ে দেন। বিশেষ করে ধনাঢ্য পরিবারগুলোতে এটা খুবই সাধারণ ঘটনা।

এত কিছুর পরও এই সম্প্রদায়টি তাদের পরিযায়ী অতীত ভুলতে পারেনি। এই স্বভাবের কারণেই তাদের শহরটি সর্বদা থাকে মুখর। দেখা যায়, কোনো না কোনো পরিবার কারাভাঁ নিয়ে ছুটছে দেশান্তরেÑ স্পেন বা ফ্রান্সে, নিদেনপক্ষে বুখারেস্টের দিকে। প্রবীণের দল এখানে-ওখানে বসে সেই ফেলে আসা পরিভ্রমী দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করছে কী মধুর ও রোমাঞ্চকরই না ছিল সেসব দিন! আর ওদিকে শহরের প্রতিটি রাস্তার ধারে উঠছে নতুন নতুন ভবন। অথবা আরো মজবুত ও হালফ্যাশনের বাড়ি বানাতে পুরনোটা ভেঙে ফেলছে কেউ কেউ। এই শহরে, এই সম্প্রদায়ে কিছুই যেন স্থায়ী নয়, সবই যেন পরিভ্রমণশীল। শুধু তাদের পারিবারিক বন্ধনটাই অটুট, স্থায়ী।

ফ্লোরিন নামে এক রোমার সাথে কথা হচ্ছিল আমার। সে দম্ভভরে আমাকে বলল, ‘আমরা হচ্ছি রুমানিয়ার সবচেয়ে সভ্য জিপসি’। কিভাবে? সে বলে, ‘যদি আমরা সুন্দর কিছু দেখি, তবে আমরা তার চেয়েও সুন্দর কিছু পেতে চাই’।

কথাগুলো আমি বলেছিলাম রাডা নামে এক প্রবীণ বিধবাকে। এক সময় এই নারীও অট্টালিকায় বাস করতেন। এখন জীবনের শেষ দিনগুলো তাকে কাটাতে হচ্ছে একটি অপরিসর, অপরিচ্ছন্ন, পুরনো বাড়িতে। সেখানে তার চার পাশে মুরগিছানারা নির্ভয়ে ঘুরছে, সামনের দরজা দিয়ে ঢুকে রান্নাঘর পর্যন্ত চলে যাচ্ছে। আমার মুখে ফ্লোরিনের দাম্ভিক কথাগুলো শুনে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকালেন রাডা। ভাবখানা, এই হাঁদারাম গাদজো (বহিরাগত) বলে কী! তারপর ধীর শান্ত গলায় বললেন, বাপু হে, কত উঁচু বিল্ডিং তুমি বানালে, সেটা তো কথা না। শেষ পর্যন্ত সবাইকে তো ওই কবরেই যেতে হবে।

নামায যেভাবে আদায় করবেন…

শরীরের পবিত্রতা অর্জনের পর নামাযের সময় হলে নফল অথবা ফরয, যে কোন নামায পড়ার ইচ্ছা করুন না কেন, অন্তরে দৃঢ়সংকল্প নিয়ে কিব্লা অর্থাৎ পবিত্র মক্কায় অবস্থিত কাবা শরীফের দিকে মুখ করে একাগ্রতার সাথে দাঁড়িয়ে যাবেন এবং নিুবর্ণিত কর্মগুলো করবেন:
১। সেজদার জায়গায় দৃষ্টি রেখে তাক্বীরে তাহ্রীমা (আল্লাহু আকবার) বলবেন।
২। তাকবীরের সময় কান বরাবর অথবা কাঁধ বরাবর উভয় হাত উঠাবেন।
৩। তাকবীরের পর নামায শুরুর একটি দু’আ পড়বেন, পড়া সুন্নাত। দু’আটি নিুরূপ:
উচ্চারণ: সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তা’আলা জাদ্দুকা ওয়া লা-ইলাহা গাইরুকা।
অর্থ: “প্রশংসা এবং পবিত্রতা বর্ণনা করছি আপনার হে আল্লাহ! বরকতময় আপনার নাম। অসীম ক্ষমতাধর ও সুমহান আপনি। আপনি ভিন্ন আর কোন উপাস্য নেই”।

ইচ্ছা করলে উক্ত দু’আর পরিবর্তে এই দোআ পড়া যাবে:
উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা বাইদ্ বাইনী ওয়া বাইনা খাতাইয়াইয়া কামা বা’আত্তা বাইনাল মাশরিকি ওয়াল মাগরিবি, আল্লাহুম্মা নাক্কিনী মিন খাতাইয়াইয়া কামা য়ুনাক্কাছ ছাওবুল আবইয়াযু মিনাদ্দানাসি, আল্লাহুম্মাগ্সিল্নী মিন্ খাতাইয়াইয়া বিল মায়ি ওয়াছ্ ছালজি ওয়াল বারাদি”।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাকে ও আমার গুনাহের মাঝে এতটা দূরত্ব সৃষ্টি করুন যতটা দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ঠিক ঐভাবে পাপমুক্ত করুন যেভাবে সাদা কাপড় ময়লামুক্ত হয়। হে আল্লাহ! আপনি আমার গুনাহসমূহকে পানি দিয়ে ও বরফ দিয়ে এবং শিশির দ্বারা ধুয়ে দিন”। (বুখারী ও মুসলিম)

৪। তারপর বলবেন:
উচ্চারণ: “আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম”।
অর্থ: “আমি আশ্রয় চাচ্ছি আল্লাহর নিকট অভিশপ্ত শয়তান থেকে। আরম্ভ করছি দয়াবান কৃপাশীল আল্লাহর নামে।” এর পর সূরা ফাতিহা পড়বেন:

অর্থ: “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি সৃষ্টিকুলের রব। পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। বিচার দিবসের মালিক। আপনারই আমরা ইবাদত করি এবং আপনারই নিকট সাহায্য চাই। আমাদেরকে সরল পথের হিদায়াত দিন। তাদের পথ, যাদেরকে আপনি নিয়ামত দিয়েছেন। যাদের উপর আপনার ক্রোধ আপতিত হয় নি এবং যারা পথভ্রষ্টও নয়।”

৫। তারপর কুরআন হতে মুখস্থ ও সহজ সুরা পড়বেন।
৬। তারপর আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সবচেয়ে বড়) বলে দু হাত কাঁধ বরাবর অথবা কান বরাবর উত্তোলন করে দুই হাত হাঁটুর উপর রেখে পিঠ সোজা ও সমান করে রুকু করবেন এবং বলবেন
উচ্চারণ: “সুবহানা রাব্বিয়্যাল আযীম
(পবিত্র মহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি) এটি তিনবার অথবা তিনের অধিকবার বলা সুন্নত। তারপর বলবেন:
“সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ”
(আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে শুনলেন যে তাঁর প্রশংসা করল) বলে রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে, ইমাম হোক অথবা একাকী হোক, সোজা দাঁড়িয়ে গিয়ে দু হাত কাঁধ বরাবর অথবা কান বরাবর উত্তোলন করে বলতে হবে:
উচ্চারণ: রব্বানা ওয়া লাকাল হামদু হামদান কাসীরান তাইয়্যেবান মুবারাকান ফীহ, মিল্ আস্সামাওয়াতি ওয়া মিলআলআরযি, ওয়ামিলআ মা বাইনাহুমা ওয়া মিলআ মা শী’তা মিন শাইয়িন বা’দু”।
অর্থ: “ হে আমার প্রতিপালক! প্রশংসা আপনারই জন্য, প্রচুর প্রশংসা, যে প্রশংসা পবিত্র-বরকতময়, আকাশ ভরে, যমীন ভরে এবং এ উভয়ের মধ্যস্থল ভরে, এমনকি আপনি যা ইচ্ছে করেন তা ভরে পরিপূর্ণরূপে আপনার প্রশংসা”।
আর যদি মুক্তাদী হয় তাহলে রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে উপরোল্লেখিত দু’আ رَبَّنَا ولَكَ الْحَمْد …. (রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদু…) শেষ পর্যন্ত পড়বেন।
৮। তারপর اللهُ أَكْبَرُ (আল্লাহু আকবর) বলে বাহুকে তার পার্শ্বদেশ থেকে এবং ঊরুকে উভয় পায়ের রান থেকে আলাদা রেখে সেজদা করবেন। সেজদা পরিপূর্ণ হয় সাতটি অঙ্গের উপর, কপাল-নাক, দুই হাতের তালু, দুই হাঁটু এবং দুই পায়ের অঙ্গুলির তলদেশ। সেজদার অবস্থায় তিনবার অথবা তিন বারেরও বেশি এই দুআ পড়বেন।
উচ্চারণঃ সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা (পবিত্রতা ঘোষণা করছি আমার মহান প্রতিপালকের) বলবেন এবং ইচ্ছা মত বেশী করে দু’আ করবেন।
৯। তারপর اللهُ أَكْبَرُ (আল্লাহু আকবার) বলে মাথা উঠিয়ে পা খাড়া রেখে বাম পায়ের উপর বসে দুই হাত, রান ও হাঁটুর উপর রেখে বলবেন,
উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মাগর্ফিলী ওর্য়াহামনী ওয়া আফিনী ওয়ারজুকনী ওয়াহ্দিনী ওয়াজবুরনী”।
অর্থ: “ হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, দয়া করুন, নিরাপদে রাখুন, জীবিকা দান করুন, সরল পথ দেখান, শুদ্ধ করুন”।
১০। তারপর اللهُ أَكْبَر (আল্লাহু আকবার) বলে দ্বিতীয় সেজদা করবেন এবং প্রথম সেজদায় যা করেছেন তাই করবেন।
১১। তারপর اللهُ أَكْبَر (আল্লাহু আকবার) বলে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য উঠে দাঁড়াবেন। (এই ভাবে প্রথম রাকাত পূর্ণ হবে।)
১২। তারপর দ্বিতীয় রাকাআতে সূরা ফাতিহা ও কুরআনের কিছু অংশ পড়ে রুকু করবেন এবং দুই সেজদা করবেন, অর্থাৎ পুরোপুরিভাবে প্রথম রাকাতের মতোই করবেন।
১৩। তারপর দ্বিতীয় রাকাতের দুই সেজ্দা থেকে মাথা উঠানোর পর দুই সাজ্দার মাঝের ন্যায় বসে তাশাহ্হুদের এই দু’আ পড়বেন:
i) সমস্ত তাশাহহুদের সময় ডান হাতের মুঠি প্রায় বন্ধ করে তর্জনী কিবলার দিকে করে স্থির রাখা
অথবা
ii) সমস্ত তাশাহহুদের সময় ডান হাতের মুঠি প্রায় বন্ধ করে তর্জনী কিবলার দিকে করে স্থির না রেখে অল্প একটু উপরে নিচে করে নাড়তে থাকা।
উল্লেখ্য যে, তর্জনী নাড়ানোর এই পদ্ধতিটিও মুস্তাহাব। অর্থাৎ, কেউ একেবারেই তর্জনী না উঠালে গুনাহগার হবে না, কিন্তু কেউ এটা করলে সাওয়াব পাবে ইন শা আল্লাহ্। [৭]

উচ্চারণ:আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস্সলাওয়াতু ওয়াত্তাইয়েবাতু, আস্সালামু আলাইকা আইয়ুহান্নাবিয়্যু ওয়া রহ্মাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ, আস্সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস্ সলেহীন, আশ্হাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহ”।
অর্থ : “সকল তাযীম ও সম্মান আল্লাহর জন্য, সকল সালাত আল্লাহর জন্য এবং সকল ভাল কথা ও কর্মও আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপানার প্রতি শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের উপরে এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপরে শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল।”

তবে নামায যদি দুই রাকাত বিশিষ্ট হয়। যেমন: ফজর, জুমআ, ঈদ তাহলে আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ….. পড়ার পর একই বৈঠকে এই দরূদ পড়বেন:

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়ালা আলি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা ওয়ালা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ, ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়ালা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাক্তা আলা ইব্রাহীমা ওয়ালা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ”।
অর্থ: “ হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ ও তার বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেরূপভাবে আপনি ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম ও তার বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত সম্মানিত।”


আপনি মুহাম্মাদ ও তার বংশধরদের উপর বরকত বর্ষণ করুন, যেরূপভাবে আপনি ইব্রাহীম ও তার বংশধরদের উপর বরকত বর্ষণ করেছিলেন। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত, সম্মানিত”।

তারপর চারটি জিনিস থেকে এই বলে পানাহ চাইবেন:
উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন আযাবি জাহান্নামা ওয়া মিন আযাবিল্ ক্বাবরি ওয়ামিন ফিতনাতিল মাহ্ইয়া ওয়াল্মামাতি ওয়া মিন ফিত্নাতিল মাসীহিদ্দাজ্জাল”।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি অবশ্যই আপনার নিকট জাহান্নাম ও কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। দজ্জালের ফিত্না এবং জীবন মৃত্যুর ফিত্না থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।”
অথবা
আল্লাহুম্মা ইন্নি জালামতু নাফসী যুলমান কাছীরাওঁ ওয়ালা ইয়াগফিরুয যুনুবা ইল্লা আনতা, ফাগফিরলী মাগফিরাতাম মিন ইনদাকা ওয়ারহামনী ইন্নাকা আনতাল গাফুরুও রাহীম।

উক্ত দু’আর পর ইচ্ছেমত দুনিয়া ও আখিরতের কল্যাণ কামনার্থে মাস্নুন দু’আ পড়বেন। ফরয নামায হোক অথবা নফল সকল ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি প্রযোজ্য। তারপর ডান দিকে ও বাম দিকে (গর্দান ঘুরিয়ে)
উচ্চারণ: “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ”
বলবেন।


আর নামায যদি তিন রাকাত বিশিষ্ট হয়, যেমন মাগরিব। অথবা চার রাকাত বিশিষ্ট হয়, যেমন যোহর, আসর ও এশা, তাহলে দ্বিতীয় রাকাতের পর (সালাম না ফিরিয়ে) “আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি…. পড়ার পর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে দু হাত কাঁধ বরাবর অথবা কান বরাবর উত্তোলন করে সোজা দাঁড়িয়ে গিয়ে শুধু সূরা ফাতিহা পড়ে প্রথম দু’ রাকাতের মত রুকু ও সাজদা করতে হবে এবং চতুর্থ রাকাতেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। তবে (শেষ তাশাহ্হুদে) বাম পা, ডান পায়ের নীচে রেখে ডান পা খাড়া রেখে মাটিতে নিতম্বের (পাছার) উপর বসে মাগরিবের তৃতীয় রাকাতের শেষে এবং যোহর, আসর ও এশার চতুর্থ রাকাতের শেষে, শেষ তাশাহ্হুদ (আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহ……, ও দরূদ পড়বেন। ইচ্ছে হলে অন্য দু’আও পড়বেন। এরপর ডান দিকে (গর্দান) ঘুরিয়ে (আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ” বলবেন।সাওবান থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করে তিনবার ইস্তেগফার করতেন।ইব্ন আজুরা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সালাতের পর কিছু তাসবিহ আছে, যার পাঠকারীরা কখনো বঞ্চিত হয় না, ৩৩বার তাসবিহ, ৩৩বার তাহমিদ ও ৩৪বার তাকবির” অথাৎ সুবহানাল্লাহ ৩৩বার, আল-হামদুলিল্লাহ ৩৩বার, আল্লাহু আকবার ৩৪বার বলবেন।

এভাবেই একশত পুরো হবে, যেমন পূর্বে আবু হুরায়রার হাদিসে রয়েছে।[
আর এভাবেই নামায সম্পন্ন হয়ে যাবে।

জেনে নিন, যেভাবে ভেঙ্গে ফেলা হয় রাসুল সা. এর মেহরাব

রাসুলুল্লাহ সা. যে মেহরাবে নামাজে পড়াতেন আজ তা কেমন আছে? এ প্রশ্ন অনেকের মনে। আজ মদিনার মসজিদে নববির ইমামগণ যেখানে দাঁড়িয়ে নামাজের ইমামতি করেন, রাসুল সা.ও কি সেখানে দাঁড়াতেন? উত্তর হলো না। এখন ইমামগণ যেখানে দাঁড়িয়ে নামাজের ইমামতি করেন সেখানে রাসুল সা. দাঁড়াতেন না। সেখানে দাঁড়িয়ে নামাজের ইমামতি করতেন ইসলামের তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান গনি রা.। তাহলে রাসুল সা. যেখানে দাঁড়িয়ে নামাজের ইমামতি করতেন তার কি হলো?

সৌদি আরবের বর্তমান রাজ পরিবার আলে সৌদ ক্ষমতাগ্রহণের পূর্ব পযন্ত রাসুল সা. এর স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে তার মেহরাবটি অক্ষত রাখা হয়। যদিও মসজিদ সম্প্রসারণের কারণে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর রা. এর যুগ থেকে সে মেহরাবে মসজিদে নববির ইমামগণ সেখানে দাঁড়াতেন না। সালাফিপন্থী বর্তমান সৌদি রাজ পরিবার ক্ষমতা গ্রহণের পর ইসলামের অনেক নিদর্শনের মতো রাসুল সা. এর স্মৃতি বিজড়িত মেহরাবটি গুড়িয়ে দেয়া হয়।

রাসুল সা. এর ইন্তেকালের পর থেকে আলে সৌদ ক্ষমতায় আসার পূর্ব পযন্ত মসজিদে নববির ৬টি মেহরাব ছিলো। যা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন খলিফা ও শাসকগণ করেছিলেন। সৌদি রাজপরিবার ৬টি মেহরাব ভেঙ্গে একটি মেহরাব করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং হজরত উসমান রা. এর মেহরাবটি রেখে দেয়। মসজিদ সম্প্রসারণের সময় তিনি তা নির্মাণ করেছিলেন। তখন থেকে আজ পযন্ত এ মেহরাবে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ানো হচ্ছে।

মজার বিষয় হলো, রাসুল সা. এর যুগে মেহরাবের ভেতর এমন জায়গা রাখা হতো না। হজরত ওমর ইবনুল আবদুল আজিজ রহ. ৮৮ হিজরির পর এ পদ্ধতি অবলম্বন করেন।

আলে সৌদি মেহরাব ভেঙ্গে ফেললে মেহরাবের জায়গাগুলো সংরক্ষণ করেছে। তার কোনটি কোন শাসক নির্মাণ করেছিলেন তাও সে ইতিহাসও লিখে রেখেছে।

রাসুল সা. এর মেহরাব বা রিয়াজুল জান্নাহ-এর ডান পাশেই রয়েছে নবম হিজরি শতকে নির্মিত মেহরাবে সোলায়মান।

ঐতিহাসিকদের মত বর্তমানে মসজিদে নববির যেস্থানে দাঁড়িয়ে আজান দেয়া হয় তার কাছাকাছি জায়গায় ছিলো রাসুল সা. এর মেহরাব।