যে যত বেশি শিক্ষিত সে তত বেশি নির্লজ্জ !

যে যত বেশি শিক্ষিত সে তত বেশি
নির্লজ্জ ! সে তত বেশি অসভ্য !
** কেন বললাম..??
—–কারণ
** আমি কখনো দেখিনি-গ্রামের একটা
অশিক্ষিত
মেয়ে অর্ধ নগ্ন জামা-কাপড় পড়ে
রাস্তায়
চলাফেরা করতে ।। কিন্তু – আমি অসংখ্য
শিক্ষিত
মেয়েকে দেখেছি অর্ধনগ্ন হয়ে
লোকালয়ে ঘুরতে ।
** আমি কখনো দেখিনি পড়াশোনা
না জানাএকটা ছেলে গার্লফ্রেন্ডের
জামার ভেতরে হাতদিয়ে রাস্তায় হাটতে
।। কিন্তু
অসংখ্য শিক্ষিত ছেলেকে দেখেছি
এইনির্লজ্জ
দৃশ্যে।
** আমি কখনো শোনিনি অশিক্ষিত কোন
ছেলে মেয়ের সেক্স স্ক্যান্ডাল বের
হয়েছে ।। কিন্তু শিক্ষিত ছেলে-মেয়েদের
এই অসভ্যকার্য আমরা প্রতিনিয়ত শোনছি।
** আমি কখনো শোনিনি গ্রামের
অশিক্ষিত ১২-১৩ বছরের ছেলে মেয়ে
হোটেলে রাত কাটাতে গিয়েছে ।।
** আমি কখনোই শোনিনি গ্রামের কোন
অশিক্ষিত কৃষক অসংখ্য মেয়েদের সতিত্ব
নিয়ে
খেলা করতে ।। কিন্তু শিক্ষিত পরিমলের
কথা
আমরা সবাই জানি ।
** আমি কখনো শোনিনি একটি অশিক্ষিত
মেয়ে
তার হাত খরচার জন্য দেহ বিক্রি করেছে
।। কিন্তু –
ইউনিভারসিটি কলেজের বেহায়াদের
কথা আমরা সবাই
শোনেছি ।।
** আমি কখনো শোনিনি গ্রামের কিছু
অশিক্ষিত
ছেলে মেয়ে ল্যাংটা ছবি বানাতে গিয়ে
ধরা
খেয়েছে ।।
* এইবার প্রশ্ন শুধু একটা বলুন অসভ্য এবং
নির্লজ্জ
কারা??
এটার নাম ই কি শিক্ষিত সমাজ?
এটার নাম ই কি সভ্যতা?
কেউ কেউ বলে ‘তাহলে কি দেশ থেকে শিক্ষা তুলে দিলে ভালো হবে?
আমি বলি কেনো শিক্ষা তুলে দিবে?
প্রতিটা স্কুল কলেজে যদি ধর্মিয় শিক্ষা -বোরকা ‘হিজাব বাধ্যতা মূলক করা হতো’আর ছেলে মেয়েদের ওপেন চলাচল বন্ধ করে দেয়।তাহলে হয়তো কিছু কিছু শিক্ষিত অসভ্য মানুষ কিছুটা সভ্য হতো।

আমি কথাগুলো সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলিনি ।
শুধু যারা এই সব করে তাদের বলছি ।

আরে শিক্ষা অর্জন করো ঐ শিক্ষা -যে শিক্ষা মানুষকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।
দুনিয়া ও আখিরাত সুন্দর করে-
সমাজের মানুষ তাকে ভালো বলবে।
সবার কাছে সম্মান পাবে।

আর হমম কিছু কিছু মা ও বাবার উদ্দেশ্যে বলছি।
সন্তানের খুজ খবর নেনতো ঠিকঠাক ।কি করে কোথায় যায়?
কি ভাবে চলাফেরা করে?
ও মা ও বাবা তোমরা কি জানোনো -ছেলেমেয়েদের জন্যই তোমরা অপরাধ না করেও অপরাধী হবে।এদের জন্যই তোমাদের কে জাহান্নামে দিবে।
কেনো তোমরা ছেলে মেয়ের জন্য শাস্তি ভোগ করবে?
সময় থাকতে তোমরা তোমাদের ছেলে ‘মেয়েকে
বুঝাও কোন কাজ করলে ভালো হবে -কোনটা করলে খারাপ ।
ভালো কাজের আদেশ এবং খারাপ কাজের নিষেধ করো।
আর ভাই বোনদের উদ্দেশ্যে বলছি ।
তোমরা কি চাও – নিজের কঠিন পরিস্থিতি ও মা বাবার শাস্তি।
আশা করি কোনো ছেলে কিংবা মেয়েরা
নিজের _ এবং মা বাবার খারাপ টা চায় না।

ওকে ‘
পরিশেষে সবাইকে বলতে চাই ।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ো।
হালাল হারাম মেনে চলো’
আল্লাহর আদেশ নিষেধ- নবীর সুন্নত অনুযায়ী জীবন গড়ো'”
তবেইতো জীবন সুন্দর ও সার্থক হবে।

★#বিঃদ্রঃ- পোষ্টটি কেমন লাগল?
আপনার মূল্যবান লাইক ও কমেন্ট দিয়ে জানাতে ভুলবেন না।
পোস্ট ভাল লাগলে #শেয়ার_করবেন

দুহাত কাটার পরেও হাতের অবশিষ্টাংশ দিয়ে ইসলামের পতাকা দরছিলেন যে সাহাবী

হযরত মুসআব ধনীর দুলাল ছিলেন। কিন্তু ইসলাম গ্রহন করার পর তাঁর উপর চরম নির্যাতন চালানো হয়। দীর্ঘদিন বন্দী করে রাখা হয়। একদিন বন্দী জীবনের শৃংখল ভেংগে আবিসিনায় চলে যান। সেখান থেকে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন একটি পোশাক পরিধান করে মদীনায় আসেন। হযরত মুসআবের এই দুরবস্থা দেখে আল্লাহর রাসুল (সা) এর চোখ অশ্র“ সিক্ত হয়। কেননা মুসআব খুবই আরাম আয়েশের জীবন যাপন করতো। শুধুমাত্র ইসলাম গ্রহন করার কারণে তার এই দুরবস্থা।

মুসআব মদীনায় আসার পর ওহুদ যুদ্ধ সংগঠিত হয়। উক্ত যুদ্ধে মুসআবের হাতে ছিল ইসলামের পতাকা। যুদ্ধের ময়দানে শত্র“র প্রচন্ড আঘাতে মুসআবের ডান হাত কেটে যায়। এরপর তিনি বাম হাত দিয়ে ইসলামের পতাকা উড্ডীন রাখেন। একটু পরে বাম হাতও কাটা যায়। দুহাত কাটা যাওয়ার পর দুই হাতের অবশিষ্টাংশ দিয়ে ইসলামের পতাকা বুকে ধরে রাখলেন। যতক্ষণ প্রাণ ছিলো ইসলামের পতাকা মাটিতে পড়তে দেন নাই। অবশেষে শত্রু “ পক্ষের তীরের আঘাতে তিনি শহীদ হন।

যে কারণে সাহাবাদের একটি খেজুরও দিলেন না নবী সা.

গ্রাম থেকে একজন দরিদ্র সাহাবী এসেছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে দেখা করার জন্য। সাথে এনেছেন একটা থলে ভর্তি খেজুর। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের নিয়ে মসজিদে নববীর Continue reading “যে কারণে সাহাবাদের একটি খেজুরও দিলেন না নবী সা.”

ইসলামের দৃষ্টিতে যে সব খাবার হারাম-নিষিদ্ধ

মানুষের জন্য উপকারী ও পবিত্র সবধরনের খাদ্যের ব্যাপারে ইসলামের বিধান হচ্ছে হালাল ও বৈধতার। প্রমাণ্য ও গ্রহণযোগ্য দলিল ব্যতীত কোন প্রকার খাদ্য হারাম বলা যাবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বল, ‘আমার নিকট Continue reading “ইসলামের দৃষ্টিতে যে সব খাবার হারাম-নিষিদ্ধ”

যে নারীরা পরকীয়া করে : ইসলাম কি বলে

আদম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ব্যভিচারী ব্যাভিচার করা অবস্হায় মুমিন থাকে না। চোর চুরি করা অবস্হায় মুমিন থাকে না। মদ্যপায়ী মদ্যপানকালে Continue reading “যে নারীরা পরকীয়া করে : ইসলাম কি বলে”

উপমহাদেশের যে রাজা নগ্ন নারীদের সাথে স্নান করতো

বৈভব আর রাজকীয় অর্থ নয়ছয়ের ইতিহাসে আজও কুখ্যাতই হয়ে রয়েছেন রাজস্থানের ভরতপুরের রাজা কিষণ সিংহ। রাজস্থান মানেই বীর রাজপুতদের জায়গা। মহারানা প্রতাপ সিংহ থেকে সংগ্রাম সিংহ— একের পরে এক বীরপুঙ্গবের জন্মের জায়গা হিসেবে আজও রাজস্থানের নাম গর্বভরে নেওয়া হয়।

এমনকী, রানী পদ্মাবতী যিনি আলাউদ্দিন খিলজির হাত থেকে সম্মান রক্ষার্থে স্বামীর চিতায় জ্যান্ত আত্নাহুতি দিয়েছিলেন, তাঁর কাহিনি শুনে আজও ভারতীয় নারীরা অনুপ্রেরণা পান। সেখানে রাজস্থানের মতো বীরজন্মের পীঠস্থানে রাজা কিষণ সিংহের কাহিনি স্বাভাবিকভাবেই অবাক করে।

শুধু বৈভব বা অর্থ নয়ছয় করা নয়, রাজা কিষণ সিংহ যেভাবে নারীসঙ্গ উপভোগের জন্য এইসব করতেন, তার জন্য আজও তাঁকে ধিক্কার দেন রাজস্থানবাসী। ১৮৮৯ সালে জন্ম রাজা কিষণ সিংহের। দেওয়ান জারামানি দাসের লেখা বই থেকে রাজা কিষণ সিংহের নারীসঙ্গের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।

জানা যায়, রাতের অন্ধকারে সুইমিং পুলে নগ্ন হয়ে স্ত্রীদের সঙ্গে স্নান করতে নামতেন কিষণ সিংহ। এটা ছিল নাকি তাঁর প্যাশন। রাজা কিষণ সিংহের রাজমহলে ৪০ জন রানি থাকতেন। রাজার স্নানের এই রানিরাও নাকি নগ্ন হয়ে পুলে নেমে পড়তেন।

বিলাসবহুল এই জীবনকে আরও রঙিন করতে রাজমহলের সামনে গোলাপি মার্বেলে সুইমিং পুল বানিয়েছিলেন কিষণ সিংহ। এমনকী, সেই সুইমিং পুলে যাওয়ার রাস্তা বাঁধানো হয়েছিল চন্দন কাঠে। সুইমিং পুলে নামার জন্য চন্দন কাঠের সিঁড়িও বানানো হয়েছিল। পুলের মধ্যে ২০টি চন্দনকাঠের পাটাতন এমনভাবে রাখা হয়েছিল যে, এক একটি পাটাতলে ২জন করে রানি আরামসে দাঁড়াতে পারতেন।

রাজা কিষণ সিংহের নির্দেশে প্রত্যেক রানিকেই হাতে মোমবাতি নিয়ে পুলের সিঁড়ি থেকে একদম সিড়ির শেষ ধাপ পর্যন্ত দাঁড়াতে হতো। মোমবাতি হাতে রানিরা পুলে এসে হাজির হলে নিবিয়ে দেওয়া হত রাজপ্রাসাদের সমস্ত আলো। রানিরা পুলের সামনে এসে দাঁড়ানোর পরে রাজা পুলে আসতেন। সুইমিং পুলে নামার সময়ে এক এক করে রানিদের পুলে ছুড়ে দিতেন রাজা। কেবল একজন রানিকে বাহুডোরে নিয়ে নিতেন। রাজা পুলে নামলে নগ্ন অবস্থায় হাতে মোমবাতি নিয়ে নৃত্য পরিবেশন করতে হত রানিদের।

রানিদের উদ্দেশে কিষণ সিংহের কঠোর নির্দেশ ছিল—মোমবাতি যেন না নেবে। নাচের শেষমুহূর্ত পর্যন্ত যে রানির হাতের মোমবাতি জ্বলত, তাঁকে নিয়ে নিজের খাসমহলে যেতেন রাজা। এর মানে, ওই রানি সেই রাতে রাজার সঙ্গে রাত কাটানোর সুযোগ পেতেন। এবেলা
সূত্র : বহুমাত্রি ডট কম

যে দোয়া পাঠ করলে হাজার বার হজ্জ করার সমান সওয়াব আমল নামায় লেখা হবে?

যে দোয়া পাঠ করলে হাজার বার হজ্জ কারার সমান সওয়াব আমলনামায় লেখা হবে?

উচ্চারন ঃ
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু জালীলুল জাব্বারু, লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহুল ওয়াহিদুল কাহ্হারু, লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহুল আজিজুল গাফ্ফারু, লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহুল কারীমুস্ সাত্তারু, লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা- শারীকালাহু ইলাহাওঁ ওয়াহিদাওঁ ওয়া নাহনু লাহু মুসলিমূন, লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা- শারীকালাহু ইলা-হাঁও ওয়াহিদাঁও ওয়া নাহনু লাহু মুখ্লিছুন- লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূূলুল্লাহি ওয়া ছাল্লাল্লাহু আ’লা খাইরি খালক্বিহী মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আলিহি ওয়া আছহাবিহী আ’জমাইন । ওয়াছাল্লামা তাসলিমান্ কাছীরান্ কাছীরান্, বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন ।ফযীলত ঃ
রাসূলে করীম (স) বলছেন, যদি কেহ ছোবহে সাদেকের সময় এ দোয়া পাঠ করে, সে যেন হাজার বার হজ্জ ও সমস্ত কোরআন শরীফ হাজার বার খতম করল এবং সহস্র গোলাম আল্লাহর ওয়াস্তে আজাদ করে দিল । অর্থাৎ এতদসমূদয় ছওয়াব তার আমলনামায় এ দোয়ার বরকতে লিখিত হবে ।

শুধু ইহাই নয় সহস্র শবে ক্বদর লাভের ও সহস্র দিনার আল্লাহর রাহে খরচ করার এবং রাসূলে করীম (স)- এর উপর সহস্র দুরুদ পাঠের ছওয়াবও এ দোয়া পাঠের বরকতে লাভ করবে ।

নামাজে যে ১৭ টি ভুল আমরা এখনো করছি

১।প্রচলিত ভুলঃ প্রচলিত উযূর মধ্যে
বাংলায় বা আরবীতে নাওয়াইতুআন আতআজ্জা……
নিয়্যাত হিসাবে পড়া হয়। কিন্তু সহীহ
হাদীস তো দূরের কথা কোন যঈফ হাদীসেরও
মুখে নিয়্যাত উচ্চারণের কথা বলা নেই।
* রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)
এর পদ্ধতিঃ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া
সাল্লাম) বলেনঃ ‘‘আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই
পাবে, যা সে নিয়্যাত করবে।’’ (সহীহুল
বুখারী-১/১, সহীহ্ মুসলিম’ ৪৬) অতএব
নিয়্যাত করতে হবে পড়তে হবে না। আনোয়ার
শাহ্ কাশ্মিরী (রঃ) বুখারীর শরা হতে
লিখেছেন; নিয়্যাত হলো- অন্তরের

কার্যসমূহ। (ফয়যুল বারী-১/৮ পৃঃ)
২। প্রচলিত ভুলঃ উযূর প্রথমে ‘লা-ইলাহা
ইল্লাল্লাহ, অথবা আলহামদুলিল্লাহ অথবা
আশহাদু আল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করলে
বিসমিল্লাহ পাঠের সুন্নাত আদায় হয়ে যায়।
(ফাতোয়ায়ে আলমগিরী, তাজ কোঃ ১/৩০ পৃঃ)
তাছাড়া প্রত্যেক অঙ্গ ধোয়ার জন্য পৃথক পৃথক
দু’আর প্রচলন আছে। (বেহেশতী
জেওর-১/৯৮,৯৯,১০, ফতোয়ায়ে আলমগীরী
তাজ কোঃ ১/৩৪ পৃঃ)
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-এর
পদ্ধতিঃ আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু
আলাইহিওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘‘সে ব্যক্তির
সলাত হয় না, যার উযূ নেই। আর যে ব্যক্তি
উযূর সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলে না, তার উযূ হয়
না। (সহীহ মুসলিম ২/৩২, তিরমিযী-১/২৯
পৃঃ ইফাবা, ইবনে মাজাহ-১/১৭৯ পৃঃ, আবু
দাউদ-১/৫১ পৃঃ, মিশকাত-২/৩৭০) উল্লেখ্য
যে, শুরুতে বিসমিল্লাহ ছাড়া মধ্যখানে
প্রত্যেক অঙ্গ ধোয়ার কোন আলাদা দু’আ সহীহ
হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। সুতরাং কেউ তা
করলে বিদ’আত হবে।
৩। প্রচলিত ভুলঃ মাথার এক-চতুর্থাংশ মাসাহ
করা ফরয। মুথতাছার কুদুরী মাদ্রাসার ৯ম ও
১০ম শ্রেণীর পাঠ্য ৮ পৃঃ ফতোয়ায়ে
আলমগিরী ২৮ পৃঃ বেহেশতী জেওর ১/৪১ পৃঃ
১৫ নং মাসআলায় মাথার অগ্রভাগ পরিমাণ
মাসাহ করা ফরয। (হিদায়া আলমগীরী-৪৫ পৃঃ
১/ ইফবা মাথার সম্মুখভাগ মাসাহ না করে যদি
কোন ব্যক্তি মাথার পেছনের অংশ অথবা ডান বা
বাঁদিকে মাথার মধ্যাংশ মাসাহ করে তবে মাসাহ
দুরস্ত হবে। (তাতারখানিয়া’ ফাতোয়ায়ে
আলমগীরী-১/৪৫)

৪। প্রচলিত ভুলঃ উভয় হাতের পৃষ্ঠ দ্বারা
ঘাড় মাসাহ করবে। (ফাতওয়ায়ে আলমগীরী ৫১
পৃঃ)
* রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-
এর পদ্ধতিঃ ঘাড় মাসাহ করা বিদ’আত। নাবী
(সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) হতে ঘাড়
মাসাহ (বিশুদ্ধ সূত্রে) প্রমাণিত নয়। সহীহ্
মুসলিমের ভাষ্যকার ইমাম নাবাবী (রঃ) একে
বিদ‘আত বলেছেন। (সহীহ বুখারী তাওঃ প্র.
টীকা ১১১ পৃঃ) উল্লেখ্য যে, উযূর শেষে
কালিমায়ে শাহাদাত পড়া সুন্নাত।
(মুসলিম-২/৩৯)।
৫। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের দেশে প্রচলিত
বিভিন্ন কথিত ধর্মীয় পুস্তকে উযূর পূর্বে
পাঠ করার জন্য নিম্নের দু’আটি শেখানো
হয়েছে- উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহেল আলিউল
আযীম, ওয়ালহামদুলিল্লাহ আলা দ্বীনেল
ইসলাম, আল ইসলামু হাক্কুন ওয়াল কুফরি
বাতেলুন, ওয়াল ইসলামু নুরুন ওয়াল কুফরু
জুলমাতুন। (মওঃ গোলাম রহমান, মকছুদুল
মোমেনীন-১২৭ পৃঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)
-এর পদ্ধতিঃ দুই নং আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে
বর্ণিত হাদীস দ্রষ্টব্য। এছাড়া উল্লিখিত
সব বানাওয়াট বা জাল কথা এর কোন সহীহ্
ভিত্তি নেই। তাছাড়া ‘বেহেস্তি জেওর’ ও
উল্লিখিত ‘মোকছুদুল মোমেনিন’ সহ বিভিন্ন
প্রচলিত পুস্তকে উযূর প্রত্যেক অঙ্গ ধৌত
করার সময় পাঠ করার জন্য বিশেষ দু‘আর কথা
উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন, হাত ধোয়ার, কুল্লি
করার, নাক পরিষ্কার করার ইত্যাদি। অথচ
এই দু‘আর কোন সহীহ্ ভিত্তি নেই। যে
হাদীসের উপর ভিত্তি করে বলা হয় তার সবই
বানোয়াট বা জাল। ইমাম দারাকুতনী, ইমাম
নববী, ইমাম সূযুতী, মোল্লা আলী, ক্বারী-আল-
হানাফী ও অন্যান্য মুহাদ্দীসগণ সকলেই
হাদীসটিকে জাল ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ
করেছেন। (নাববী, আল-আযকার ৫৭ পৃঃ,ইবনুল
কাইয়েম, আল-মানারুল মুনিফ ১২০ পৃঃ, আল
ক্বারী, আল-আসরারুল মারফূআ ৩৪৫, গৃহীত,
হাদীসের নামে জালিয়াত ৩৬৪ পৃঃ)

৬। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের দেশে কোন কোন
গ্রন্থে লেখা আছে। উযূর পরে সূরা ক্বদর পাঠ
করিলে সিদ্দীকের দরজা হাসিল হইবে। (মওঃ
গোলাম রহমান, মোকছুদুল মোমেনীন
১৩২-১৩৩ পৃঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)
-এর পদ্ধতিঃ ওমর ফারূক (রাঃ) হতে বর্ণিত,
রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)
এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি পূর্ণভাবে উযূ করবে ও
কালেমায়ে ‘শাহাদাতইন’ পাঠ করবে, তার জন্য
জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হবে। যেটা
দিয়ে ইচ্ছা সে প্রবেশ করবে। (সহীহ্ মুসলিম,
মিশকাত হা/২৮৯) এ দু‘আর সাথে তিরমিযী
শরীকের বর্ণনায় আরো একটি দু‘আ পাওয়া যায়
তা’হলঃ-
উচ্চারণঃ- ‘‘আল্লা-হুম্মাজ আলনী মিনাত্
তাউয়াবীনা ওয়াজ্ ‘আলনী মিনাল
মুতাত্বাহিরীন।’’ অর্থ- হে আল্লাহ আপনি
আমাকে অধিক তাওবাকারী এবং পাক পবিত্র
লোকদের অন্তর্ভূক্ত করেদিন। (সহীহ্
তিরমিযী-১/৪৯ পৃঃ)
৭। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের সমাজে অনেক
মুসল্লিকে দেখা যায় উযূর শেষে উল্লিখিত দু‘আ
পাঠ করার সময় আসমানে দিকে তাকায়। অথচ
উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীসটি ‘মুনকার’ বা
যঈফ। (আলবানী, ইরাওয়াউল গালীল-১/১৩৪
পৃঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)
-এর পদ্ধতিঃ উপরে বর্ণিত শাহাদাতাইন ও
তিরমিযী বর্ণিত দু‘আটি পাঠ করা। আসমানের
দিকে না তাকিয়ে। (সহীহ্ মুসলিম, মিশকাত
হা/ ২৮৯, সহীহ্ তিরমিযী-১/৪৯ পৃঃ,
হা/৫৫)
৮। প্রচলিত ভুলঃ ‘‘তায়াম্মুমে দুই হাত
মাটিতে মারিবে-প্রথমবার হাত দ্বারা
মুখমন্ডল মুছিয়া নিবে আর দ্বিতীয়বার হাত
দ্বারা কনুই সহ দুই হাত মাসাহ
করিবে।’’ (কুদুরী-৪২ পৃঃ)
* রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-
এর পদ্ধতিঃ আম্মার ইবন ইয়াসার (রাঃ)
গোসলের প্রয়োজনে পানি না থাকায় মাটিতে
গড়াগড়ি দিয়ে সলাত আদায় করলে নাবী
(সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বললেনঃ
‘‘তোমার জন্য তো এটুকুই যথেষ্ট ছিল’’-এ বলে
নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)
দু’হাত মাটিতে মারলেন এবং দু’হাতে ফুঁ দিয়ে
তাঁর চেহারা ও উভয় হাত মাসাহ্ করলেন
(সহীহুল বুখারী-১/৩৩৮)। এই হাদীস দ্বারা
একবার পবিত্র মাটিতে হাত মারার কথা
প্রমাণিত হয়। অথচ মাযহাবী বিদ্বানগণ
তায়াম্মুমের জন্য দু’বার মাটিতে হাত মারার
কথা উল্লেখ করে থাকেন। ইমাম বাইহাকী এ
রাবীকে দুর্বল বলেছেন। ইমান নাসঈ ও দারা
কুতনী তাকে মাতরুকুল হাদীস বলেছেন। তাছাড়া
শরহে বিকায়ার ১ম খন্ডে দু’হাতের কনুই
পর্যন্ত মাসাহ্ করার যে পদ্ধতি বর্ণিত আছে
তাতো সহীহ্ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়, কোন
কোন কিতাব আংটি কিংবা চুড়ি থাকলে নাড়িয়ে
নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এও বলা হয়েছে যে,
যদি এক গাছি লোম পরিমাণ স্থানও হাতে
কিংবা মুখে মোছা না যায় তবে তায়াম্মুম হবেনা।
এ সকল কথা প্রমাণহীন ও নব-আবিষ্কৃত
বিদ’আত। ‘‘মাসাহা বিহিমা ওয়াজহাহু ওয়া
কাফফাইহী’’ দ্বারা সঠিক অর্থ মুখমন্ডলও
কব্জি মাসাহ্ করলেন যারা এর দ্বারা কনুই সহ
হাত বুঝেছেন তারা ভুল করেছেন। কারণ, কনুই
সহ দুই হাতের আরবী হল ‘‘যিরাউন’’ অতএব বুঝা
গেল তায়াম্মুমের সঠিক তরীকা হল একবার
পবিত্র মাটিতে হাত মেরে ফুঁ দিয়ে হস্তদ্বয়
কব্জি পর্যন্ত এবং মুখমন্ডল একবার মাসাহ
করা।
৯। প্রচলিত ভুলঃ ইক্বামাত ঠিক আযানের
মত, তবে ‘‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’’-এর পর
‘‘কাদকামাতিস সলাহ’’ দুইবার বলতে হবে।
(হিদায়া ইফাবা-১/৬৫ পৃঃ, ফাতাওয়ায়ে
আলমগীরী-১/১১৬ পৃঃ, আল মুখতাছারুল কুদুরী
মাদ্রাসার ৯ম-১০ম শ্রেণীর পাঠ্য-৬১ পৃঃ)
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-এর
পদ্ধতিঃ আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, ‘বিলালকে
নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সে যেন আযান জোড়
অর্থাৎ দুবার দুবার দেয় এবং ইক্বামাত
ক্বাদামাতিস সলাহ ব্যতীত বে-জোড় অর্থাৎ
একবার দেয়। (সহীহ বুখারী ১/৮৫ পৃঃ, সহীহ
মুসলিম ১/১৬৪-১৬৫ পৃঃ আবু দাউদ ১/৭৫ পৃঃ)
১০। আযানের দু’আ প্রচলিত ভুলঃ আমাদের দেশে
রেডিও, টিভি ইত্যাদি প্রচার মাধ্যমে এবং
বিভিন্ন ফিকহী গ্রন্থে কিছু অতিরিক্ত শব্দ
বলা হয়, যেমনঃ ‘ওয়াদারাজাতির রাফিয়া’ এবং
‘ইন্নাকালা তুখলিফুল মি‘আদ’ (বেহেশতী জেওর,
২য় খন্ড ১২২ পৃঃ, মাসআলা-৯)
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম -এর
পদ্ধতিঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া
সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘‘যে ব্যক্তি আযান শুনে দু’আ
করে-আল্লা হুম্মা রববা হা-যিহিদ দা’ওয়াতিত
তাম্মাহ, ওয়াছ ছলা-তিল ক্বা-য়িমাহ, আ-তি
মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাযীলা,
ওয়াব‘আছহু মাক্বা-মাম মাহমূদানিল্লাযী ওয়া
আত্ত্বাহ’- ক্বিয়ামাতের দিন সে আমার শাফা’আদ
লাভের অধিকারী হবে।’ (সহীহুল বুখারী
হা/৬১৪ পৃঃ ২৯৮) উল্লেখ্য যে, আযানের
জওয়াব দান শেষে প্রথমে দরুদ পড়বে অতঃপর
দু’আ পাঠ করবে। (সহীহ মুসলিম, মিশকাত
হা/৬৫৭) প্রিন্টেড
১১। প্রচলিত ভুলঃ ভারত, পাকিস্তান থেকে
আগত ব্রেলভীও রেজভী- বিদ‘আতীদের অনুকরণে
আমাদের দেশের এক শ্রেণীর তথাকথিক
ধার্মিক মুসলিমদেরকে আযানের ইক্বামতের
সময় ‘‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ’’
বাক্যটি শুনলেই দুই হাতের আঙ্গুলে চুমু খেয়ে তা
দিয়ে চোখ মুছেন। এই মর্মে একটি মিথ্যা ও
জাল হাদীসকে সত্য মনে করে তারা এই কাজ
করেন বলে মনে হয়। (তাহের ফাতনী,
তাযকিরাতুল মাউযূয়াত, ৩৬-৩৭ পৃঃ, মোল্লা
আলী ক্বারী হানাফী, আল-আসরার, ১১৩ পৃঃ,
হাদীসের নামে জালিয়াত, ৩৬৬ পৃঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)
-এর পদ্ধতিঃ রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া
সাল্লাম) বলেনঃ ‘‘যে ব্যক্তি খালেস অন্তরে
আযানের জবাব দেয়, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব
হয়ে যায়। (সহীহ্ মুসলিম, হা/৩৮৫) আযানের
জবাব হ’ল মুয়ায্যিন যা বলবে তাই বলতে হবে।
কেবল মাত্র ‘‘হাইয়্যা আলাস সাল্লাহ ও ফালাহ’’
এর জবাবে ‘‘লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা-
বিল্লাহ’’ বলতে হবে। (সহীহ্ মুসলিম, আবু
দাউদ, নাইনুল আউতার ২য় খন্ড-৫৩ পৃঃ)
১২। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের দেশে ফজরের
আযানে ‘‘আস-সালা-তু খঅয়রুম মিনান নাউম’’
এর জওয়াবে ‘‘সাদ্দাক্বতা ওয়া বারাকতা’’ বলার
কোন সহীহ্ ভিত্তি নেই। অনুরূপভাবে
ইক্বামতের সময় ‘‘ক্বাদক্বা-মাতিস সালাহ’’ এর
উত্তরে ‘‘আক্বা-মাহাল্লা-হুওয়া আদা-মাহা’’
বলার সম্পর্কে আবু দাউদে বর্ণিত হাদীসটি
যঈফ। (আলবানী, ইরাওয়াউল
গালীল-১/২৫৮-৫৯, মিশকাত-হা/ ৬৭০)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)
-এর পদ্ধতিঃ উপরিউল্লিখিতি আযানের
যবাবই সুন্নাত। (সহীহ্ মুসলিম, মিশকাত-হা/
৬৫৭ আযানের যওয়াব দান অধ্যায়)
১৩। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের দেশে সাহরীর
জন্য সুন্নাতি পদ্ধতি পরিহার করে বিভিন্ন
বিদ‘আতী ও ইয়াহুদী- নাসারাদের অনুকরণে
ঢোল, বাঁশি নিয়ে মধ্যরাত থেকে ডাকা ডাকি
শুরু হয়। এবং মাসজিদ থেকে লাউডস্পিকার ও
সাইরেন এর মাধ্যমে অব্যাহতভাবে ও কিছুক্ষণ
পর পর (গজল, নাআত, তাক্বরীর সেহরীর
অনুষ্ঠান ইত্যাদির মাধ্যমে) ডাকা হয় যা
সম্পূর্ণরূপে বিদ‘আদ এবং ইবাদরত ব্যক্তি ও
পিড়িত লোকজনকে কষ্ট দেওয়া হয় যা
একেবারেই পরিত্যক্ত।
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া
সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু
আলাইহিওয়া সাল্লাম) এর যুগে তাহাজ্জুদ ও
সাহারীর আযান বেলাল (রাঃ) দিতেন, এবং
ফজরের আযান অন্ধ সাহবী আবদুল্লাহ ইবনে
উম্মে মাকতুম (রাঃ) দিতেন। তাই সাহারী
প্রসঙ্গে রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া
সাল্লাম) বলেনঃ‘‘ বেলাল রাত্রি থাকতে আযান
দিলে তোমরা খানা পিনা কর, যতক্ষণ না ইবনে
উম্মে মাকতূম আযান দেয়। কেননা সে ফজর না
হওয়া পর্যন্ত আযান দেয়না। (সহীহ্ বুখারী,
সহীহ্ মুসলিম, মিশকাত-হা/ ৬৮০-৮১) তিঁনি
(সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) আরো
বলেনঃ ‘‘ বেলালের আযান যেন তোমাদেরকে
সাহারী খাওয়া থেকে বিরত না করে। কেননা সে
রাত্রি থাকতে আযান দেয় এজন্য যে, যেন
তোমাদের তাহাজ্জুদ গোজার মুসল্লীগণ
(সাহারীর জন্য) জেগে ওঠে। (কুতুবে সিত্তাহর
সকল গ্রন্থ, তিরমিযী ব্যতীত,
নায়ল-২/১১৭)
১৪। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের দেশে গ্রামে ও
শহরে কিছু কিছু মাসজিদে আযানের আগে ও পরে
মাইক ‘‘আস-সলাতু আসসালা-মু আলাইকা ইয়া
রসূলুল্লাহ’’ বলা হয়। এতদ্ব্যতীত ঘুমের থেকে
জাগার দু‘আ, সময় নিকটে, যিকির গজল, ওয়াজ
ও কুরআন তিলাওয়াত, ইস্পিকার খুলেই
আলহামদুলিল্লাহ ইত্যাদি শোনা যায়। অথচ
এগুলি সবই বিদ‘আত এবং আযান ব্যতীত সব
কিছুই পরিত্যাজ্য।
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)
-এর পদ্ধতিঃ আযানের পরে পুনরায় ‘‘আস-সলাত’’
‘‘আস-সলাত’’ বলে ডাকতে হযরত আবদুল্লাহ বিন
ওমর (রাঃ) প্রমূখ ‘বিদ‘আত’ বলেছেন।
(তিরমিযী, মিশকাত-হা/ ৬১৬ এর টিকা
আলবানী, সলাতুর রসূল ৪৫ পৃঃ)। তবে
ব্যক্তিগতভাবে যদি কেউ কাউকে সলাতের জন্য
ডাকেন জাগিয়ে দেন, তাতে তিনি অবশ্যই নেকী
পাবেন। (সহীহ্ বুখারী-১/৮৩)
১৫। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের সমাজে এক
শ্রেণীর মৌলবীগণ ফাতওয়া দিয়ে থাকে যদি
কেউ কোন কারণবশত ফজরের সুন্নাত পড়তে না
পারে তা‘হলে সূর্য উঠার পর পড়তে হবে।
(বেহেস্তী জেওর)
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম-
এর পদ্ধতিঃ জামা‘আতের জন্য ইক্বামত হলে
ফরয সলাত ব্যতীত অন্য কোন (সুন্নাত বা
নফল) সলাত হবেনা (তিরমিযী, সহীহ্
মুসলিম, মিশকাত-হা/১০৫৬) অতএব ফজরের
ইক্বামত হওয়ায় সুন্নাত না পড়ে আমা‘আতের
সাথে ফরয পড়ে নিতে হবে। অতঃপর ফরয শেষ
করে (সূর্য ওঠার আগেই) দু’রাক‘আত সুন্নাত পড়ে
নিবে। এটাই সুন্নাতি নিয়ম। (তিরমিযী, আবু
দাউদ, মিশকাত ৯৭ পৃঃ সহীহ্)
(যদি একান্ত কোন কারনে ফরজ সালাত শেষ
হবার পর সময় না পায় যেমন যদি কারো
টয়লেটে গিয়ে সময় পার হয়ে যাওয়া বা হঠাৎ
অসুস্থ হয়ে যাওয়া বা যা ওজর বলে গন্য
শরীয়তের দৃষ্টিতে এমন কারনে যদি কারো
সময় পার হয়ে যায় তাহলে সূর্য উঠার পর তা
আদায় করে নিবে। – বাংলা হাদিস)
১৬। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের সমাজে তাথাকথীত
কিছু সংখ্যক নামধারী আহলে হাদীসকে
‘বিসমিল্লাহ’কে সূরা ফাতিহার অংশ হওয়ার
পক্ষে সৌদি আরবের কুরআনের নাম্বারকে দলীল
হিসাবে উপস্থাপন করতে দেখা যায়। অনুরূপ
‘‘জেহেরী’’ অর্থাৎ স্বশব্দে পড়া সলাতে
‘বিসমিল্লাহ’ জোরে বলার দুর্বল হাদীস দ্বারা
দলীল দিতে দেখা যায়। অথচ এর স্বপক্ষে
নির্ভযোগ্য কোন ভিত্তি নেই।
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)
-এর পদ্ধতিঃ বিসমিল্লাহ সূরা ফাতিহার অংশ
হওয়ার স্বপক্ষে কোন সহীহ্ দলীল নেই (নায়ল
৩/৫২ পৃঃ সলাতূর রসূল-৪৯) আনাস বিন মালেক
(রাঃ) বলেনঃ ‘‘ আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু
আলাইহিওয়া সাল্লাম), আবু বক্বর, ওমর ও
ওসমান (রাঃ)-এর পিছনে সলাত আদায় করেছি।
কিন্তু তাঁদের কাউকে ‘‘বিসমিল্লাহ’’ জোরে
পড়তে শুনিনি।’’ (সহীহ্ মুসলিম, আহমাদ,
নায়ল ৩/৩৯, দারাকুতনী-হা/ ১১৮৮-৯৫) ইবনু
খুযায়মার রেওয়ায়াতে স্পষ্টভাবে এসেছে যে,
তারা চুপে চুপে পড়তেন। (সহীহ্ ইবুন খুযায়মাহ-
হা/৪৯৪-৭) দারাকুতনী বলেনঃ ‘‘বিসমিল্লাহ’’
জোরে বলার বিষয়ে কোন হাদীস ‘সহীহ্’
প্রমাণিত হয়নি। (নায়ল-৩/৪৭, ফিকহুয়
সুন্নাহ-১/১০২, স. রসূল-৫০)
১৭। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের সমাজে অনেক
মুসল্লিদের ‘তাকবীরে তাহরীমার’ সময় কানের
লতি স্পর্শ করতে দেখা যায়, এবং অনেক কথীত
মৌলবীদের সতর্কতা বসত কানে হাত লাগানোর
কথা বলতে শুনা যায়।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম-
এর পদ্ধতিঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু
আলাইহিওয়া সাল্লাম) হস্তদ্বয়কে কাঁধ বরাবর
উঠাতেন। (সহীহ্ বুখারী-২
হা/৬৯৯-৭০০-৭০১-৭০২-৭০৩, সহীহ্
মুসলিম-২ হা/ ৭৪৫-৭৪৬-৭৪৮) আবার কখনও
বা কানের লতি বরাবর উঠাতেন (আবু দাউদ, ইবনে
মাজাহ, নাসাঈ, সহীহ্ মুসলিম-২/১৪২
হা/৭৪৯-৭৫০

কিয়ামত যে কত নিকটে তা আপনি এই আর্টিকলে পড়লেই বুঝতে পারবেন

মহান আল্লাহ তায়ালা একদিন এই সুন্দর পৃথিবী ধ্বংস করে দেবেন। আল্লাহ তায়ালা পৃথিবী কখন ধ্বংস করবেন কিংবা কি কারণে ধ্বংস করবেন এ বিষয়ে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে অনেক ব্যাখ্যা রয়েছে। তবে আল্লাহ তায়ালা পৃথিবী ধ্বংসের আগে বা কিয়ামতের আগে অনেক আলামত সৃষ্টি করবেন। নিচে হাদিসের আলোকে কিয়ামতের পর্বের ১০টি আলামত তুলে ধরা হলো-

১. ধোঁয়া, যা পূর্ব হ’তে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত এক নাগাড়ে চল্লিশ দিন বিস্তৃত থাকবে।
২. দাজ্জাল বের হবে।
৩. চতুষ্পদ জন্তু বের হবে।
৪. পশ্চিমাকাশ হ’তে সূর্য উদিত হবে।
৫. ঈসা ইবনু মারিয়াম আকাশ হ’তে অবতরণ করবেন।
৬. ইয়া‘জূজ মা‘জূজ বের হবে।
৭. পূর্বাঞ্চলে ভূমিধস হবে।
৮. পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিধস হবে।
৯. আরব উপদ্বীপে ভূমিধস হবে।
১০. সবশেষে ইয়ামান হ’তে এমন এক আগুন বের হবে যা মানুষকে তাড়িয়ে একটি সমবেত হওয়ার স্থানে নিয়ে যাবে। অপর এক বর্ণনায় আছে, আদন (এডেন)-এর অভ্যন্তর হ’তে আগুন বের হবে। যা মানুষকে সমবেত হওয়ার স্থানের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে।
অপর এক বর্ণনায় দশম লক্ষণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, এমন বাতাস প্রবাহিত হবে, যে বাতাস কাফেরদের নিক্ষেপ করবে।(২) আর বিশেষ করে ক্বিয়ামত তখনই সংঘটিত হবে যখন যমীনে ‘আল্লাহ, আল্লাহ বলার কোন মানুষ থাকবে না’।(৩) যখন মানুষ আল্লাহ তা‘আলাকে স্মরণ করবে না, তাঁর দাসত্ব করবে না তখনই ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে।
কারণ আল্লাহর যিকির ও ইবাদত হচ্ছে দুনিয়ার স্থায়ীত্বের প্রমাণ। আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়ার মধ্য থেকে নেক আমলকারী ব্যক্তি ও সৎ, ঈমানদার ব্যক্তিদের উঠিয়ে নিবেন এবং খারাপ ও নিকৃষ্ট মানুষের উপর ক্বিয়ামত সংঘটিত করবেন। (মুসলিম, বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৬২৩০, মুসলিম মিশকাত হা/৫২৮২, মুসলিম মিশকাত হা/৬২৮৩)।