রাসুল (সাঃ)-এর এই ভবিষ্যতবাণী কি ১০০% মিলে যায় নি?

রাসুল (সাঃ) বলেছেন, সিগ্রই আমার উম্মতের কিছু লোক মূর্তিপূজা করবে এবং কিছু লোক মুরতিপুজারিদের সাথে মিশে যাবে। (সুনান ইবনে মাজাহ- ৩৯৫২) Continue reading “রাসুল (সাঃ)-এর এই ভবিষ্যতবাণী কি ১০০% মিলে যায় নি?”

জেনে নিন, কারা বা কোন শ্রেণিভুক্তরা রাসুল [সা.]-এর উম্মত নয়!

ইসলাম একটি আদর্শ ধর্ম। ভালো, কল্যাণকর এবং উপকারধর্মী কাজের প্রতি ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে মানুষকে উৎসাহ প্রদান করেছে। ইসলাম শিখিয়েছে ভালো পথে মানুষকে চলার কথা, শিখিয়েছে মানুষকে সম্মান করা কথা। ছোটদের প্রতি বড়দের এবং বড়দের প্রতি ছোটদের ধর্মীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। আল্লাহর রাসুল [সা.] বলেন, যে ছোটদের হে করে না আর বড়দের সম্মান করে না সে আমার উম্মত নয়। ছোটরা বড়দের সম্মান করবে, শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে আর বড়রা ছোটদের হে করবে, পথ দেখাবে মানুষের কাছে এই প্রত্যাশা সব ধর্মের। ইসলাম এ ব্যাপারটিকে আরো বেশি গুরুত্ব প্রদান করেছে। ইসলামের নবির এই সতর্কীকরণ একটি বাণীর দ্বারাই এ বিষয়টির প্রকৃত গুরুত্ব অনুধাবন করা সম্ভব। সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানবিক সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলা প্রাধান্য পাবে। বড়দেরই ছোটদের হে ও ভালোবাসার দিকে প্রথম এগিয়ে আসতে হবে। কারণ ছোটরা বড়দের কাছ থেকেই শিখবে, তাদের শিক্ষা ও দীক্ষার উৎকৃষ্ট মাধ্যম হলো বড়রা।

ছোটদের সঙ্গে বড়দের দূরত্ব কমিয়ে আনতে বেশি বেশি সালামের অভ্যাস করা যেতে পারে। সালাম খুব দ্রুত সম্প্রীতি অর্জনে সহযোগিতা করে। ইসলামের নবি হজরত মোহাম্মদ [সা.] ছোট বড় সবাইকে আগে সালাম দিতেন। ছোট বাচ্চাদেরও তিনি সালাম দিতেন এবং বলতেন, আমাদের কাছ থেকেই তো ওরা শিখবে। তুমি যদি একজন বাচ্চাকে আগে সালাম প্রদান করো তাহলে সেও তোমাকে একদিন আগে সালাম প্রদান করবে। সালামের প্রচলন কমে গেছে বলে এমন একটি অনাকাক্সিক্ষত পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেই মনে করেন বিজ্ঞ ইসলামী পণ্ডিতরা। মহানবি [সা.] বলেছেন, তোমরা ছোট-বড়, পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম কর। নিশ্চয়ই সালাম হৃদ্যতা বাড়িয়ে দেয়।

আমাদের অনেকের ধারণা সালাম বুঝি কেবল ছোটরাই বড়দের করবে। কিন্তু ইসলাম ছোটদের যেমনি বড়দের সালাম করার নির্দেশ দিয়েছে, সমভাবে বড়দেরও ছোটদের প্রতি সালাম বলার নির্দেশ দিয়েছে। যা উপরিউক্ত হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুল [সা.] স্বয়ং সালাম প্রদানে কখনো ছোট বড় ভেদ করতেন না। হজরত আবু বকর [রা.] বলেন, রাসুল [সা.] সবসময় আগে সালাম দিতেন। তিনি ছোট-বড় ভেদ করতেন না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ইসলামের আদেশ ও নিষেধ মেনে, ইসলামের আদর্শে আদর্শিত হয়ে ছোটদের হে করার তাওফিক দান করুক। আমিন।

রাসুল (সাঃ) এর সাথে একসঙ্গে জান্নাতে যেতে চান,তাহলে আমল করুন এই দোয়াটি !!

হজরত মুনজির [রা.] বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে এ দোয়াটি পড়বে আমি তার দায়িত্ব নিলাম, কেয়ামতের দিন আমি তাকে তার হাত ধরে জান্নাতে নিয়ে যাব। [মুজামে কাবির-৮৩৮ মুজামুস সাহাবাহ-১৬৯৬]

বাংলা উচ্চারণ
রদিতু বিল্লাহি রববাও ওয়া বিল ইসলামি দিনাও ওয়া বিমুহাম্মাদিন [সা.] নাবিইয়াও।

বাংলা অর্থ
আমি আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট আমার প্রতিপালক হিসেবে এবং ইসলামের প্রতি সন্তুষ্ট আমার দীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সন্তুষ্ট আমার নবী হিসেবে।

মূল- হজরত মাওলানা ইউনুস বিন উমর পালনপূরী
অনুবাদ- মাওলানা মিরাজ রহমান

বাংলাদেশ ক্রিকেটের মধ্যমনি তিনি। বিশ্বের যারা ক্রিকেট বোঝেন তাদের কাছে পরিচিত নাম জাতীয় ওয়ানডে দলের এই অধিনায়ক। ইতোমধ্যে শেষ করেছেন ক্যারিয়ারের ১৬ টি বছর।যার প্রতিটি ক্ষণ ছিল স্মরণীয়।

এই ১৬ বছর ক্যারিয়ারে মাশরাফির ওয়ানডেতে সেরা বোলিং ফিগার ৬/২৬। অন্যদিকে টেস্টে ৪/৬০। দীর্ঘ এই ক্যারিয়ার জুড়ে কাঁচি-ছুরির নিচে গেছেন অন্তত সতবার। তবুও তিনি লড়ছেন আপন মনে। এ যেন জীবন্ত কিংবদন্তী, জীবন্ত যোদ্ধা।

এই মাশরাফিকে যারা চেনেন তাদের নিশ্চত মনে আছে ২০১১ বিশ্বকাপের কথা। বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত ২০১১ বিশ্বকাপে মাশরাফিকে দলের বাইরে রেখেই স্কোয়াড় গড়েছিল নির্বাচক ও কোচ। টিম ম্যানেজম্যান্টের এমন সিদ্ধান্তে কেঁদেছিলেন জাতীয় দলের এই অধিনায়ক।

এ বিষয়ে দেশের প্রথম সারির একটি বেসরকারি টিভিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মাশরাফি বলেছেন, ‘এটা আসলে ঠিক হয়নি। আমি সেদিন কেঁদেছিলাম। ভাবতেও পারিনি আমার সাথে এমনটা করবে। কারণ আমি সারাক্ষণই দলের সঙ্গে ছিলাম। প্যাকটিসেও এসেছিলাম নিয়মিত। বুঝতেই পারিনি কোচ ও টিম ম্যানেজম্যান্ট আমার সাথে এমনটা করবে।’

অদ্ভুত ব্যাপার হলো, বোর্ড কিংবা কোচের কাছ থেকে আগে থেকে বিষয়টা শুনেননি মাশরাফি। তাই তো তার কষ্টের মাত্রাটা কয়েন গুণ বেশিই। আসরটিতে পুরো সময় জুড়ে দলের বাইরে ছিলেন তিনি। কিন্তু তার আশা ছিল কোন না কোন ম্যাচে ফিরবেন। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি।

সেসময় মাশরাফির বিরুদ্ধে কথা উঠেছিল তিনি ইনজুরিতে ভুগছেন, আনফিট। কিন্তু দল গঠনের আগেও মোহামেডানের হয়ে দুর্দান্ত খেলেছিলেন এবং ভালো বোলিং করেছিলেন। এ ব্যাপারে মাশরাফি বলেন, এই ঘটনা যাতে আর কোন প্লেয়ারের বেলায় না ঘটে। অন্তত তাকে খেলার আগে জানানো উচিত। শুধু আমি কেন, সে সময় এমন ঘটনা ঘটেছে অনেকের সঙ্গে।

জেনে নিন, কোন নামাজ শেষে রাসুল (সা.) ঘুরে বসতেন?

প্রশ্ন : রাসুল (সা.) কি সব ফরজ সালাতের পর মুসল্লিদের দিকে ঘুরে বসতেন? নাকি শুধু ফজর ও আসর সালাতের পর?

উত্তর : রাসুলুল্লাহ (সা.) সব সালাতের পরই মুসল্লিদের দিকে ঘুরে বসতেন। এ মর্মে রাসুল (সা.)-এর সহিহ বর্ণনা পাওয়া যায়, ‘ইজান ছরাফান হারফ’। যখন রাসুল (সা.) সালাতের সালাম ফেরাতেন, তারপর রাসুল (সা.) ফিরে বসতেন। অন্য হাদিসের মধ্যে এসেছে, রাসুল (সা.) যখন সালাম ফেরাতেন, তখন তিনি আমাদের দিকে মুখ করে বসতেন। এটি শুধুমাত্র ফজর অথবা আসর সালাতের পর নয়।

শুধুমাত্র ফজর এবং আসরের সালাতের পর ইমামের ঘুরে বসাটা আমাদের নিজস্ব ইজতেহাদ। রাসুল (সা.) প্রতিটি সালাতেই মূলত সালাম ফেরানোর পরে মুসল্লিদের দিক মুখ করে বসতেন। তারপরে আসকার যেগুলো আছে সেগুলো রাসুল (সা.) পড়েছেন। সাহাবিদের রেওয়াতের মাধ্যমে তা সাব্যস্ত হয়েছে।

আমরা অনেকে এ সুন্নাহ সম্পর্কে জানি না। ফলে দেখা যায় যে, ইমাম সাহেব যেভাবে সালাম ফিরিয়েছেন, সেভাবে বসে থাকলেন। এ ক্ষেত্রে রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ লঙ্ঘন করলেন। আবার দেখা যায় যে, তিনি মোনাজাত করতেছেন। আসলে তিনি রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ সম্পর্কে অজ্ঞ।

রাসুল (সা.) এখানে কিছু আসকার দিয়েছেন। এখানে রাসুল (সা.) এমন কোনো দোয়া করেননি বা দেননি যে ইমাম সাহেব সেখানে হাত তুলে দোয়া করতে হবে। এটা রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ দ্বারা সাব্যস্ত হয়নি। আবার দেখা গেল যে তিনি কিবলামুখী হয়ে দোয়া করতেছেন। এটা রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ দ্বারা সাব্যস্ত হয়নি। এর কারণ হচ্ছে মূলত আমরা সুন্নাহর অনুশীলন করি না, সুন্নাহ সম্পর্কে জানি না। বরঞ্চ আমরা নিজেরা নেজেদের ইচ্ছামতো দ্বীন তৈরি করে নিয়ে চেষ্টা করি আমাদের দ্বীন পালন করার জন্য। আমাদের বানানো দ্বীনের মধ্যে কোনো ফায়দা নেই। এর মধ্যে সওয়াব নেই। বরং বেদাত হওয়ার কারণে এটি আল্লাহতায়ালার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। এ এবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।

রাসুল (সা.)-এর একাধিক সহিহ হাদিস দ্বারা এটি সাব্যস্ত হয়েছে। এমনকি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসের মধ্যে এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) এতটুকু দেরি করতেন না যে, আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম … ওয়াল ইকরম, পড়া পর্যন্ত এতটুকু দেরি করতেন, এর বেশি দেরি করতেন না। এর পর তিনি মুসল্লিদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসতেন।’

জেনে নিন, যেভাবে ভেঙ্গে ফেলা হয় রাসুল সা. এর মেহরাব

রাসুলুল্লাহ সা. যে মেহরাবে নামাজে পড়াতেন আজ তা কেমন আছে? এ প্রশ্ন অনেকের মনে। আজ মদিনার মসজিদে নববির ইমামগণ যেখানে দাঁড়িয়ে নামাজের ইমামতি করেন, রাসুল সা.ও কি সেখানে দাঁড়াতেন? উত্তর হলো না। এখন ইমামগণ যেখানে দাঁড়িয়ে নামাজের ইমামতি করেন সেখানে রাসুল সা. দাঁড়াতেন না। সেখানে দাঁড়িয়ে নামাজের ইমামতি করতেন ইসলামের তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান গনি রা.। তাহলে রাসুল সা. যেখানে দাঁড়িয়ে নামাজের ইমামতি করতেন তার কি হলো?

সৌদি আরবের বর্তমান রাজ পরিবার আলে সৌদ ক্ষমতাগ্রহণের পূর্ব পযন্ত রাসুল সা. এর স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে তার মেহরাবটি অক্ষত রাখা হয়। যদিও মসজিদ সম্প্রসারণের কারণে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর রা. এর যুগ থেকে সে মেহরাবে মসজিদে নববির ইমামগণ সেখানে দাঁড়াতেন না। সালাফিপন্থী বর্তমান সৌদি রাজ পরিবার ক্ষমতা গ্রহণের পর ইসলামের অনেক নিদর্শনের মতো রাসুল সা. এর স্মৃতি বিজড়িত মেহরাবটি গুড়িয়ে দেয়া হয়।

রাসুল সা. এর ইন্তেকালের পর থেকে আলে সৌদ ক্ষমতায় আসার পূর্ব পযন্ত মসজিদে নববির ৬টি মেহরাব ছিলো। যা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন খলিফা ও শাসকগণ করেছিলেন। সৌদি রাজপরিবার ৬টি মেহরাব ভেঙ্গে একটি মেহরাব করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং হজরত উসমান রা. এর মেহরাবটি রেখে দেয়। মসজিদ সম্প্রসারণের সময় তিনি তা নির্মাণ করেছিলেন। তখন থেকে আজ পযন্ত এ মেহরাবে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ানো হচ্ছে।

মজার বিষয় হলো, রাসুল সা. এর যুগে মেহরাবের ভেতর এমন জায়গা রাখা হতো না। হজরত ওমর ইবনুল আবদুল আজিজ রহ. ৮৮ হিজরির পর এ পদ্ধতি অবলম্বন করেন।

আলে সৌদি মেহরাব ভেঙ্গে ফেললে মেহরাবের জায়গাগুলো সংরক্ষণ করেছে। তার কোনটি কোন শাসক নির্মাণ করেছিলেন তাও সে ইতিহাসও লিখে রেখেছে।

রাসুল সা. এর মেহরাব বা রিয়াজুল জান্নাহ-এর ডান পাশেই রয়েছে নবম হিজরি শতকে নির্মিত মেহরাবে সোলায়মান।

ঐতিহাসিকদের মত বর্তমানে মসজিদে নববির যেস্থানে দাঁড়িয়ে আজান দেয়া হয় তার কাছাকাছি জায়গায় ছিলো রাসুল সা. এর মেহরাব।

জেনে নিন | রাসুল [সা.] কীভাবে এবং কেমন আংটি ব্যবহার করতেন

রাসুল [সা.] কীভাবে এবং কেমন আংটি ব্যবহার করতেন

শুরুর দিকে হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম কোনো আংটি ব্যবহার করতেন না। হুদাইবিয়ার সন্ধির পরে যখন তিনি আরব উপদ্বীপগুলোর বাইরে ইসলামী দাওয়াতের মিশন শুরু করলেন এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানের নামে পত্র পাঠানো ইচ্ছা করলেন তখন তাকে জানানো হলো রোমকরা সীলমোহর ছাড়া কোনো পত্র গ্রহণ করে না। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম তখন রুপা দিয়ে একটি আংটি তৈরি করলেন এবং সেই আংটিতে ‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’অংকিত করান। যেন তা মোহরের কাজেও ব্যবহার হতে পারে।(বুখারি)

কোনো কোনো বর্ণনা থেকে অনুমিত হয় প্রথমে উল্লেখিত উদ্দেশ্যে স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করেন। তার দেখাদেখি সাহাবাদের অনেকেই স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করা শুরু করেন। এই প্রেক্ষিতে হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম স্বীয় আংটি ছুঁড়ে ফেলেন এবং এই মর্মে ঘোষণা দেন- এখন থেকে আমি আর স্বর্ণে আংটি পরবো না। তার পরে তিনি রুপার আংটি তৈরি করান। রুপার তৈরি আংটিটি তিনি জীবনের শেষ দিন পযর্ন্ত ব্যবহার করেছেন। তার এই আংটি মুবারক খোলাফায়ে রাশেদার কাছে সংরক্ষিত ছিলো। অবশেষে হজরত উসমান (রা.)-এর শাসনামলে আংটিটি মদিনার আরিস নামক কূপে পড়ে যায়। তার পরে আর তা খুঁজে পাওয়া যায়নি। (বুখারি)

রাসুল [সা.] কীভাবে এবং কেমন আংটি ব্যবহার করতেন
রাসুল [সা.] কীভাবে এবং কেমন আংটি ব্যবহার করতেন

এই বর্ণনার আলোকে বিজ্ঞ আলেমগণ বলেছেন, ইসলামের সূচনাকালে পুরুষের জন্যও স্বর্ণে আংটি ব্যবহার করা জায়েজ ছিলো। পরে তা নিষিদ্ধ হয়েছে। কারণ হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াল্লাম পুরুষের জন্য স্বর্ণের ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দেন। হজরত রাসুল [সা.] -এর আংটি মুবারকের বৃত্তটি ছিলো রূপার তৈরি। আর তার উপরের অংশটি ছিলো রূপার আর তার নির্মণশৈলি ছিলো হাবশী (আবু দাউদ)।

হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডান বাম উভয় হাতেই আংটিটি পরেছেন বলে প্রমাণিত আছে। তিনি মধ্যমা এবং শাহাদাত আংগুলে আংটি পরতে সরাসরি নিষেধ করেছেন (মুসলিম)। খুব সম্ভব হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে একাধিক আংটি ছিলো। এর কোনটি ছিলো রূপার, আবার কোনটি ছিলো লোহার যার উপর রূপার পাত মোড়ানো ছিলো।

রাসুল সাঃ বলেন | যে ব্যক্তি এই সূরা প্রতি রাতে পাঠ করবেন তাঁকে কখনই দরিদ্রতা স্পর্শ করবে না

যে ব্যক্তি এই সূরা প্রতি রাতে পাঠ করবেন তাঁকে কখনই দরিদ্রতা স্পর্শ করবে না

অন্তিম রোগশয্যায় আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)— এর শিক্ষাপ্রদ কথোপকথনঃ ইবনে—কাসীর ইবনে আসাকীরের বরাত দিয়ে এই ঘটনা বর্ণনা করেন যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) যখন অন্তিম রোগশয্যায় শায়িত ছিলেন, তখন আমীরুল মু’মিনীন হযরত ওসমান (রাঃ) তাঁকে দেখতে যান৷ তখন তাঁদের মধ্যে শিক্ষাপ্রদ যে কথোপকথন হয় তা নিম্নরুপঃ-

যে ব্যক্তি এই সূরা প্রতি রাতে পাঠ করবেন তাঁকে কখনই দরিদ্রতা স্পর্শ করবে না
যে ব্যক্তি এই সূরা প্রতি রাতে পাঠ করবেন তাঁকে কখনই দরিদ্রতা স্পর্শ করবে না

→হযরত ওসমানঃ ما تشتكي আপনার অসুখটা কি?
→হযরত ইবনে মাসউদঃ ذنوبي আমার পাপসমূহই আমার অসুখ৷

→ওসমান গণীঃ ما تشتهي আপনার বাসনা কি?
→ইবনে মাসউদঃ رحمة ربي আমার পালনকর্তার রহমত কামনা করি৷

→ওসমান গণীঃ আমি আপনার জন্যে কোন চিকিৎসক ডাকব কি?
→ইবনে মাসউদঃ الطبيب امرضني চিকিৎসকই আমাকে রোগাক্রান্ত করেছেন৷

→ওসমান গনীঃ আমি আপনার জন্যে সরকারী বায়তুল মাল থেকে কোন উপটৌকন পাঠিয়ে দেব কি?
→ইবনে মাসউদঃ لاحاجة لي فيها এর কোন প্রয়োজন নেই৷

→ওসমান গণীঃ উপটৌকন গ্রহণ করুন৷ তা আপনার পর আপনার কন্যাদের উপকারে আসবে৷

→ইবনে মাসউদঃ আপনি চিন্তা করছেন যে, আমার কন্যারা দারিদ্র ও উপবাসে পতিত হবে৷ কিন্তু আমি এরুপ চিন্তা করি না৷ কারণ, আমি কন্যাদেরকে জোর নির্দেশ দিয়ে রেখেছি যে, তারা যেন প্রতিরাত্রে সূরা ওয়াক্কিয়া পাঠ করে৷

আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ)— কে বলতে শুনেছি,
من قرأ سورةالواقعة كل ليلة لم تصبه فاقة ابدا”
অর্থাৎ, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সূরা ওয়াক্কিয়া পাঠ করবে, সে কখনও উপবাস করবে না৷

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ [রা.] বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন রাতে সুরা ওয়াক্বিয়াহ তেলাওয়াত করবে তাকে কখনো দরিদ্রতা স্পর্শ করবে না। হজরত ইবনে মাসউদ [রা.] তাঁর মেয়েদেরকে প্রত্যেক রাতে এ সুরা তেলাওয়াত করার আদেশ করতেন। [বাইহাকি:শুআবুল ঈমান-২৪৯৮]

সুরা আর রাহমান, সুরা হাদিদ ও সুরা ওয়াকিয়া’র তেলাওয়াতকারীকে কেয়ামতের দিন জান্নাতুল ফিরদাউসের অধিবাসী হিসেবে ডাকা হবে। অন্য এক হাদিসে আছে, সুরা ওয়াকিয়াহ হলো ধনাঢ্যতার সুরা, সুতরাং তোমরা নিজেরা তা পড় এবং তোমাদের সন্তানদেরকেও এ সুরার শিক্ষা দাও। অন্য এক বর্ণনায় আছে: তোমাদের নারীদেরকে এ সুরার শিক্ষা দাও। আম্মাজান হজরত আয়েশা [রা.] কে এ সুরা তেলাওয়াত করার জন্য আদেশ করা হয়েছিল।

তাছাড়া অভাবের সময় এ সুরার আমলের কথাটা তো হাদিস দ্বারাই প্রমানিত। এমনকি বর্ণিত আছে যে হজরত ইবনে মাসউদ [রা.] কে যখন তার সন্তানদের জন্য একটি দিনারও রেখে না যাওয়ার কারণে তিরস্কার করা হলো তখন তিনি উত্তরে বলেছিলেন, তাদের জন্য আমি সুরা ওয়াকিয়াহ রেখে গেলাম। [ফয়জুল কাদির-৪/৪১]

সুবহানাল্লাহ! মহান রাব্বুল ইজ্জতের পবিত্র কালামের বরকত কত পাওয়ারফুল আপনি-আমি তা অনুধাবন করতে পারি কি?
তাই আসুন সকলে সূরা ওয়াক্কিয়া পাঠের এই অতি মূল্যবান আমলটি প্রতিদিন আদায় করার চেষ্টা করি৷ আল্লাহ আমাদের প্রত্যেককে আমল করার তাওফিক দিন৷ আমীন

জেনে নিন | হিজড়া সন্তান জন্ম হওয়ার কারন (ভিডিও সহ)

জেনে নিন | হিজড়া সন্তান জন্ম হওয়ার কারন (ভিডিও সহ)

আমাদের সমাজে বরাবরই হিজড়াদের নিচু দৃষ্টিতে দেখা হয়। যদিও হিজড়া সম্প্রদায় বাংলাদেশে এখন তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, তবুও তাদের অসহায়ত্বের শেষ নেই। তাদের মানুষ বলে গণ্যই করা হয় না। কিন্তু আপনি কি জানেন কেন হিজড়া সন্তানের জন্ম? হিজড়া সন্তানের জন্ম সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার পাশাপাশি রয়েছে ইসলামিক ব্যাখ্যাও।

ইসলামিক ব্যাখ্যাঃ

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ হিজড়ারা জীনদের সন্তান। কোন এক বাক্তি আব্বাস (রাঃ) কে প্রশ্ন করেছিলেন এটা কেমন করে হতে পারে। জবাবে তিনি বলেছিলেন “আল্লাহ্ ও রাসুল (সাঃ) নিষেধ করেছেন যে মানুষ যেন তার স্ত্রীর মাসিক স্রাব চলাকালে যৌন সংগম না করে”, সুতরাং কোন মহিলার সঙ্গে তার ঋতুস্রাব হলে শয়তান তার আগে থাকে এবং সেই শয়তান দ্বারা ঐ মহিলা গর্ভবতী হয় ও হিজড়া সন্তান প্রসব করে। মানুষ ও জীন এর যৌথ মিলনজাত সন্তানকে ইসলাম এ বলা হয় খুন্নাস। (সূরা বানী ইসরাইল- আর রাহমান -৫৪, ইবনে আবি হাতিম, হাকিম)

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাঃ
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় XX প্যাটার্ন ক্রোমোজমে কন্যা শিশু আর XY প্যাটার্ন ক্রোমোজমে সৃষ্ট হয় ছেলে শিশু। অর্থাৎ, X এর সঙ্গে X এর মিলনে মেয়ে এবং X এর সঙ্গে Y এর মিলনে ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। এবং নারীরা XX ও ছেলেরা XY ক্রোমোজম ধারণ করে। ভ্রুনের পূর্ণতার স্তরগুলোতে ক্রোমোজোম প্যাটার্নের প্রভাবে ছেলে শিশুর মধ্যে অন্ডকোষ আর কন্যা শিশুর মধ্য ডিম্ব কোষ জন্ম নেয়। অন্ডকোষ থেকে নিসৃত হয় পুরুষ হরমোন এন্ড্রোজেন এবং ডিম্ব কোষ থেকে নিসৃত হয় এস্ট্রোজেন। এক্ষেত্রে ভ্রুনের বিকাশকালে নিষিক্তকরণ ও বিভাজনের ফলে বেশকিছু অস্বাভাবিক প্যাটার্নের সৃষ্টি হয় যেমন XXY অথবা XYY। এর ফলে বিভিন্ন গঠনের হিজড়া শিশুর জন্ম হয়। একটা ব্যাপার হল, একটি হিজড়া শিশুকে পরিণত বয়সে যাওয়ার আগে যদি যথাযথ মেডিকেল ট্রিটমেন্ট করা হয় তাহলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাকে সুস্থ করা সম্ভব। কিন্তু যখন বোঝা যায় সে সাধারণ আর দশজনের থেকে আলাদা তখন আসলে অনেক দেরি হয়ে যায়। একইভাবে কোন পুরুষ বা নারীও হিজড়া হতে পারেন।

ভিডিওঃ- 

জেনে নিন | ইসলামে কেন দাবা খেলা হারাম

ইসলামে কেন দাবা খেলা হারাম
খেলাধূলা শরীর চর্চার জন্য অবশ্য ভাল কাজে দেয়। অবশ্য বর্তমান ফুটবল, ক্রিকেট কিংবা টেনিসের এই যুগে অনেকেই পুরনো খেলা দাবার নামই ভুলে গেছে। বর্তমান সময়ে ফুটবল, ক্রিকেট, কিংবা টেনিসের সাথে অনেকটাই জনপ্রিয় খেলা দাবা। তবে এই খেলাটিকে নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন, ইসলামে দাবা খেলা কেন হারাম? যদিও অন্যান্য খেলার মতই এটি একটি বুদ্ধির খেলা। এই খেলা খেললে বুদ্ধির চর্চা করা হয়। তারপরও এই খেলাটি কেন ইসলামে নিষিদ্ধ।

যেকোনো কাজ যা মানুষকে আল্লাহকে স্মরণ করা থেকে বিরত রাখে তাই হারাম। আবু হানিফা (র) , ইমাম মালিক (র) সহ আরও অনেক ইমাম এক্ষেত্রে একটা কুরআনের আয়াত প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন, “হে মুমিনগণ! নিশ্চয় মদ,জুয়া,মূর্তি ইত্যাদি এবং লটারির তীর এসব গর্হিত বিষয় শয়তানি কাজ ছাড়া এর কিছুই নয় কাজেই এইসব বিষয় থেকে দূরে থাক,যাতে তোমাদের কল্যাণ হয়।শয়তান তো এটাই চায় যে মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের পরস্পরের মধ্যে হিংসা ও শত্রুতা এবং আল্লাহর স্মরণ এবং সালাত হতে তোমাদেরকে বিরত রাখে,সুতরাং এখনও কি তোমরা ফিরে আসবে?”(মায়েদাহ ৫:৯০-৯১) আমরা সবাই হয়ত জানি যে ইসলাম সকল প্রকার মূর্তি হারাম করেছে। দাবার প্রায় সব গুটিই কোনো না কোনো মূর্তির আদলে তৈরি। আর এজন্য উপরের হাদিসটি এটাই প্রমান করে যে দাবা খেলা হারাম।

ইসলামে দাবা খেলা হারাম
ইসলামে দাবা খেলা হারাম
আল কুরতুবী (র) বলেছেন যে, এই আয়াত এটাই নির্দেশ করে যে পাশা বা দাবা খেলা হারাম সেখানে জুয়ার কোন অস্তিত্ব থাকুক আর নাই বা থাকুক কারণ আল্লাহ্ সুবহানাত’লা মদকে হারাম করেছেন এবং এর পেছনে কারণ ও বলে দিয়েছেন, আর কারণটা হচ্ছে শয়তান মানুষের মাঝে নেশা ও বাজির মাধ্যমে শত্রুতা ও বিদ্বেষ তৈরি এবং মানুষকে আল্লাহকে স্মরণ এবং নামাজ থেকে বিরত রাখে । তাই এমন কোন খেলা যা তুচ্ছ জিনিসকে বড় করে তুলে এবং যারা ইহা খেলে তাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ জাগরিত করে সাথে সাথে আল্লাহ্র স্মরণ ও নামাজ থেকে বিরত রাখে তাও মদ খাওয়ার মতই হারাম।
সুলাইমান ইবনে বুরাইদাহ তার পিতা বুরাইদাহ (রাঃ) হইতে বর্ণনা করেছেন।রাসুল (সাঃ) বলেছেন,“যে ব্যাক্তি পাশা খেলল সে যেন শূয়রের গোশত ও রক্তে হাত রাঙাল”।(মুসলিমঃ২২৬০)

আবু মুসা আল আশারি (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসুল (সাঃ) বলেন,“যে পাশা খেলল সে যেন আল্লাহ্ এবং আমাকে অমান্য করল”।(আবু-দাউদঃ৪১২৯,নাসিরুদ্দিন আলবানীর মতে সহীহ)
একদিন দু’জন আনছার সাহাবী তীর নিক্ষেপ প্রতিযোগিতা করছিলেন। হঠাৎ একজন বসে পড়লেন। তখন অপরজন বিস্মিত হয়ে বললেন, কি ব্যাপার। কষ্ট হয়ে গেল নাকি? জবাবে তিনি বললেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, প্রত্যেক বস্তু যা আল্লাহর স্মরণকে ভুলিয়ে দেয়, সেটাই অনর্থক (لَهْو) … (নাসাঈ, ছহীহাহ হা/৩১৫)। এতে বুঝা যায় যে, বৈধ খেলাও যদি আল্লাহর স্মরণকে ভুলিয়ে দেয়, তবে সেটাও জায়েয হবে না। ইমাম বুখারী (রহঃ) অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন, ‘প্রত্যেক খেলা-ধুলা (لَهْو) বাতিল, যদি তা আল্লাহর আনুগত্য থেকে উদাসীন করে দেয়’ (ফাৎহুলবারী ‘অনুমতি গ্রহণ’ অধ্যায় ৭৯, অনুচ্ছেদ ৫২; ১১/৯৪ পৃঃ)।