গল্প থেকে শিখুন

একবার একটা লঞ্চ দূর্ঘটনায় পড়লো। লঞ্চের এক দম্পত্তি একটা লাইফবোট পেল। কিন্তু স্বামীটা বুঝে ফেললো সেখানে একজনের বেশি উঠতে পারবে না। লোকটা তার স্ত্রীকে Continue reading “গল্প থেকে শিখুন”

এক সিংহ ও এক সাপ

এক ব্যক্তি জঙ্গলে হাটছিলেন। হঠাৎ
দেখলেন এক সিংহ তার পিছু নিয়েছে।
তিনি প্রাণভয়ে দৌড়াতে লাগলেন। কিছুদূর
গিয়ে একটি পানিহীন কুয়া দেখতে পেলেন।
তিনি চোখ বন্ধ করে দিলেন ঝাঁপ।

পড়তে পড়তে তিনি একটি ঝুলন্ত
দড়ি দেখে তা খপ করে ধরে ফেললেন এবং ঐ
অবস্থায় ঝুলে রইলেন।
উপরে চেয়ে দেখলেন কুয়ার
মুখে সিংহটি তাকে খাওয়ার
অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে।
নিচে চেয়ে দেখলেন বিশাল এক
সাপ তার নিচে নামার অপেক্ষায়
চেয়ে আছে। বিপদের উপর আরো বিপদ
হিসেবে দেখতে পেলেন একটি সাদা আর
একটি কালো ইঁদুর তার
দড়িটি কামড়ে ছিড়ে ফেলতে চাইছে।
এমন হিমশিম অবস্থায় কি করবেন যখন
তিনি বুঝতে পার ছিলেন না, তখন হঠাৎ তার
সামনে কুয়ার
সাথে লাগোয়া গাছে একটা মৌচাক
দেখতে পেলেন।

তিনি কি মনে করে সেই মৌচাকের
মধুতে আঙ্গুল ডুবিয়ে তা চেটে দেখলেন। সেই
মধুর মিষ্টতা এতই বেশি ছিল যে তিনি কিছু
মুহূর্তের জন্য উপরের গর্জনরত সিংহ, নিচের
হাঁ করে থাকা সাপ, আর
দড়ি কাঁটা ইঁদুরদেরকথা ভূলে গেলেন।
ফলে তার বিপদ
অবিশ্যম্ভাবী হয়ে দাঁড়ালো।
মুরালঃ এই সিংহটি হচ্ছে আমাদের মৃত্যু,
যে সর্বক্ষণ আমাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।
সেই সাপটি হচ্ছে কবর, যা আমাদের
অপেক্ষায় আছে। দড়িটি হচ্ছে আমাদের
জীবন,
যাকে আশ্রয় করেই বেঁচে থাকা। সাদা ইঁদুর
হল দিন, আর কালো ইঁদুর হল রাত,
যারা প্রতিনিয়ত ধীরে ধীরে আমাদের
জীবনের আয়ু কমিয়ে দিয়ে আমাদের মৃত্যুর
দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আর সেই মৌচাক হল
দুনিয়া। যার সামান্য মিষ্টতা পরখ
করে দেখতে গেলেও আমাদের এই
চতুর্মুখি ভয়ানক বিপদের
কথা ভূলে যাওয়াটা বাধ্য।

কুচকুচে কালো সাহাবী হযরত জাহেয রা.

কুচকুচে কালো সাহাবী হযরত জাহেয রা.। গ্রাম থেকে শাক-সবজি সংগ্রহ করে শহরে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। খুব ভালোবাসতেন রাসূল সা. তাঁকে। বলতেন “জাহেয আমাদের গ্রাম আমরা জাহেযের শহর“।
একদিন তিনি উদোম শরীরে বাজারে শাক-সবজি বিক্রি করছিলেন। রাসূল সা. পিছন থেকে এসে তাঁর বোগলের নিচ দিয়ে হাত ঢুকিয়ে ঘাড়কে এমন ভাবে ধরলেন যেনো সে নড়তে না পারে। ধরার সাথে সাথে তিনি স্বজোরে বলতে লাগলেন, এই ! কে ধরেছো আমাকে? ছাড়ো ! ছাড়ো বলছি ! এদিকে রাসূল সা. ও ধরে রেখে বলতে লাগলেন, এই গোলামকে কে ক্রয় করবে……? সুলভ মূল্যে বেঁচে দিবো। রাসূল সা.-এর আওয়াজ শুনে জাহেয রা. চুপ হয়ে গেলেন। রাসূলের গায়ে ছিলো চাঁদর জড়ানো। হাত উঁচু করে জাহেযকে ধরায় রাসূল সা. এর সিনা মোবারক অনাবৃত হয়ে পড়েছিলো। সুযোগ বুঝে জাহেয রা. নিজের নগ্ন পিঠকে রাসূলের সিনার সাথে মিলিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন।

কিছুক্ষণ পর রাসূল সা. তাঁকে ছেড়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, জাহেয ! তুমি চুপ হয়ে গেলে যে? আবার আমার সিনার সাথে তোমার পিঠ ঠেকিয়ে দিলে! জাহেয রা. বললেন, ওগো প্রিয় রাসূল সা. আমিতো নিঃস্ব । নিতান্তই হতদরিদ্র। কোনো পুঁজি নেই।
হাশরের মাঠে যদি আল্লাহ আমাকে জিজ্ঞেস করেন, জাহেয! আমার কাছে কি এনেছো তুমি ? জবাবে বলবো, প্রভূ ! উপস্থাপন করার মতো কিছুই নেই। তবে, আমার পিঠখানা পরীক্ষা করে দেখুন, তাতে তোমার হাবীবের পরশ আছে। একথা শুনে
রাসূল সা. তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।

আহ্ ! তিনিতো অন্তত রাসূল সা. এর পরশ পেয়েছেন। আমাদের তো তাও নেই। কোন সম্বল নেই। কোন পুঁজি নেই। রিক্ত হাত। শুন্য থলে। আমরা কী পেশ করবো তাঁর কাছে। আমরা তো এমন হতভাগ্য যে, আমাদের চোখ তাঁর হাবীবকে
দেখেনি। এমন দূর্ভাগা আমাদের নাক তাঁর ঘ্রাণ নিতে পারেনি। এমন বঞ্চিত তাঁর সাথে এক পথে চলতে পারিনি। আমরাতো এমন রিক্ত যে , আমাদের হাত তাঁকে ছুঁতে পারেনি। তবে আমাদের কী হবে? কী আছে আমাদের?
হ্যাঁ আছে। আমাদের অন্তরে মদীনা অলার প্রেম আছে। হৃদস্পন্দনে তাঁর অনুরাগ আছে। প্রতি রক্তকনিকায় তাঁর ভালোবাসা আছে। মহব্বত আছে। এই প্রেম আর অনুরাগকেই আমরা প্রভুর সামনে পেশ করবো সেদিন। প্রভু অন্তর্যামি। তিনি দেখেন।
বুঝেন। উপলব্ধি করেন।
হে প্রভু ! তাঁর ভালোবাসাকে পুঁজি করেই জীবন কাটানোর তৌফিক দিন। তাঁর পদাঙ্ক অনুস্মরণ করে আমরণ চলার তৌফিক দিন। মদীনা অলার প্রেমানলে জ্বলে জ্বলে নিজকে নিঃশ্বেষ করার তৌফিক দিন। আমীন।।

সাহবি হযরত যায়েদ ইবনে আরকাম রা. এর একজন কৃতদাস ছিল

প্রখ্যাত সাহবি হযরত যায়েদ ইবনে আরকাম রা. এর একজন কৃতদাস ছিল। সে প্রায়ই হযরত আবু বকর রা. এর সাথে খেয়ানত করত। একবার রাতে সেই কৃতদাস তাঁর কাছে কিছু খাবার উপস্থিত হলো। তিনি সেই খাবার থেকে কিছু খাবার গ্রহন করলেন।

তখন কৃতদাস তাকে জিজ্ঞাসা করল, আপনার আজ কী হলো আপনি তো আমাকে প্রত্যেক রাতেই খাবার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন, কিন্তু আজ রাতে আমাকে এ ব্যাপারে কিছুই জিজ্ঞাসা করলেন না? হযরত আবু বকর রা. বললেন, প্রচন্ড ক্ষুধাই আমাকে এমনটি করতে বাধ্য করেছে। আচ্ছা তুমি এ খাবার কোত্থেকে এনেছো? কৃতদাস বলল, জাহিলি যুগে আমি একটি গোত্রেরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম। তখন আমি তাদের জনৈক রূগীকে ঝাড়-ফুঁক করেছিলাম। তার আমাকে এর বিনিময় দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। অতঃপর যখন সেই প্রতিশ্রুতির দিনটি আসলো তখন আমি তাদের কাছে গিয়ে দেখি তারা এক আনন্দানুষ্ঠানে উদযাপন করছে। তারা আমাকে দেখে সেই প্রতিশ্রুত পাওনা বুঝিয়ে দিল। হযরত আবু বকর রা. বলেলন, তুমিতো আমাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত পৌছে দিয়েছো। অতঃপর তিনি গলার ভেতর হাত ঢুকিয়ে বমি করার চেষ্টা করতে লাগলেন।

কিন্তু মুখ থেকে কিছুই বের হচ্ছিল না। তাকে বলা হলো এসব খাবার পানি ছাড়া এভাবে বের হবে না। তিনি পানি চাইলেন, তারপর পানি পান করছিলেন আর বমি করছিলেন। অতঃপর তাকে বলা হলো আপনার ওপর আল্লাহ রহমত করুন! এই সামান্য একটু খাবারের কানণে আপনি এতো কষ্ট করলেন। হযরত আবু বকর রা. বললেন যদি এ খাবার বের করতে গিয়ে আমার প্রাণ বের করার প্রয়োজন হতো, তবুও আমি তা করতাম। আমি রাসূল সা. কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেন: প্রত্যেক ঐ শরীর যা হারাম দ্বারা গঠিত হয়েছে, আগুনই তার জন্য যোগ্য। তাই আমি ভয় পেয়েছি যদি ঐ খাবার দ্বারা আমার শরীরের কিছু গঠিত হয়।
হায়াতুস সাহাবা-3:241, মাকতাবাতুত তাওফিকিয়্যাহ, মিসর।

একদেশে এক রাজা ছিল , ছিল তার সিংহাসন

অনেক বছর আগে এমন একটা দেশ ছিল যে দেশের জনগণ প্রত্যেক বছরের জন্যে তাদের একজন রাজা নির্বাচন করে নিত। যে ব্যাক্তিটিই রাজা হবে তাকে তার রাজত্বকালের এক বছর পরই একটা দ্বীপে চলে যাওয়ার চুক্তিতে সম্মত হতে হয়।একজন রাজার যখনই রাজত্বকাল শেষ হয় তখনই তার দ্বীপে যাওয়ার ও সেখানে বাস করার সময় এসে যায়।জনগণ তাদের বিদায়ী রাজাকে মূল্যবান সাজে সজ্জিত করে হাতির পিঠে চড়িয়ে সবার কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার জন্য তৈরী করে।এটি প্রত্যেক বিদায়ী রাজার জন্যেই বেদনাজনক মুহূর্ত। উৎসব শেষে জনগণ রাজাকে নৌকায় করে দ্বীপে নিয়ে যায় এবং সেখানে রেখে চলে আসে।এমনিভাবে একদিন জনগণ ফিরে আসার সময় দেখল দূরের ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি জাহাজ থেকে এক যুবক কাঠের টুকরাতে ভেসে আসছে।তারা যুবককে নৌকায় তুলে দেশে নিয়ে গেল।

যেহেতু নতুন রাজা দরকার তারা এক বছরের জন্য যুবকটিকে রাজা হওয়ার আবেদন করলে যুবকটি প্রথমে প্রত্যাখ্যান করে, কিন্তু পরে তাতে সম্মত হয়।জনগন তাকে দেশের নিয়মকানুন বুঝিয়ে বলে এমনকি এক বছরের জন্য রাজা নির্বাচন ও দ্বীপে নির্বাসনের কথাও।রাজা হওয়ার তিনদিন পরেইযুবকটি পূর্ববর্তী রাজাদের যে দ্বীপে নির্বাসন দেয়া হয়েছিল, তা পরিদর্শনে যান। দ্বীপটি জঙ্গলে ভরপুর ছিল এবং নানা রকমের জন্তু জানোয়ারদের ডাক শোনা যাচ্ছিল। রাজা যাচাই করার জন্যে ভেতরে গেলে অতীত রাজাদের মৃতদেহ দেখতে পেলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, খুব দ্রূতই তাকে এখানে আসতে হবে ও অনুরূপ পরিণতি বরণ করতে হবে।

রাজা তার রাজ্যে ফিরে আসার পরএকদল শক্ত সামর্থ্য ব্যাক্তিকে বাছাই করে ঐ দ্বীপে পাঠিয়ে দিলেন। রাজা তাদেরকে ঐ স্বীপের জঙ্গল পরিস্কার,মারাত্মক ও বিপদজনক জন্তুগূলোকে তাড়ানো এবং অতিরিক্ত গাছগুলো কেটে ফেলার জন্যে বললেন।রাজা প্রত্যেক মাসেই কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে দ্বীপে যেতেন।দুই মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ দ্বীপটিকে পরিস্কার করে ফেলা হয় এবং বিপদজনক প্রানীগুলোকে তাড়িয়ে হয়।তারপর রাজার নির্দেশে দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে বাগান করা হয় এবন দ্বীপে নানা উপকারী প্রাণী যেমন মোরগ, হাস, গরু,ছাগল প্রভৃতি নিয়ে যাওয়া হয়।তৃতীয় মাসে রাজা শ্রমিকদের আদেশ করলেন দ্বীপে একটি বড় প্রাসাদ ও জাহাজের জন্যে বন্দর নির্মাণ করার জন্যে।মাস শেষে দ্বীপটি একটি সুন্দর জায়গায় পরিণত হল।যুবক রাজা একজন রাজা হিসেবে খুব সাধারণ জীবনযাপন করতেন ও সাধারণ জামাকাপড় পরিধান করতেন।

তিনি তার আয়ের প্রায় সবটুকুই দ্বীপে জমা করতে লাগলেন।নয় মাস অতিক্রান্ত হলে রাজাতার মন্ত্রীদের ডেকে বললেন যে, ‘আমি জানি এক বছর অতিক্রান্ত হলে আমাকে দ্বীপে পাঠিয়ে দেয়া হবে, কিন্তু আমি এখনই সেখানে যেতে চাই।মন্ত্রীগণ তার কথায় সমর্থন দিল না এবং বলল তাকে অবশ্যই বাকি তিন মাস সময় কাটিয়ে এক বছর পূর্ণ করতে হবে।বছর পূর্ণ হলে জনগণ রাজাকে মূল্যবান জামা কাপড় পরিধান করাল এবং হাতির পিঠে উঠিয়ে বিদায় দেয়ার জন্যে প্রস্তুত করল।

রাজা এসময় বেশ হাসিখুশি ছিলেন। জনগণ প্রশ্ন করল, সকল রাজাই এ বিদায়ের সময় কান্না করেছে, কিন্তু আপনি হাসছেন কেন? বিদায়ী যুবক রাজা বললেন, তোমারা কি জাননা জ্ঞানী লোকেরা কি বলে? তারা বলে যে
যখন তুমি এসেছিলে ভবে কেঁদেছিলে তুমি হেসেছে সবে
এমন জীবন তুমি করিবে যাপন মরিলে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভুবন আমি তেমনিভাবে জীবন যাপন করেছি।যেখানে আগের সব রাজার রাজ্য নিয়ে মশগুল ছিল,আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করেছি এবং তার জন্যে পরিকল্পনা তৈরী করেছি।আমি বিপদসংকুল দ্বীপকে একটি সুন্দর জায়গায় রূপান্তর করেছি যাতে আমি সেখানে আরাম আয়েশে বসবাস করতে পারি।
আমরা আমাদের জীবনকে কীভাবে পরিচালনা করা দরকার তা এখান থেকেই শিক্ষা নিতে পারি।
আল্লাহ সুবহানাওয়াতা’লা বলেন

ভালোবাসা ফিরে তাকাই

বাসর ঘরে ঢুকে পাশে বসতেই
বৌ আমাকে বলল….
—-ঘড়িতে তাকিঁয়ে দেখুন তো কয়টা বাজে??
বাসর রাতে বৌয়ের এমন সাহসী প্রশ্নে কিছুটা বিচলিত
হলাম।তখন ঘড়িতে তাকিঁয়ে দেখি রাত ১২.৩০মিঃ।আমি
বৌয়ের পাশে বসে আস্তে করে বললাম…..


—-শোনো আমার এখন বিয়ে করার কোন ইচ্ছেই ছিলো
না।আমার বাবা-মায়ের পছন্দেই তোমাকে বিয়ে করেছি।
তবে আমার কারো সাথে কোন সম্পর্ক ও নেই।কিন্তু আমি
বিয়ের জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত ছিলাম না।তাই আমি
এখন চাইলেও এত সহজে তোমাকে বউ হিসেবে মানতে বা
বৌয়ের অধিকার দিতে পারবোনা।
কথা গুলো বলে শেষ করা মাত্র ই


নতুন বউ আমার পাঞ্জাবির কলারটা চেপে ধরে বলল…..
—-আমাকে কি খেলার পুতুল মনে হয় নাকি??পছন্দ হয়নি,
বিয়ে করতে চাননি এইটা আগে বলতে পারলেন না??
নিজের মায়ের মন রক্ষা করতে আমার সব আশা-স্বপ্ন কে
কেন বলিদান দিতে হবে?
বিয়ে করার ইচ্ছে নেই,এইটা আমাকে আগে বললেই
পারতেন।তবেই আমি আমার পক্ষ থেকে বিয়ে ভেঙে
দিতাম।মায়ের প্রতি ভন্ড ভক্তি শ্রদ্ধা দেখাতে গিয়ে
আমার জীবনটা কেন এইভাবে নষ্ট করে দিলেন হুম?
আমি তো আপনার কোন ক্ষতি করিনি।এখন আমি
যেভাবে বলব সেভাবেই সব হবে। ঠিক আছে????
বলেই কলার টা ছেড়ে দিলো।পরে আবার বলল….
—-আচ্ছা যা হবার তা তো হয়েই গেছে।
দিতে হবে না আপনাকে বউয়ের অধিকার।
যান নিচে গিয়ে ঘুমান।একদম খাটে ঘুমাতে পারবেন না।
বলেই আমার বালিশ পা ফ্লোরে ছুড়ে মারলো।আমি ও
বাধ্য ছেলের মতো ফ্লোরেই শুয়ে পড়লাম।আর মনে মনে
ভাবতে লাগলাম,কেমন গুন্ডি মেয়ে রে বাবা।জীবনেও
এমন মেয়ে দেখিনী।
মনে তো হচ্ছে জীবন পুরাই তেজপাতা করে ছাড়বে।

.
ফ্লোরে ঘুমই আসছেনা।কখনই ফ্লোরে ঘুমাই নি।কিন্তু
আজকে নিজের অমতে বিয়ে করার কারনেই ফ্লোরে
ঘুমাতে হচ্ছে।
এর মধ্যে মশার আন্দোলন। ইসসসসসস,,,,,,সহ্য হচ্ছেনা।চোখ
বন্ধ শুয়ে করে আছি।কখন জানি ঘুমটা লেগে গেছে
বুঝতেই পারিনি।হঠাৎই সজাগ হয়ে দেখি আমার শরীরে
কম্বল আর পাশে ও মশার কয়েল লাগানো।মনটাতে একটু
স্বস্তি পেলাম,চোর হলেও মানুষ ভালো।
মনে মায়া-দয়া আছে।
.
পরের দিন ঘুম থেকে উঠেই দেখি টেবিলে চা রাখা।চা
খেয়ে,ফ্রেশ হয়ে রুমে বসে ফোন টিপছিলাম তখন ই
তানিয়া (আমার বৌ)এসে বললো…..
—-এইযে সেই কতক্ষন যাবত খাবার নিয়ে সবাই অপেক্ষা করছে
আর আপনি ঘরে বসে আছেন কেন?এখনি নিচে চলুন আগে……??বলেই আমার কানের কাছে এসে আস্তে করে
বললো…
—–নাকি খাবার টা রুমে নিয়ে আসবো?
আমি তো হার্ট এ্যাটাক হতে হতে বেচেঁ গেছি।আমি তো
ভাবছিলাম,বউ বুঝি এইবার ও কলার ধরেই আমাকে খাবার
টেবিলে নিবে।কিন্তু না,বউয়ের স্বর পাল্টে গেছে,তবে
কি বউ আমার প্রেমে পড়ে গেল নাকি??কথাটা ভাবতে
ভাবতেই বউয়ের দিকে তাকালাম।হা হয়ে তাকিঁয়ে
আছি,বউ তো আমার হেব্বি সুন্দরী।রাতে তো ভাবছিলাম
হিটলারনি।এখন দেখি না মায়াময়ী।এইবার যে আমি
বউয়ের প্রেমে পড়ে গেলাম।নিজেই নিজেকে বললাম…
—-পিন্টু মনে হয় তুই তোর হিটলারনি বউয়ের প্রেমে পড়ে
গেছিস।

.
হঠাৎ একটা বিকট শব্দে বাস্তবে ফিরলাম।
সামনে তাকিঁয়ে বউ আমার ফ্লোরে পরে চোখ বন্ধ করে
আছে।বুঝতে পারলাম,পাগলীটা খুবই ব্যথা পাইছে।
দৌড়ে গিয়ে টেনে তুলে বসাতে গেলাম আর অমনি
আস্তে করে বলল…..
—-কেমন স্বামী গো আপনি??
আমি তো একটু ভ্যাবাচ্যকা খেয়ে গেলাম।
বললাম…
—-আমি আবার কি করলাম।
বৌ বলল….
—-আমি মাটিতে পরে আছি কই কোলে করে নিয়ে
বিছানায় শোয়াবেন,তা না করে আমার হাত ধরে
টানছেন।
সাথে সাথেই আমি কোলে করে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে
দিলাম।
আমায় শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল….
—-ইচ্ছে করে এইভাবে ই ধরে রাখি সারাটা জীবন।কিন্তু
আপনি তো আমাকে পছন্দই করেন না।
কথা শেষ করেই তানিয়া দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়লো।
আমারও বুকের ভিতরটা দুমড়ে মুচড়ে গেল।আমারো খুব বলতে ইচ্ছা হচ্ছিল *
কপালে একটা চুমো একেঁ দিয়ে বলি …
—-পাগলী আমি যে তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি
গো।
কিন্তু পারলাম না।কোথায় জানি একটা বাধাঁ
পাচ্ছিলাম।এই সুযোগে তানিয়া আমাকে ঠেলে
বিছানায় ফেলে দিয়ে দৌড়ে পালালো।আমি শুধু ওর
চলে যাওয়ার পানে তাকিঁয়ে রইলাম।পরক্ষনেই খেয়াল
হলো,ও তো ব্যথা পাইছে।যার কারনে কোলে করে
উঠাতে হলো।বুঝতে আর বাকি রইলো না,এইবার ও
আমাকে বোকা বানানো হয়েছে।
.
পাগলিটার সাথে খুনসুটি প্রেম করতে করতেই কেটে গেল
২টা বছর।এখন কেউ কাউকে ছাড়া কিছু ভাবতেই পারিনা।
আমার পাগলীটা এখন গর্ভবতী।
তাই খুব যত্ন নেই তার।আজকেই বাচ্চা হবার তারিখ
দিয়েছে ডাক্তার।
আমি অফিসে ছিলাম,হঠাৎই বাবার ফোন পেয়ে ছুটে
গেলাম হসপিটাল।গিয়েই শুনলাম আমার ঘর আলো করে
এসেছে এক ছোট্ট রাজকন্যা।
কিন্তু….
আমার পাগলিটার কোন সাড়া শব্দ পাচ্ছিনা কেন??ভয়ে
আৎকে উঠলাম।অনেকের মুখেই শুনেছি,বাচ্চা জন্ম দিতে
গিয়ে মারা গেছে অনেক মা।সে ভয়েই বাচ্চা নিতে
চাইনি।কিন্তু ওর নাকি বাচ্চা লাগবেই।
ওর ইচ্ছে পূরন করতে গিয়েই কি তবে……???
আর ভাবতেই পারছিনা।
আর একটা মিনিট ও নষ্ট না করে,দৌড়ে গেলাম কেবিনে।
গিয়ে দেখি বাচ্চা টা হাত পা নাড়িয়ে খেলছে।
কিন্তু তানিয়া চোখ বন্ধ করে রাখছে।
ওর নিঃশ্বাস আছে কি নাই তা দেখার মতো ধৈর্য আমার
ছিলোনা।তাই তানিয়াকে জড়িয়ে চিৎকার দিয়ে
ফেললাম।
সাথে সাথেই কানের কাছে একটু ব্যথা অনুভব করলাম।
পরে দেখি তানিয়া আমার আস্তে করে কানে কামড়
দিয়ে বলল….
—–কি ভাবছিলা তোমাকে একা রেখে চলে যাবো??
আরে না গো,আমি চলে গেলে,তোমাকে জ্বালাবে
কে??


আমিও বুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখলাম।আর
বললাম,বড্ড ভালোবাসি রে পাগলি তোকে।ছাড়বোনা
কখনই

ভালোবাসা হারমনে ভালোবাসার কাছে

ভালোবাসা হারমনে ভালোবাসার কাছে
আজ আমার স্বামীর গায়ে হলুদ, ওর গায়ে প্রথম হলুদ আমিই ছুঁইয়ে দিলাম। ক’টা নারী এত সৌভাগ্য নিয়ে পৃথিবীতে আসে! ছলছল দুটি নয়ন নিয়ে নয়না তার স্বামীর কপালে হলুদ ছুইয়ে দিলো। রবির চোখ দুটোও শুষ্ক নয়, প্রচুর বৃষ্টির পরে মাটি যেমন ভিজে থাকে ঠিক তেমন হয়ে আছে রবির চোখ দুটো।

রবিকে বাসর ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে আমি আমার বেড রুমে এলাম। কি বিশাল শূন্য লাগছে ঘরটাকে! এত আসবাব পত্রের মাঝেও ঘরটা শূন্য ফাঁকা। এই আট বছরের মধ্যে আজকেই প্রথম আমি রবিকে ছাড়া ঘুমাবো। ঘুম কি আসবে আজ? বা কোনো কালেও কি ঘুম আসবে এই দু চোখে?

শূন্য বিছানায় হাত রেখে ছুইয়ে দেখছি এই খানে মানুষটা শুয়ে থাকতো। আট বছরের কত খুনসুটি কত স্মৃতি কত ভালোবাসা সব এই ঘরটার সাথে জড়িয়ে আছে। মনে পড়ছে আমার বাসর রাতের কথা। কত লাজুক লাজুক সেই অনুভূতি! চোখ তুলে রবির দিকে লজ্জায় তাকাতে পারছিলাম না আর রবিও হুট করে সেদিন লাজুক হয়ে গেছিল। দু’জনই আসামীর মত মাথা নিচু করে বসে ছিলাম। সেই দিনটার স্মৃতি আজ চোখ ভরা জল নিয়ে ভাবছি।
মনে পড়ছে আমাদের টু ইন বেবীর গল্প, মনে পড়ছে বেবীদের নাম রাখা নিয়ে আমাদের সেই টক মিষ্টি ঝগড়ার কথা।
সব আজ স্মৃতি হয়ে গেছে শুধুই স্মৃতি।
হে আল্লাহ এত কিছু সইবার ক্ষমতা কেনো দিচ্ছো? সব সহ্য ক্ষমতা তুলে নাও। কি লাভ এত কিছু সহ্য করে এই বেঁচে থেকে? একজন অক্ষম নারী তার স্বামীকে অন্য একটা নারীর সাথে বাসর ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে কতটা নির্লজ্জের মত বেঁচে আছে! এই লজ্জা এই অপমান নিয়ে আমি এখনো নির্লজ্জের মত শ্বাস নিচ্ছি।

আমি বন্ধ্যা আমার এই অক্ষমতা ঢাকবার মত পৃথিবীতে এমন কোনো গোপন স্থান আছে কি?
নেই, কোত্থাও নেই। আট বছরের সংসার জীবনে আমাদের কোনো সন্তান হয়নী। একটা বেবী এডপট করতে চেয়ে ছিলাম কিন্তু শ্বাশুড়ী মা সরাসরিই রবি কে বললেন-
–কার না কার পাপের ফল অনাথ আশ্রমে রাইখা আসে, বৈধ সন্তান হইলে ঠিকই কোনো না কোনো আত্মীয় ঐ বাচ্চার দায়িত্ব নিতো। আর ঐ সব পাপ আমি আমার সংসারে রাখতে পারবো না। বউ বাচ্চা দিতে পারতেছে না এইটা তার অক্ষমতা তাই তাকে বল তোর দ্বিতীয় বিয়েতে সে যেনো সম্মতি দেয়।

আমি আর রবি দু জনই আম্মার রুমে দাড়িয়ে দাড়িয়ে শুনছি। কথা গুলো শুনছি আর আঁচল দিয়ে চোখ মুছতেছি। রবি সংসারের কোনো ব্যাপারে কথা বলে না কিন্তু একটা এডপট বেবী আমিই ওর কাছে আবদার করে ছিলাম। কিন্তু এই বাড়িতে শ্বাশুড়ী মায়ের বিনা হুকুমে কিছুই হয় না। তাই একটা এডপট বেবী চাই সেই দরখাস্ত নিজের মায়ের কাছে দিতে গিয়েই এত কথা শুনতে হলো রবিকে। অনেকক্ষণ চুপ থাকার পর রবি বললো-
–আম্মা দত্তক বাচ্চা বাসায় উঠতে দেবেন না ঠিক আছে তাই বলে সন্তানের জন্য দ্বিতীয় বিয়ে করবো এটা কেমন কথা?
–এইটা কেমন কথা বলতেছিস তুই রবি? তুই আমার একটাই ছেলে আর সে যদি নিঃসন্তান হয় তাহলে বংশ তো এখানেই শেষ! আট বছর অপেক্ষা করেছি আর নয় এবার আমি নাতীর মুখ দেখতে চাই!
–আম্মা একটু বোঝার চেষ্টা করেন, এই যুগে মানুষ দ্বিতীয় বিয়েটাকে ভালো চোখে দেখে না। আর নয়নার কি হবে?
–মানুষের ভালো দেখাদেখি দিয়ে তো আর আমার চলবে না! আর নয়না তোর দ্বিতীয় বিয়ের পর যদি এই বাড়িতে থাকতে চায় তবে থাকবে আর না চাইলে বাপের বাড়ী চলে যাবে।
–এটা কেমন কথা আম্মা? এটা তার সাথে অন্যায় করা হবে!
–তোকে ন্যায় অন্যায় নিয়ে ভাবতে হবে না। তুই যদি বিয়ে না করিস তবে এই মুহূর্ত থেকেই আমি আহার ত্যাগ করলাম।

দু’দিন হলো আম্মা পানি পর্যন্তও খায়নী। বয়স্ক মানুষ সুগার আছে,অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ডাক্তার আনা হয়ে ছিল কিন্তু ডাক্তারকে উনি তার রুমে ঢুকতে দেননী। সারা বাড়ি জুড়ে অশান্তি বিরাজ করছে। রবির মুখের দিকে তাকাতে পারছি না, কি যে বলবো বুঝেই উঠতে পারছি না। দু দিন ধরে আমরা দু টো মানুষ দুই ধরনের লজ্জায় কেউ কারো মুখের দিকে তাকাতে পারছি না। আমার লজ্জা আমি বন্ধ্যা আর রবির লজ্জা তার মা তাকে দ্বিতীয় বিয়ে দেবার জন্য এত কঠর একটা পণ করেছে সেটা। আমি কিভাবে সব কিছু ম্যানেজ করবো ভেবে পাচ্ছি না আর রবিকেই বা আমার কি বলা উচিত! তবুও কিছু বলাটা জরুরী কারণ নিজেকে অপরাধী রূপে আর দেখতে পারছি না। একটা সন্তান জন্ম দিতে পারছি না, বংশ রক্ষা করতে পারছি না এই কষ্ট কি একাই ওদের? আমার কি কষ্ট হয় না? আমার হৃদয় কি ক্ষতবিক্ষত হয় না?
মা হতে না পারার অক্ষমতার যন্ত্রণা বুকে চেপে রেখে বললাম-
–তুমি দ্বিতীয় বিয়ে করো রবি

কথাটা বলতে মুখ না আটকালেও বুকটা যে আটকালো সেটা শ্বাস নিতে গিয়েই টের পেলাম। রবির আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো-
–তোমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে নয়না?
–একবার ভেবে দেখো রবি আম্মা অসুস্থ হয়ে পড়েছে এভাবে আর দু দিন চললে উনি আর বাঁচবেন না। আর আমি কারো মৃত্যুর দায় ভার নিতে পারবো না।
–কিন্তু আমি কি ভাবে আরেকটা বিয়ে করতে পারি বলো?
–পারবে, অনেকেই পারে।
–অনেকের কথা জানি না, আমি জানি তোমাকে ছাড়া অন্য নারীর কথা আমি ভাবতেও পারি না।
–আমি এসব শুনতে চাই না রবি।
–একটা অশান্তি নিভাতে গিয়ে আমি চিরকালের অশান্তি বাড়িতে আনতে পারি না।
–কি করবে তাহলে? যাও তোমার মাকে সুস্থ করো।
–আমি কি করবো নয়না তুমি বলে দাও?
কথাটা বলেই রবি হাউ মাউ করে কাঁদতে শুরু করলো। কি শান্তনা দেবো তাকে? আর নিজেকেই বা কি বলে বোঝাবো? তবুও আমার কিচ্ছু করার নেই। আমার সামনে এই একটাই অপশন হলো আমি নিরুপায়।

আমি শ্বাশুড়ী মায়ের রুমে গিয়ে বললাম-
–আম্মা রবি বিয়ে করতে রাজী হয়েছে আর আমিও রাজী। আপনি প্লীজ এখন খেয়ে নিন!
–বাচ্চা ভোলাতে এসেছো? রবি এসে আমার মাথায় হাত রেখে কসম করলে তবেই আমি খাবো এখন তুমি যাও আর অকারণে আমার রুমে আসবা না।

আমি হতাশ হয়ে ফিরে এলাম। ছলছল জল নিয়ে রবির দিকে তাকিয়ে বললাম-
–প্লীজ একবার রাজী হয়ে যাও!

রবি অসহায়ের মত আমার দিকে চেয়ে আছে। শ্বাশুড়ী মায়ের শারীরিক অবস্থা সত্যিই খুব খারাপ কারণ উনি খাবারসহ ঔষধ খাওয়াও ছেড়ে দিয়েছেন। আজ যদি উনার নিজের মেয়ে থাকতো আমার পজিশনে তবে কি উনি এমনটা করতে পারতেন?
আমি রবির পায়ে পড়ে হাউ মাউ করে কাঁদতে শুরু করলাম। রবি আমাকে টেনে দাড় করিয়ে বললো-
–এই পাগলী নিজের কথা ভেবেছো একটি বার?

যে নারী সন্তান জন্মদানে ক্ষমতা রাখে না তার বোধ হয় নিজের কথা ভাবা উচিত নয়। আমি নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম-
–ভেবেছি তো! আমি জানি তুমি সারাটা জীবন আমাকে ভালোবাসবে। আর তোমার সন্তানকে বুকে নিয়েই আমি মাতৃসুখ অনুভব করবো।

আমার কথা শুনে রবি হাউ মাউ করে কাঁদতে শুরু করলো। আমি জানি রবি তুমি সারা জীবন আমাকে ভালোবাসতে পারবে না। আমি এই পরিবারের ছাই ফেলা ভাঙা কুলো হয়ে যাবো।
অবশেষে রবির খালাত বোন ভূমিকে বিয়ে করতে রাজী হলো রবি।
এই সব নানান ভাবনায় আমার রাত শেষ হলো।

ভোর হয়ে গেছে ছাদে গেলাম প্রকৃতির সাথে আলিঙ্গন করতে। কিন্তু আকাশ বাতাস প্রকৃতি সব কিছুকেই ধূসর মনে হলো তাই চলে এলাম। নাস্তা রেডী করলাম, এতটা বছর ধরে এই সংসারের সব কাজ আমিই করেছি, অথচ আজ নিজেকে বাড়ির বুঁয়া মনে হচ্ছে। কি আজব মানুষের অনুভূতি! স্বামী থাকলে কাজ করাকে সংসার করা মনে হয় আর স্বামী বিহীন কাজ গুলো দাসী বানিয়ে দেয়। অথচ এই সংসারটার জন্যই আমি উচ্চ শিক্ষিত হওয়া শর্তেও কোনো চাকরী করিনী আর সেই সংসারেই আমি আজ গ্রেজুয়েট দাসী।
আমি টেবিলে খাবার রেডী করতেই নতুন বউ রুম থেকে বাহিরে এলো। ভূমির চোখে মুখে লাজুক লাজুক খুশি ছড়িয়ে আছে, সেটাই তো স্বাভাবিক কারণ বাসর রাত একজন নারীর জীবনে শত জনমের শ্রেষ্ঠ্য রাত। একটা রাত একই বাড়িতে দুটো নারীর দুই ভাবে পোহালো।
আমি রবির জন্য অপেক্ষা করছি সে কখন বাহিরে আসবে! সারাটা রাত ওকে দেখিনী। সারা রাত কি অনেক দীর্ঘ সময়? আমার কাছে তো এক যুগ মনে হয়েছে।

রবি আধা ঘন্টা পরে বেরিয়ে এলো, আমার চোখের সাথে সে চোখ মেলাতে পারছে না কিন্তু আমি অপলক ওর দিকে চেয়ে আছি। আমি ওকে খাবার বেড়ে দিতে যেতেই ভূমি আমার হাত থেকে খাবারের বাটি নিয়ে বললো-
–আমি দিচ্ছি

আমি ওখান থেকে সরে আসতেই রবি বললো-
–নয়না খাবার বেড়ে দাও

রবির কথা শুনে আমার চোখে জল চলে এলো, মরার চোখে যে কি হয়েছে কারণে অকারণেই শ্রাবণ বয়! আমি মাথা নিচু করে রবিকে খাবার বেড়ে দিচ্ছি হঠাৎ টপটপ করে কয়েক ফোটা অশ্রু রবির হাতে পড়তেই রবি চমকে উঠে আমার দিকে তাকালো। আমি চোখ মুছে রুমে চলে গেলাম।
কি করে আমার রাত দিন কাটবে রবি? কি ভাবে আমি বেঁচে থাকবো তোমাকে ছাড়া? এত বড় জীবনটা কবে ফুরাবে?
রবি নাস্তা না করেই আমার রুমে এলো। আমি নিজেকে সামলে নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই বললাম-
–উঠে এলে কেনো? যাও নাস্তা করে নাও
রবি কোনো উত্তর না দিয়ে চুপচাপ দাড়িয়ে থাকলো। আমার মনে পড়ে গেলো আমার বিয়ের পরের দিনের কথা। রবি নাস্তার প্লেট রুমে এনে বলে ছিল-
–এই যে দেখো নাস্তার প্লেট, কি ভেবেছো তোমার জন্য এনেছি? উ হু এখন তুমি আমাকে খাইয়ে দেবে।

নতুন বিয়ে হয়েছে, কি লজ্জার কথা! তবুও সেদিন রবি জোর করে আমাকে খাইয়ে দিতে বাধ্য করে ছিল। এছাড়াও এই আট বছরে অসংখ্যবার আমি তাকে খাইয়ে দিয়েছি। আমাদের মধ্যে সব ছিল, ভালোবাসা, মায়া, শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, শুধু একটা সন্তানই ছিল না। একটা শূন্যতা এত গুলো পূর্ণতাকে ভুল প্রমান করে দিয়েছে। এত এত স্মৃতি আমি কোথায় লুকিয়ে রাখবো আল্লাহ্? কোথায় বা নিজেকেই লুকাবো?
–রাতে একটুও যে ঘুমাওনী সেটা তোমার চোখ বলে দিচ্ছে নয়না
–তুমিও তো ঘুমাওনী তাই না?

আমার কথা শুনে রবি অপরাধীর মত মাথা নিচু করে দাড়িয়ে রইল। এই কথাটা বোধ আমার বলা উচিত হয়নী! নিজে তো কষ্ট পাচ্ছি আর সারাটা জীবন এই কষ্ট বয়ে বেড়াবো তাই বলে মানুষটাকেও কষ্ট দেবো? নাহ এটা অনাচার হবে। মানুষটার চোখ দুটোও জলে ভরে গেছে। আমি নিজেকে স্বাভাবিক করে বললাম-
–আজকেও কি তোমাকে আমার খাইয়ে দিতে হবে?

আমার কথা শুনে রবি আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউ মাউ করে কাঁদতে শুরু করলো। আমিও আর নিজেকে সামলে নিতে পারলাম না। রবির বুকে মুখ গুঁজে আর্তনাদ করে কাঁদলাম। জানি এর পর হয়ত আর কখনোই ওর বুকে মুখ গুঁজে কাঁদার ভাগ্য আমার আর হবে না। স্বামীর ভাগ দিইনী আমি, আমার স্বামী পুরোটাই অন্যের হয়ে গেছে।

বিয়ের এক মাস পর রবির নতুন বউ কন্সিভ করলো। সারা বাড়িতে খুশির হাওয়া বইছে। রবির মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝলাম যে, আট বছর ধরে এই খুশিটাকে সে আড়ালে লুকিয়ে রেখে ছিল। আমি অভাগীনি বলেই এতটা বছর এই খুশিটাকে বাহিরে আনতে পারিনী। হয়ত সে অনেক কষ্টও চেপে রেখে ছিল যা আমাকে কখনো টের পেতেও দেয়নী।

আজকাল সবাই নতুন বউ ভূমিকে নিয়ে খুব ব্যস্ত। আমার চোখের সামনে আমার ভালোবাসার মানুষটিও একটু একটু করে বদলে গেলো।
রবিও নিজের গর্ভবতী বউয়ের যত্নের ত্রুটি রাখে না। টাইমলী খাবার খাওয়ানো ঔষধ খাওয়ানো সব কিছুর সে খেয়াল রাখে। আমার কথা ভাবার মত কেউ নেই এ বাড়িতে।আমি খেলাম কি খেলাম না তার খোঁজ কেউ রাখে না। বরং ভূমির যত্নের ত্রুটি হলে রবির কাছে আমাকে জবাব দিহি করতে হয়। শ্বাশুড়ীমা ভূমির ঘরে আমাকে যেতে দেয় না, যদি আমি ভূমির গর্ভের বেবীর কোনো ক্ষতি করে ফেলি সেই ভেবে। যার ভেতরের মা হবার এত আকাঙ্খা সে কি করে পারবে কোনো অনাগত শিশুর ক্ষতি করতে? সতীনরা বোধ হয় এমন নিম্ন শ্রেণীর কাজ করতেই পারে!

আমি এ বাড়ির পার্মানেন্ট বুঁয়া হয়ে গেলাম। দিন রাত পরিবারের সবার খেয়াল রাখাটা বোধ হয় বুঁয়ার কাজ নয়। কিন্তু স্বামী বিহীন এই সংসারে আমার অবস্থান কোথায় সেটা কি কেউ বলতে পারবে?
আমার বাবা বহুবার এসেছে আমাকে নিতে কিন্তু আমি যাইনী। কিছু না হোক রোজ তো রুবিকে দেখতে পাই এই টুকুই বা কম কিসে? কিন্তু এ বাড়ির কেউ এই টুকুও আমাকে দিতে চায় না।
রবির ছেলে অবিকল রবির মত দেখতে হয়েছে। আমার স্বামীর সন্তান অথচ ঐ সন্তানের মা আমি নই এমন কি ঐ বাচ্চাটাকে আমার কোলে নেয়ার কোনো অধিকারও নেই, আমি বন্ধ্যা তাই কল্যাণ অকল্যাণ বলেও তো কিছু কথা থাকে।
আজকাল সেই কল্যাণ অকল্যাণ রবিও মানে। সেটা দেখে অবশ্য আমি অবাক হইনা কারণ নিজের সন্তানের প্রতি এমন দূর্বলতা প্রতিটা বাবারই থাকে।
রোজ নিজের এই অবহেলিত রূপ দেখে দেখেও আমি মাটি কাঁমড়ে এ বাড়িতেই পড়ে আছি। কিন্তু বাচ্চাটার অসুখ করলেই ভূমি বলে আমার মত বাঁজা নারীর দৃষ্টি লেগে নাকি বাচ্চা অসুস্থ। আল্লাহ আর কত লাঞ্ছনা আমার কপালে লিখে রেখেছো? নিজের স্বামীকে ভালোবাসার দায়ে এর চেয়ে যদি আমার ফাঁসি হতো তবুও হয়ত সম্মান নিয়ে মরতে পারতাম।
আর এই ধরনের কথা রবিও বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। এক দিন রবি আমার রুমে এসে বললো-
–নয়না আমি একটা বাসা দেখেছি তুমি গোছ গাছ করে নাও, এখন থেকে তুমি ওখানেই থাকবে
–কেনো রবি?
–রোজ অফিস থেকে ফিরে একই রকমের অশান্তি আর ভাল্লাগে না
–আচ্ছা ঠিক আছে

কথাটা বলেই রবি চলে যাচ্ছিল, আজকাল রবি আমার রুমে আসাই ভুলে গেছে। আমি ওকে পেছন থেকে ডেকে বললাম-
–সেই নতুন বাসাতে মাঝে মাঝে তুমি যাবে তো?

সে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো-
–যাবো, তোমার খরচাদি দিতে যেতে তো হবেই

এক বছর ধরে আমি এই নতুন বাসাতে একা থাকি না, একটা পথশিশুকে নিজের কাছে রেখেছি। ওর নাম দিয়েছি আঁখি। পাঁচ বছরের আঁখি রাস্তায় ভিক্ষা করতো। এক দিন ওর সাথে আমার দেখা হয় রাস্তায়, ভিক্ষা চাই ছিল। সে জানেই না তার বাবা মা কে। এমন কি ওর নিজের নামটাও ছিল না। কত বছর ধরে সে পথে পথে ভিক্ষা করতো সেটাও সে জানতো না।
আমি একটা বেসরকারী স্কুলের শিক্ষকতা করছি, আঁখিকেও স্কুলে ভর্তি করেছি। আঁখি আমাকে মা বলে ডাকে। রবি মাসে এক দু বার আসে কিন্তু দশ পনেরো মিনিটের বেশী থাকে না। আমি আর রবির থেকে কোনো টাকা নিই না। আমাদের মা মেয়ের সংসার আমার অল্প রোজগারেই বেশ চলে যায়। রবির টাকার দরকার আমার কোনো কালেও ছিল না, চেয়ে ছিলাম রবিকেই। সেই রবি আমাকে ভুলে যায়নী, বাস্তবতা রবির মন থেকে নয়নাকে মুছে দিয়েছে। আর বাস্তবতাই হয়ত একজন বন্ধ্যা নারীকে আঁখির মা বানিয়ে দিয়েছে।

#সমাপ্ত

এক বাদশার ঘটনা নিয়ে শিক্ষনীয় একটি ইসলামিক গল্প

এক বাদশার একটি বাগান ছিল। বাগানটি ছিল অনেক বড় এবং বিভিন্ন স্তর বিশিষ্ট। বাদশাহ একজন লোককে ডাকলেন। তার হাতে একটি ঝুড়ি দিয়ে বললেন, আমার এই বাগানে যাও এবং ঝুড়ি বোঝাই করে নানা রকম ফলমুল নিয়ে আস। তুমি যদি ঝুঁড়ি ভরে ফল আনতে পার আমি তোমাকে পুরস্কৃত করব। কিন্তু শর্ত হল, বাগানের যে অংশ তুমি পার হবে সেখানে তুমি আর যেতে পারবে না। লোকটি মনে করলো এটা তো কোন কঠিন কাজ নয়। সে এক দরজা দিয়ে বাগানে প্রবেশ করল। দেখল, গাছে গাছে ফল পেকে আছে। নানা জাতের সুন্দর সুন্দর ফল। কিন্তু এগুলো তার পছন্দ হল না।

সে বাগানের সামনের অংশে গেল। এখানকার ফলগুলো তার কিছুটা পছন্দ হল। কিন্তু সে ভাবল আচ্ছা থাক সামনের অংশে গিয়ে দেখি সেখানে হয়ত আরো উন্নত ফল পাব, সেখান থেকেই ফল নিয়ে ঝুঁড়ি ভরব। সে সামনে এসে পরের অংশে এসে অনেক উন্নত মানের ফল পেল। এখানে এ সে তার মনে হল এখান থেকে কিছু ফল ছিড়ে নেই। কিন্তু পরক্ষণে ভাবতে লাগলো যে সবচেয়ে ভাল ফলই ঝুড়িতে নিবে। তাই সে সামনে এগিয়ে বাগানের সর্বশেষ অংশে প্রবেশ করল। সে এখানে এসে দেখল ফলের কোন চিহ্ন ই নেই।

অতএব সে আফসোস করতে লাগল আর বলতে লাগল, হায় আমি যদি বাগানে ঢুকেই ফল সংগ্রহ করতাম তাহলে আমার ঝুড়ি এখন খালি থাকত না। আমি এখন বাদশাকে কি করে মুখ দেখাব। ঝুড়ি সহ বাগানে প্রবেশকারি লোকটির সাথে আমলনামা সহ দুনিয়ার বাগানে প্রবেশকারী তোমাকে তুলনা করা যায়। তোমাকে নেক কাজের ফল ছিঁড়তে বলা হয়েছে, কিন্তু তুমি প্রতিদিনই ভাব, আগামী কাল থেকে ফল ছেঁড়া আরম্ভ করব। আগামী দিন, আগামী দিন করতে করতে তোমার জীবনে আর আগামী দিন আসবে না।

এভাবেই তুমি শূণ্য হাতে আল্লাহর সামনে হাজির হবে। এজন্য মুফতি তাকি উসমানী (রহঃ) বলেন, জীবনের সময়গুলো অতিবাহিত হচ্ছে। জীবন কেটে যাচ্ছে জানা নেই বয়স বাকি কত। সুতরাং নেক কাজের বাসনা জাগ্রত হওয়ার সাথে সাথে তা করে ফেল। কে জানে কিছুক্ষণ পরে মনের এই আগ্রহ থাকবে কি না? এটাও জানা নাই একটু পর বেঁচে থাকবো কিনা, যদিও বেঁচে থাকি হয়তো দুনিয়ার কোন ব্যস্ততা সামনে এসে পড়বে। অতএব নেক কাজ যখনি করতে মন চায় তখনি করে নাও। জীবন থেকে ফায়দা লুটে নাও।

তাই জীবন নামক আল্লাহ্‌র অনুগ্রহে দেয়া বাগানে বিচরণ কালে আমল নামার বিশেষ ঝুড়িতে যখনই সুযোগ পাওয়া যায় তখনি নেকী নামক ফল দিয়ে প্রথম থেকেই ভরা শুরু করে দাও। পরে সময় পাওয়া যাবে কিনা জানা নাই । আল্লাহ সুবহা’নাহু ওয়া তা’য়ালা সবাইকে তওফিক দিন।

গল্প তৈরী করে গল্প

দরিদ্র ছেলেটা লেখাপড়ার খরচ যোগাতে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে হকারি করত। একবার প্রচুর খিদে নিয়ে সে এক রমণীর দরজায় গেলেও লজ্জায় খিদের কথা না বলে এক গ্লাস পানি চাইল।

রমণী বুঝতে পেরে তার জন্য এক গ্লাস পানির বদলে এক গ্লাস দুধ নিয়ে এল। ছেলেটা তার দাম দিতে চাইলে রমণী তা নিতে অসম্মতি জানালেন। ঐদিন ঐ ছেলে শুধুমাত্র ভরপেটেই ঐ বাড়ী থেকে বের হয়নি বরং বেরিয়েছে অনেক অনুপ্রেরণা এবং শ্রদ্ধা নিয়ে।

অনেক বছর পর, বড় শহরের, বিরাট এক ডাক্তার হাওয়ার্ড কেলি এক মৃতপ্রায় রোগীর চিকিৎসায় নিয়োজিত হলেন। রোগীর গ্রামের নাম শুনে তিনি তার শৈশবে সেই গ্রামের এক রমণীর থেকে পাওয়া অসীম স্নেহের কথা স্মরণ করে আবেগে আপ্লুত হয়ে গেলেন এবং সাথে সাথে তিনি রোগীকেও চিনে ফেললেন, আরেহ! এতো সেই রমণী!

কেলি তাঁর সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে সেই রমণীকে সুস্থ করে তুললেন। কিন্তু, রমণীর হাসপাতালের খরচ দেবার মত সামর্থ্য ছিল না। তিনি কাউন্টারে গিয়ে দেখলেন, ডা. কেলি ইতোমধ্যে তার হাসপাতালের দেনা চুকিয়ে দিয়েছেন এবং তার বিলের কাগজে লিখে দিয়ে গেছেন, “Paid in full with a glass of milk”

আমরা জীবনে যাই করি না কেন, সবকিছুরই প্রতিদান আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। হোক না একটু দেরি! এই রমণী কি কখনো ভেবেছিলেন যে সে এভাবে এত বছর পর তার প্রতিদান পাবেন?