মৃত্যুর পূর্বে ৪ জন ফেরেস্তা যেভাবে জানিয়ে দেয় মৃত্যুর আগাম সংবাদ

হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, যখন মানুষের অন্তিমকাল উপস্থিত হয় এবং রূহ বের হবার সময় ঘনিয়ে আসে, তখন চারজন ফেরেশতা তার কাছে উপস্থিত হয়। সর্বপ্রথম এক ফেরেশতা উপস্থিত হয়ে বলবেন “আসসালামু আলাইকুম” হে অমুক! আমি তোমার খাদ্য সংস্থানের কাজে নিযুক্ত ছিলাম। কিন্তু এখন পৃথিবীর পূর্ব থেক পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত অন্বেষণ করেও তোমার জন্য এক দানা খাদ্য সংগ্রহ করতে পারলাম না। সুতরাং বুঝলাম তোমার মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে হয়ত এখনই তোমাকে মরণ সুধা পান করতে হবে। পৃথিবীতে তুমি আর বেশীক্ষণ থাকবে না।

অত:পর দ্বিতীয় ফেরেশতা এসে সালাম করে বলবেন হে আল্লাহর বান্দা! আমি তোমার পানীয় সরবরাহের জন্য নিযুক্ত ছিলাম, কিন্তু এখন তোমার জন্য পৃথিবীর সবৃত্র অন্বেষণ করেও এক ফোঁটা পানি সংগ্রহ করতে পারলাম না। সুতরাং আমি বিদায় হলাম।
অত:পর তৃতীয় ফেরেশতা এসে সালাম করে বলবেন হে আল্লাহর বান্দা! আমি তোমার পদযুগলের তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত ছিলাম, কিন্তু পৃথিবীর সর্বত্র ঘুরেও তোমার জন্য একটি মাত্র পদক্ষেপের স্থান পেলাম না। সুতরাং আমি বিদায় নিচ্ছি।

চতুর্থ ফেরেশতা এসে সালাম করে বলবেন হে আল্লাহ বান্দা! আমি তোমার শ্বাস-প্রস্বাস চালু রাখার কাজে নিযুক্ত ছিলাম। কিন্তু আজ পৃথিবীর এমন কোন জায়গা খুঁজে পেলাম না যেখানে গিয়ে তুমি মাত্র এক পলকের জন্য শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করতে পার। সুতরাং আমি বিদায় নিচ্ছি।
অত:পর কেরামান কাতেবীন ফেরশতাদ্বয় এসে সালাম করে বলবেন, হে আল্লাহর বান্দা! আমরা তোমার পাপ-পূণ্য লেখার কাজে নিযুক্ত ছিলাম। কিন্তু এখন দুনিয়ার সব জায়গা সন্ধান করেও আর কোন পাপ-পূণ্য খুঁজে পেলাম না। সুতরাং আমরা বিদায় নিচ্ছি। এই বলে তারা এক টুকরা কালো লিপি বের করে দিয়ে বলবেন হে আল্লাহর বান্দা! এর দিকে লক্ষ্য কর। সে দিকে লক্ষ্য করামাত্র তার সর্বাঙ্গে ঘর্মস্রোত প্রবাহিত হবে এবং কেউ যেন ঐ লিপি পড়তে না পারে এজন্য সে ডানে বামে বার বার দেখতে থাকবে। অত:পর কেরাম কাতেবীন প্রস্থান করবেন। তখনই মালাকুল মউত তার ডান পাশে রহমতের ফেরেশতা এবং বাম পাশে আযাবের ফেরেশতা নিয়ে আগমন করবেন। তাদের মধ্যে কেউ আত্মাকে খুব জোরে টানাটানি করবেন, আবার কেউ অতি শান্তির সাথে আত্মা বের করে আনবেন। কন্ঠ পর্যন্ত আত্মা পৌঁছলে স্বয়ং যমদূত তা কবজ করবেন।

ধর্ষণের পর রূপাকে আঘাত করা হয়েছিল

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে বহুজাতিক কোম্পানির কর্মী রূপা খাতুনকে ধর্ষণের পরে আঘাত করা হয়। আর আঘাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

রূপার লাশের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক সাইদুর রহমান আজ মঙ্গলবার সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন। তিনি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তৎকালীন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা।

টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারকের দায়িত্বে থাকা প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়ার আদালতে এই সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। দুপুর ১২টায় ২০ মিনিটব্যাপী সাক্ষ্য দেন সাইদুর। এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন ও শামীম চৌধুরী তাঁকে ঘণ্টাব্যাপী জেরা করেন।

আদালতে আজ চিকিৎসক সাইদুর রহমান ছাড়াও রূপার ব্যাগ জব্দ করার সাক্ষী পুলিশ কনস্টেবল আবদুল হান্নান ও লাশের সুরতহাল করার সাক্ষী মধুপুরের জলছত্র এলাকার আবদুল মান্নান এবং শিশির মোহন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ নিয়ে এই মামলায় ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলো। আগামীকাল বুধবার এই মামলার আসামিদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধকারী চার বিচারিক হাকিমের সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

৩ জানুয়ারি মামলার বাদী মধুপুরের অরণখোলা ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলামের সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। সাক্ষ্য গ্রহণের সময় মামলার পাঁচ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপা খাতুনকে চলন্ত বাসে পরিবহনশ্রমিকেরা ধর্ষণ করেন। পরে তাঁকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রেখে যান। পুলিশ ওই রাতেই তাঁর লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা করেন।

পরে ২৮ আগস্ট রূপার ভাই মধুপুর থানায় গিয়ে লাশের ছবি দেখে রূপাকে শনাক্ত করেন। পুলিশ এরপর আসামি ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫), সুপারভাইজার সফর আলী (৫৫), সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে (১৯) গ্রেপ্তার করে। পুলিশের কাছে তাঁরা রূপাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। ২৯ আগস্ট বাসের তিন সহকারী শামীম, আকরাম, জাহাঙ্গীর এবং ৩০ আগস্ট চালক হাবিবুর এবং সুপারভাইজার সফর আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাঁরা সবাই এখন টাঙ্গাইল কারাগারে আছেন। ৩১ আগস্ট রূপার লাশ উত্তোলন করে তাঁর ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নিজ গ্রাম আসানবাড়িতে নিয়ে লাশ দাফন করা হয়।

৫ম শ্রেণির তিন ছাত্রের বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ

স্কুল ছুটির পর প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে যায় পঞ্চম শ্রেণির তিন ছাত্র। এরপর সেই ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে সেই তিন ছাত্র। স্কুল চত্বরের মধ্যেই ধর্ষণ করা হয় তাকে। সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরে।

ছাত্রীর পরিবারের দাবি, মেয়ের চিৎকার শুনে পথচারীরা ছুটে আসেন। সে সময়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। নিগৃহীতা ছাত্রীর বাবার দাবি, এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে গেলে প্রথমে স্কুলের প্রধান শিক্ষক তা নিতেই চাননি।

গাফিলতি এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্কুলের দুই সাময়িক সময়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধেও। বিষয়টি স্থানীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত হওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে শিক্ষা অধিদফতর। গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয় দুই সাময়িক সময়ের শিক্ষককে।

উত্তর প্রদেশ রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা অধিকারী অজিত কুমার বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। দুই সাময়িক সময়ের শিক্ষক-সহ সাত জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।” তবে এখনও অভিযুক্ত ছাত্রদের নাগাল পায়নি পুলিশ।

আল জাজিরার ব্যুরো কার্যালয় বন্ধ করে দিয়েছে ইয়েমেনের সেনারা

আল জাজিরার ব্যুরো কার্যালয় বন্ধ করে দিয়েছে ইয়েমেনের সেনারা

বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮:৫৭, জানুয়ারি ১১, ২০১৮ |সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৫৮, জানুয়ারি ১১, ২০১৮ 139
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর তায়িজের ব্যুরো কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ইয়েমেনের সেনা কর্মকর্তারা এই কার্যালয় বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। আল জাজিরার পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শহরটিতে আল জাজিরার সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। গত বছরের জানুয়ারিতে আল জাজিরার তিন কর্মীকে অপহরণ করা হয়েছিল। হুথি বিদ্রোহীরা গত মাসে ইয়েমেনের আল ইয়োম টিভি চ্যানেলে হামলা চালিয়ে কয়েক ডজন সংবাদকর্মীকে জিম্মি করে।

বিবৃতিতে আল জাজিরা জানায়, ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর তায়িজের ঊর্দ্ধতন নিরাপত্তা কমান্ড দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরটির আল জাজিরা অফিসে অভিযান চালিয়ে তা বন্ধ করতে নির্দেশ দেয়। কেন এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা স্পষ্ট করা হয়নি। তবে সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে দেশটির সৌদি সমর্থিত ও নির্বাসিত প্রেসিডেন্ট আব্দ মানসুর হাদির সরকার নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণার অভিযোগ রয়েছে সেনাবাহিনীর।
ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তায়িজের শহর কর্তৃপক্ষের কাছে এই সিদ্ধান্ত পুর্নবিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। আল জাজিরার সাংবাদিকদের কোন বাধা ছাড়া সেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইয়েমেনে চলমান যুদ্ধে তায়িজ গুরত্বপূর্ণ শহর হয়ে উঠেছে। রাজধানী সানা ও দক্ষিণাঞ্চলীয়ং এলাকার মধ্যে শহরটি কৌশলগত সংযোগ শহর হয়ে উঠেছে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই।

ঢাকায় স্টার জলসার ‘মা’ নাটকের ‘ঝিলিক’

স্টার জলসার সিরিজ ‘মা’ এখানেও বেশ জনপ্রিয়। এর ঝিলিক চরিত্রটির কদর বেশ। পর্দার সেই ঝিলিক অথবা বাস্তবের তিথি বসু এবার বাংলাদেশে আসছেন।
আজ (১০ জানুয়ারি) দিনের কোনও একটা সময় তিনি ঢাকায় নামছে। কারণটা হলো, বাংলাদেশের ‘হৈমন্তী’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। যা ১২ জানুয়ারি দেশের বেশ কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে উঠবে। সেটির প্রচারণার কাজেই তিথির এই সফর।


ছবির পরিচালক ডায়েল রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ছবির প্রচারণা কাজে তিথি দুই দিন আগে (১০ জানুয়ারি) ঢাকায় আসছেন। ৪ দিন থাকবেন। এমনকি দর্শকদের সঙ্গে প্রেক্ষাগৃহে বসে ছবিও দেখবেন। ১৪ তারিখ ফিরে যাবেন কলকাতায়।

জানা যায়, ছবিতে তিথির বিপরীতে অভিনয় করেছেন সকাল রাজ।
রাইসা ফিল্মের প্রযোজনায় এতে আরও অভিনয় করেছেন কাজী উজ্জ্বল, দীপক, আবদুল রহমান কাদিরিসহ অনেকে।

স্ত্রীকে যেভাবে হত্যা করেছে সাগর

স্ত্রী হত্যার অভিযোগে আটক সাগর হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ময়মনসিংহ ১ নম্বর আমলী আদালতের বিচারক মাকসুদুল হকের আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে রবিবার (০৭ জানুয়ারি) দুপুরে তার বিুরদ্ধে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুল খালেক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর খবর নিশ্চিত করেছেন।

এসআই খালেক জানান, এর আগে শনিবার (০৬ জানুয়ারি) রাতে নিহত সাফিয়ার মা মর্জিনা খাতুন বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় নারী নির্যাতন ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্বামী সাগর হোসেন ও তার মা মনোয়ারা বেগম ওরফে মনুকে আসামি করা হয়।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম জানান, আসামি সাগর এর আগে মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আাইনে একটি মামলা আছে। সাগর মাদক বিক্রি ও সেবনের সঙ্গে জড়িত বলে জানান তিনি। এদিকে অপর আসামি সাগরের মা মনোয়ারা বেগমকে গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা চলছে বলে জানান ওসি মাহমুদুল।

গত ৪ মাস আগে ময়মনসিংহ সদরের পরানগঞ্জ মীরকান্দা পাড়া গ্রামের নওয়াব আলীর কন্যা সাফিয়া আক্তারের সঙ্গে চরপাড়া কপিক্ষেত বস্তির আবুল হোসেনের ছেলে সাগর হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সাফিয়া অন্তঃসত্ত্বা হয়। এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এরই জেরে ১ জানুয়ারি সাগর জোরপূর্বক সাড়ে ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্র্রী সাফিয়াকে স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে গর্ভপাত ঘটায়। এরই জেরে শনিবার মধ্যরাতে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে সাগর সাফিয়াকে মারধর করে। অসুস্থ হয়ে পড়লে রবিবার সকালে হাসপাতালে নেওয়ার পর সাফিয়া মারা যায়। সাফিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। বাড়ি ঘেরাও করে সাগরকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এর আগেও সাগর আরও তিনটি বিয়ে করেছিল এবং নির্যাতনের কারণে সবাই পালিয়ে গেছে।

রিকশাচালককে চাপা দিয়ে ৮ কিলোমিটার টেনে নিলো ট্রাক

চালকসহ একটি ব্যাটারিচালিত রিকশাকে চাপা দিয়ে ৮ কিলোমিটার দূরত্বে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গেছে একটি ট্রাক। এতে ঘটনাস্থল ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সত্যপীর ব্রিজ এলাকায় প্রাণ হারিয়েছেন যাত্রী আসাদুজ্জামান শোভন (২২)। আর ৮ কিলোমিটার দূরে খোঁচাবাড়ি এলাকা থেকে স্থানীয়রা রিকশাচালকের লাশ ও দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া রিকশাটি উদ্ধার করেছে। শনিবার দুপুরে (০৬ জানুয়ারি) এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

চালকের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। নিহত শোভন শহরের নিশ্চিন্তপুরের গোওসুল আজমের ছেলে।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কফিল উদ্দিন জানান, ট্রাকচালক তোয়াবুর রহমানকে (৩৬)আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে রিকশাচালকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লাশের চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে।
খোঁচাবাড়ি এলাকার নুরুল ইসলাম ও জগন্নাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলাল মাস্টার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ব্যাটারিচালিত রিকশাটির ভেতরে লাশটি পাওয়া গেছে। তবে তাকে চেনা যাচ্ছে না।
দুর্ঘটনার পর দুপুর ২টা-৩টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে এলাকাবাসী। পরে তারা অবরোধ তুলে নেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের ভাষ্য, সদর উপজেলার সত্যপীর ব্রিজ বিজিবি সেক্টর হেডকোয়ার্টারের গেটের সামনে ট্রাকটি (জি আলম এন্টারপ্রাইজ যশোর-ট-১১২০৪৭) রিকশাটিকে ধাক্কা দিলে যাত্রী শোভন রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে যান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন ট্রাকটিকে আটকানোর চেষ্টা করলে ড্রাইভার ট্রাকটিকে আরও জোরে চালিয়ে চলে যান। ফলে চালকসহ রিকশাটি ট্রাকের তলায় আটকা পড়ে যায়। আটকে পড়া রিকশাচালক জীবন বাঁচানোর জন্য চিৎকার করে মিনতি জানালেও ট্রাকচালক নিজের জীবন বাঁচাতে পালাতে থাকে। এভাবে দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে খোঁচাবাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয়রা ফোন পেয়ে নছিমন দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে ট্রাকটিকে আটকায়। পরে জনতা ট্রাকচালককে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
ছিটকে পড়া আরোহী আসাদুজ্জামান শোভনকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান।

আবহাওয়া নিয়ে দুঃসংবাদ, আসছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ; বিস্তারিত জেনে নিন

মৌসুমি লঘুচাপের কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা দেখা দিলেও, দেশের উত্তরাঞ্চলে শুরু হয়েছে শৈত্যপ্রবাহ। যা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজশাহী, খুলনা বিভাগেও শুরু হবে।

আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, দেশের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে ১টি মাঝারি (৬ ডিগ্রি-৮ ডিগ্রি সে.), ১টি তীব্র (৪ ডিগ্রি-৬ ডিগ্রি সে.) ধরনের শৈত্যপ্রবাহ, অন্যত্র ২ থেকে ৩টি মৃদু (৮ ডিগ্রি ১০ ডিগ্রি সে.) বা মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
এরইমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে গেছে। এতে গত ২৪ ঘণ্টায় তামপাত্রা সবচেয়ে নিচে নেমেছে তেঁতুলিয়ায়। সেখানে ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

এদিকে ঘন কুয়াশার তীব্রতা বেড়ে দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাও করছে সংস্থাটি। এক মাসের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে এবং নদ-নদী অববাহিকায় মাঝারি বা ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা বা মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। ঘন কুয়াশা পরিস্থিতি কখনও কখনও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

জানুয়ারিতে দেশের সার্বিক বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক থাকবে। দৈনিক গত বাষ্পীভবন হবে ২ দশমিক ২৫ থেকে ৩ দশমিক ২৫ মিলিমিটার। আর সূর্যকিরণের কার্যকাল বেড়ে হবে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা।

আবহাওয়া অধিদফতর অন্য এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, মৌসুমি লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যার বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। আর উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বিহার ও তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত।

আবহাওয়ার গতি প্রকৃতির এমন অবস্থায় চট্টগ্রাম বিভাগের কিছুকিছু জায়গায় এবং সিলেট, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের দু’এক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

১৪ বছর ধরে জাল টাকা বানাচ্ছে , বিলিয়নার হয়ে ধরা

টাকা বানানোর সকল পদ্দতি বর্ণনা করে জানালেন ।
গ্রেপ্তার হওয়ার পর থানায় বসে পঞ্চাশ বছর বয়সী জামান জানান, ১৪ বছর ধরে টাকা জাল করার সঙ্গে জড়িত তিনি। ১৯৯৮ সালে একটি একশ টাকার নোট ফটোকপি করার পর থেকেই জাল টাকার চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে তার; শুরু হয় টাকা জাল করার ফন্দি।
এর ‘কাজে’ নামার আগে সাইন বোর্ড তৈরির দোকান ছাড়াও প্রিন্টার ও ফটোকপির দোকানে কাজ করেছেন বলে জানান জামান।
এই কাজে কি ‘সফটওয়্যার’ লাগে- এমন প্রশ্নে জামানের উত্তর, “না স্যার। টাকা স্ক্যান করে কালার ঠিকমতো মিলানোর পর প্রিন্ট করলেই অবিকল টাকা পাওয়া যায়।”
“প্রথমে কালার ফটোকপি দিয়ে নোটের দুই দিক ফটোকপি করার পর স্ক্রিন প্রিন্ট করে বাঘের মাথার জলছাপ দেয়া হয়, এরপর বিশেষ কাগজে তাপ দিয়ে বানানো হয় নিরাপত্তা সুতা।”

কাগজ কোথা থেকে সংগ্রহ করতেন তাও জানিয়েছেন জামান।
এক লাখ টাকা জাল করতে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা খরচ হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ওই নোট ৮/১০ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়।
এই জাল নোটের ‘কারবার’ করেই কুষ্টিয়ায় বাড়ি করেছেন জামান।
গ্রেপ্তারের ভয়ে সাধারণত ফরিদপুর ও কুষ্টিয়ায় থেকে সারা বছর এই কারবার চালালেও ঈদকে সামনে রেখে কামরাঙ্গীরচর এসে টাকা ‘বানাতে’ গিয়েই ধরা পড়েন তিনি। তার সঙ্গে গ্রেপ্তার হন শান্তা ওরফে শাবানা নামের এক নারী। তিনি নিরাপত্তা সুতার তৈরি করতেন বলে অভিযোগ আছে। যদিও শান্তা তা অস্বীকার করেছেন।
শুধু টাকাই না, জামান শেখ ভারতীয় রুপিও জাল করার পদ্ধতি রপ্ত করেছেন।
রুপি কেন জাল করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “উত্তম নামে একজন ভারতের মালদহ থেকে এসে ওই রুপি নিয়ে যেত। গত ১৪ বছরে উত্তম ১০ থেকে ১২ বার জাল রুপি নিয়ে গেছে।”

প্রথমবার টাকার রঙ্গিন ফটোকপি করার পর টাকা ‘বানানোর’ ফন্দিতে নিজের এলাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে আশি হাজার টাকায় একটি রঙ্গিন ফটোকপি করার মেশিন কেনেন জামান। সঙ্গে কিনে ফেলেন অন্যান্য সরঞ্জামও। এরপর শুরু করে দেন টাকা জাল করা।
শুরুটা ছিলো ঢাকার জিগাতলায় ভাড়া নেয়া এক বাসায়। এরপর কতো বাসা যে পরিবর্তন করেছেন তা গুণেও শেষ করতে পারেন না এই জালিয়াত কারিগর।
জামান জানান, ১৯৯৯ সালে হেলাল নামে এক শিষ্যের ‘বোকামির’ কারণে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে ধরা পড়ে ২১ মাস জেল খেটেছিলেন। এরপর জামিনে বের হয়ে এসে আবার পুরোদমে ‘ব্যবসা’ শুরু করেন।
একবার ধরা পড়ার পরও জামানকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়নি কেন- এমন প্রশ্নে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, “উচিৎ ছিল। হয়তো নজরদারিও ছিলো। দীর্ঘ সময়তো, তাই এক সময় নজরদারি থেকে দূরে সরে যায় সে।”