ইসলামিক প্রশ্ন উত্তর: ভর্তির সময় সন্তানের বয়স কমানো যাবে কি?

আমাদের দেশে অভিভাবকরা সাধারণত সন্তানদের প্রকৃত বয়স বাদ দিয়ে দুই/তিন বছর কমিয়ে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করান। অনেকে আবার ৫ম বা ৮ম শ্রেণিতে রেজিষ্ট্রেশনের সময় বয়স কমিয়ে দেন। আবার জন্ম নিবন্ধন Continue reading “ইসলামিক প্রশ্ন উত্তর: ভর্তির সময় সন্তানের বয়স কমানো যাবে কি?”

খলিফা ওমর [রা.] এর সময় একটি হত্যার বিচার

একবার হযরত ওমর (রা)এর আদালতে একটি মামলা উত্থাপিত হলো। দুজন সুদর্শন যুবক একজন যুবককে হাযির করলো। তারা বললো,আমীরুল মুমিনিন! এই কুলাঙ্গার আমাদের পিতাকে হত্যা করেছে। আপনি তার Continue reading “খলিফা ওমর [রা.] এর সময় একটি হত্যার বিচার”

এক সময় রেশমি অ্যালোন রাত ১২ টায় ফার্মগেটে এ দর কষাকষি করতো

একজন ভাই ১০ বছর পর এলো বাংলাদেশে , একটু ফুর্তির জন্য ১২ টায় গেল ফার্মগেট কোনো মেয়েকে না দেখতে পেয়ে বেচেরা বাড়ি ফিরলো খালি হাতে এক সময় রাত ১২ টা বাজলে ফার্মগেট এ দেখা যেত শত শত নারী। Continue reading “এক সময় রেশমি অ্যালোন রাত ১২ টায় ফার্মগেটে এ দর কষাকষি করতো”

চাচা আবু তালিবের মৃত্যুর সময় নবীজির সাথে কি হয়েছিল

সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব তার পিতা মুসাইয়্যাব (রহঃ) হ’তে বর্ণনা করেন, যখন আবূ ত্বালিব মুমূর্ষু অবস্থায় উপনীত হ’লেন, রাসূল (সাঃ) তার নিকট গেলেন।আবূ জাহলও সেখানে ছিল। নবী (সাঃ) তাকে লক্ষ্য করে বললেন, চাচাজান! ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ -কালেমাটি একবার পড়ুন, তাহ’লে আমি আপনার জন্য আল্লাহ্‌ নিকট কথা বলতে পারব।

তখন আবূ জাহল ও আব্দুললাহ ইবনু আবূ উমাইয়া বলল, হে আবূ ত্বালিব! তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম হ’তে ফিরে যাবে? এরা দু’জন তার সাথে একথাটি বারবার বলতে থাকল। সর্বশেষ আবূ ত্বালিব তাদের সাথে যে কথাটি বলল, তা হ’ল, আমি আব্দুল মুত্তালিবের মিল্লাতের উপরেই আছি। এ কথার পর নবী (সাঃ) বললেন, ‘আমি আপনার জন্য ক্ষমা চাইতে থাকব যে পর্যন্ত আপনার ব্যাপারে আমাকে নিষেধ করা না হয়’।এ প্রসঙ্গে এ আয়াতটি নাযিল হল

‘নবী ও মুমিনদের পক্ষে উচিত নয় যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে মুশরিকদের জন্য যদি তারা নিকটাত্মীয়ও হয়, তবুও যখন তাদের কাছে এ কথা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তারা জাহান্নামী’ [সূরা তওবা – ১১৩]

আরো নাযিল হল:

‘আপনি যাকে ভালোবাসেন, ইচ্ছা করলেই তাকে হিদায়াত করতে পারবেন না’ [ সূরা কাছাছ – ৫৬]

[ বুখারী হা/৩৮৮৪ ‘আনছারদের মর্যাদা’অধ্যায়, ‘আবু ত্বালিবের কাহিনী’অনুচেছদ ]

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রা:) হ’তে বর্ণিত যে, তিনি নবী (সাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, যখন তাঁর সামনে তাঁর চাচা আবূ ত্বালিবের আলোচনা করা হ’ল, তখন তিনি বললেন, আশা করি কিয়ামতের দিনে আমার সুফারিশ তার উপকারে আসবে। অর্থাৎ আগুনের হালকা স্তরে তাকে ফেলা হবে। যা তার পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত পৌঁছাবে আর এতে তার মগজ টগবগ করে ফুটতে থাকবে (ঐ, হা/৩৮৮৫)।

শিক্ষা:
১. হেদায়েতের মালিক আল্লাহ্‌ তা‘আলা। তিনি যাকে ইচ্ছা হেদায়েত করেন, যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন। এজন্য সবসময় তার কাছে হেদায়েত চাইতে হবে।

২. জাহান্নামের আযাব অত্যন্ত ভয়াবহ।সবচেয়ে হালকা শাস্তি হওয়ার পরেও যদি আবূ ত্বালিবের এই অবস্থা হয়, তাহ’লে অন্যদের কি অবস্থা হবে তা সহজেই অনুমেয়।

৩. সমাজ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা মানুষকে অনেক সময় হক গ্রহণ থেকে বিমুখ রাখে।

বিয়ের সময় ‘উকিল বাপ’ বানানো কি বৈধ? দেখুন ইসলাম কি বলে

মাওলানা কাসেম শরীফ: ‘উকিল বাপ’, বাংলাদেশের সুপরিচিত একটি পরিভাষা। এখানে আছে দুটি শব্দ— উকিল ও বাপ। বাংলা একাডেমি ‘উকিল’ শব্দের অর্থ লিখেছে— ১. আইন ব্যবসায়ী। ২. প্রতিনিধি, মুখপাত্র। ৩. মুসলমানদের বিয়েতে যে ব্যক্তি কনের সম্মতি নিয়ে বরকে জানায়। (বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, পৃষ্ঠা-১৪৭)। আর ‘বাপ’ শব্দের অর্থ বাবা, পিতা, জন্মদাতা ও পিতৃস্থানীয় ব্যক্তি।
ইসলামে পবিত্র বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য দুজন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুজন মহিলা সাক্ষী উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। এই সাক্ষীমণ্ডলীর একজনকে দেশীয় পরিভাষায় বলা হয় ‘উকিল বাপ’।
আমাদের দেশে এই ‘উকিল বাপ’ ও তার আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে রক্তের সম্পর্কের মতো আচরণ করা হয়। অবলীলায় তাদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করা হয়। অথচ ‘উকিল বাপ’ সংস্কৃতি ইসলামসম্মত নয়। কেননা যদি বিয়ের সাক্ষী ব্যক্তিরাই ‘উকিল বাপ’ হয়, তাহলে দুজন সাক্ষীই তো ‘উকিল বাপ’ হওয়ার কথা। অথচ বিয়ের সাক্ষী একজনকে পিতার আসনে বসানো হয় আর অন্যজনকে এই বিশেষ বিশেষণ থেকে বঞ্চিত করা হয়।

তা ছাড়া পৃথিবীতে প্রকৃত বাবা একজনই, যার ঔরসে সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে। এর বাইরে ইসলাম কয়েক ধরনের ব্যক্তিকে পিতৃস্থানীয় হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এক. ‘দুধ পিতা’ অর্থাৎ কোনো শিশু যদি অন্য কোনো নারীর দুধ পান করে, তাহলে সেই নারীর স্বামী উল্লিখিত শিশুর ‘দুধ পিতা’। এমন পিতার সঙ্গে দুগ্ধপায়ী মেয়েশিশুর বিয়ে বৈধ নয়। তবে তারা একে অন্যের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারবে।

দুই. বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে আরেক ধরনের পিতৃত্বের সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। দেশীয় পরিভাষায় ওই পিতাকে বলা হয় ‘শ্বশুর’। ‘শ্বশুর’ স্বামীর পিতা বা পিতৃস্থানীয় হওয়ার কারণে তার সঙ্গে স্থায়ীভাবে বিয়ে হারাম। স্বামী যদি কখনো তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে স্বামীর সঙ্গে আর দেখা করা যাবে না; কিন্তু ওই শ্বশুর তখনো হারামই থেকে যাবেন। অর্থাৎ তার সঙ্গে বিয়ে বৈধ নয়, তবে তার সঙ্গে পিতার মতো সর্বাবস্থায় দেখা দেওয়া যাবে। তিন. দত্তক নেওয়া সন্তানের অভিভাবককেও পিতার মর্যাদায় ভূষিত করা হয়। এ বিষয়ে ইসলামের বিধান হলো, দত্তক নেওয়া সন্তানের লালন-পালনকারীদের সম্মানার্থে মা-বাবা ডাকা বৈধ। একইভাবে তারাও সন্তানকে স্নেহ করে ছেলে-মেয়ে ডাকতে পারবে।
তবে এটা মনে করার সুযোগ নেই যে পালক নেওয়ায় সন্তানের আসল মা-বাবা থেকে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে। এখন লালনকারীই তার সবকিছু— এটা মনে করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি জাহেলি যুগের কুসংস্কার। আল কোরআনে বিষয়টি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। (তাফসিরে ইবনে কাসির : ৬/৩৩৭, আবু দাউদ, হাদিস : ১৯৪০)। লালন-পালনকারীর সঙ্গে পালিত সন্তানের পর্দার ক্ষেত্রেও পুরোপুরি ইসলামের বিধান রক্ষা করে চলতে হবে। নিজ হাতে লালন-পালন করেছি বলে পর্দার বিধান লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ নেই। অর্থাৎ পালক নেওয়া শিশুটি ছেলে হলে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তাকে পালক নেওয়া মায়ের সঙ্গে পর্দা করতে হবে। অন্যদিকে পালক নেওয়া শিশুটি মেয়ে হলে তাকে পালক নেওয়া বাবার সঙ্গে পর্দা রক্ষা করে চলতে হবে। কেননা ইসলামী শরিয়তমতে, দত্তকসংক্রান্ত সম্পর্ক কখনো বংশীয় সম্পর্কে পরিণত হয় না। এমনকি তাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কও অন্য সাধারণ মানুষের মতো বৈধ। (তুহফাতুল ফুকাহা : ২/১২৩)।

উল্লিখিত কয়েক ধরনের পিতৃস্থানীয় ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের পিতা হিসেবে ইসলাম স্বীকৃতি দেয়নি।

‘উকিল’ একটি মুসলিম পরিভাষা। বিশেষ পদ্ধতিতে বিয়ে মুসলমানদের সংস্কৃতি। কালক্রমে মুসলিম পরিভাষা ও সংস্কৃতির ভিতর ইসলামবিরোধী ‘উকিল বাপ’ কালচার ঢুকে পড়েছে। এ ‘উকিল বাপে’র সঙ্গে কনের দেখা-সাক্ষাৎ বৈধ নয়। তাকে ‘বাবা’ ডাকারও কোনো কারণ নেই। রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি জেনেশুনে নিজের পিতাকে ছাড়া অন্য কাউকে পিতা বলে দাবি করে, তার জন্য জান্নাত হারাম।’ (বুখারি)। উকিল বাবা সাধারণত কনের মাহরাম কোনো আত্মীয়স্বজন হন না; বরং তিনি গায়রে মাহরামই হয়ে থাকেন। তাই তার সঙ্গে পর্দা করা ফরজ। শুধু সামাজিক প্রচলনের ওপর ভিত্তি করে একজন গায়রে মাহরাম ব্যক্তিকে ‘উকিল বাপ’ বানিয়ে তার সঙ্গে মাহরাম আত্মীয়স্বজনদের মতো দেখা-সাক্ষাৎ করা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ নয়। অনেক সময় দেখা যায়, মেয়ের কাছ থেকে অনুমতি আনার সময় সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য উকিল বাবার সঙ্গে বর-কনে উভয় পক্ষের দুজন সাক্ষী যায়।

ইসলামের দৃষ্টিতে গায়রে মাহরাম কেউ মেয়ের কাছে অনুমতি আনার জন্য তার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে পারবে না। বিয়ের আগে পাত্রীকে গায়রে মাহরামদের মধ্যে শুধু পাত্রই শর্তসাপেক্ষে দেখতে পারবে। সে শর্তগুলো হলো— এক. পাত্রী দেখার সময় পাত্রের পক্ষের কোনো পুরুষ যেমন বাপ-ভাই, বন্ধুবান্ধব প্রমুখ কেউ থাকতে পারবে না। তাদের পাত্রী দেখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও কবিরা গুনা। দুই. পাত্র-পাত্রী একে অন্যের সঙ্গে কথা বলতে পারবে। কিন্তু একে অন্যকে স্পর্শ করতে পারবে না। তিন. পাত্রীর শুধু কবজি পর্যন্ত হাত, টাখনু পর্যন্ত পা ও মুখমণ্ডল দেখা পাত্রের জন্য বৈধ। এ ছাড়া শরীরের অন্য কোনো অঙ্গ আবরণ ছাড়া দেখতে পারবে না। চার. নির্জনে পাত্র-পাত্রী একত্রিত হওয়া বৈধ নয়। সুতরাং যেখানে পাত্রের জন্যই এত শর্ত রয়েছে, সেখানে ‘উকিল বাবা’র পাত্রী দেখার তো প্রশ্নই আসে না। এমনকি পাত্রের প্রকৃত পিতার জন্যও বিয়ের আগে তার হবু পুত্রবধূকে দেখা বৈধ নয়। (সূরা নিসা : ২৩, তাফসিরে মাজহারি : ২/২৫৪)।
লেখক : তাফসিরকারক ও সাংবাদিক
এমটি নিউজ/আ শি/এএস

সফরের সময় মহানবী (সা.) রাতের বেলা যেভাবে ঘুমাতেন

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্যে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে বহুবার সফর করেছেন। যরাজীর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় কারণে অনেক সময় সঠিক গন্তব্যে পৌঁছার আগেই রাত চলে আসতো। তখন যেভানে রাত হতো সেখানেই তিনি রাত কাটিয়ে দিতেন। এ প্রসঙ্গে হাদিস শরীফে স্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে।
আরবি হাদিস

وَعَنْ أَبي قَتَادَةَ

رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا كَانَ فِي سَفَرٍ، فَعَرَّسَ بِلَيْلٍ اضْطَجَعَ عَلَى يَمِينهِ، وَإِذَا عَرَّسَ قُبَيلَ الصُّبْحِ نَصَبَ ذِرَاعَهُ، وَوَضَعَ رَأسَهُ عَلَى كَفِّهِ . رواه مسلم

বাংলা হাদিস
আবূ ক্বাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফরে থাকতেন এবং রাতে বিশ্রামের জন্য কোথাও অবতরণ করতেন, তখন তিনি ডান পার্শ্বে শয়ন করতেন। আর তিনি ফজরের কিছুক্ষণ পূর্বে বিশ্রাম নিলে তার হাতটা খাড়া করে হাতের চেটোর উপর মাথা রেখে আরাম করতেন।’
আলেমগণ বলেন, তিনি হাত খাড়া রেখে আরাম করতেন, যাতে গভীর নিদ্রা এসে ফজরের নামাযের ওয়াক্ত অথবা প্রথম ওয়াক্ত ছুটে না যায়।’[মুসলিম ৬৮৩, আহমদ ২২০৪০, ২২১২৫]

ধর্ষণের সময় ধর্ষককে হত্যা করা কি ফরজ ?

যে নারীর সাথে জোরপূর্বক যেনা করার চেষ্টা করা হচ্ছে সে নারীর উপর আত্মরক্ষা করা ফরজ। তিনি কিছুতেই দুর্বৃত্তের কাছে হার মানবেন না। এজন্য যদি দুর্বৃত্তকে হত্যা করে নিজেকে বাঁচাতে হয় সেটা করবেন। এই আত্মরক্ষা ফরজ। ধর্ষণ করতে উদ্যত ব্যক্তিকে হত্যা করার কারণে তিনি দায়ী হবেন না। এর সপক্ষে দলিল হচ্ছে- ইমাম আহমাদ ও ইবনে হিব্বান কর্তৃক সংকলিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস,
“যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল সে শহীদ। যে ব্যক্তি তার জীবন রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল সে শহীদ। যে ব্যক্তি তার ধর্ম রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল সে শহীদ। যে ব্যক্তি তার পরিবার রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল সে শহীদ।”


এ হাদিসের ব্যাখ্যায় এসেছে- “যে ব্যক্তি তার পরিবার রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল সে শহীদ” অর্থাৎ যে ব্যক্তি তার স্ত্রী অথবা অন্য কোন নিকটাত্মীয় নারীর ইজ্জত রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল (সে শহীদ)।
যদি স্ত্রীর ইজ্জত রক্ষা করার জন্য লড়াই করা ও ধর্ষকের হাত থেকে স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত হওয়া স্বামীর জন্য বৈধ হয় তাহলে কোন নারী নিজের ইজ্জত নিজে রক্ষা করার জন্য প্রাণান্তকর লড়াই করা; এই ধর্ষক, জালিম ও দুর্বৃত্তের হাতে নিজেকে তুলে না দিয়ে নিহত হওয়া সে নারীর জন্য বৈধ হওয়া অধিক যুক্তিপূর্ণ। কেননা তিনি যদি নিহত হন তাহলে তিনি শহীদ। যেমনিভাবে কোন নারীর স্বামী তার স্ত্রীর ইজ্জত রক্ষা করতে গিয়ে যদি নিহত হন তিনি শহীদ। শহীদি মৃত্যুর মর্যাদা অনেক বড়। আল্লাহর আনুগত্যের পথে, তাঁর পছন্দনীয় পথে মারা না গেলে এ মর্যাদা লাভ করা যায় না। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তাআলা এ ধরনের প্রতিরোধকে তথা কোন ব্যক্তির তার স্ত্রীর ইজ্জত রক্ষার জন্য লড়াই করাকে এবং কোন নারীর তার নিজের ইজ্জত রক্ষার জন্য লড়াই করাকে পছন্দ করেন। আর যদি কোন নারী আত্মরক্ষা করতে সমর্থ্ না হন, পাপিষ্ঠ ও দুশ্চরিত্র লোকটি যদি তাকে পরাস্ত করে তার সাথে যেনাতে লিপ্ত হয় তাহলে এ নারীর উপর হদ্দ (যেনার দণ্ড) অথবা এর চেয়ে লঘু কোন শাস্তি কার্যকর করা হবে না। কারণ হদ্দ কায়েম করা হয় সীমালঙ্ঘনকারী, পাপী ও দুশ্চরিত্র ব্যক্তির উপর।


ইবনে কুদামা হাম্বলির “মুগনী” নামক গ্রন্থে এসেছে- যে নারীকে কোন পুরুষ ভোগ করতে উদ্যত হয়েছে ইমাম আহমাদ এমন নারীর ব্যাপারে বলেন: আত্মরক্ষা করতে গিয়ে সে নারী যদি তাকে মেরে ফেলে… ইমাম আহমাদ বলেন: যদি সে নারী জানতে পারেন যে, এ ব্যক্তি তাকে উপভোগ করতে চাচ্ছে এবং আত্মরক্ষার্থে তিনি তাকে মেরে ফেলেন তাহলে সে নারীর উপর কোন দায় আসবে না। এ প্রসঙ্গে ইমাম আহমাদ একটি হাদিস উল্লেখ করেন যে হাদিসটি যুহরি বর্ণনা করেছেন কাসেম বিন মুহাম্মদ থেকে তিনি উবাইদ বিন উমাইর থেকে। তাতে রয়েছে- এক ব্যক্তি হুযাইল গোত্রের কিছু লোককে মেহমান হিসেবে গ্রহণ করল। সে ব্যক্তি মেহমানদের মধ্য থেকে এক মহিলাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করেছিল। তখন সে মহিলা তাকে পাথর ছুড়ে মারেন। যার ফলে লোকটি মারা যায়। সে মহিলার ব্যাপারে উমর (রাঃ) বলেন: আল্লাহর শপথ, কখনই পরিশোধ করা হবে না অর্থাৎ কখনোই এই নারীর পক্ষ থেকে দিয়ত (রক্তমূল্য) পরিশোধ করা হবে না। কারণ যদি সম্পদ রক্ষার্থে লড়াই করা জায়েয হয় যে সম্পদ খরচ করা, ব্যবহার করা জায়েয তাহলে কোন নারীর তার আত্মরক্ষার্থে, খারাপ কাজ থেকে নিজেকে হেফাযত করতে গিয়ে, যেনা থেকে নিজেকে বাঁচাতে গিয়ে- যে গুনাহ কোন অবস্থায় বৈধ নয়- লড়াই করা সম্পদ রক্ষার লড়াই এর চেয়ে অধিক যুক্তিপূর্ণ। এইটুকু যখন সাব্যস্ত হল সুতরাং সে নারীর যদি আত্মরক্ষা করার সামর্থ্য থাকে তাহলে সেটা করা তার উপর ওয়াজিব। কেননা দুর্বৃত্তকে সুযোগ দেয়া হারাম। এক্ষেত্রে আত্মরক্ষা না করাটাই তো সুযোগ দেয়া।[আল-মুগনি (৮/৩৩১)] আল্লাহ ভাল জানেন।[আল-মুফাসসাল ফি আহকামিল মারআ (৫/৪২-৪৩)]

জেনে নিন ফল খাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় কোনটি?

ফলে প্রচুর পুষ্টি উপাদান থাকে যা আমাদের রোগমুক্ত থাকতে সাহায্য করে। ফল খেলে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং হাইপারটেনশন হওয়ার ঝুঁকিও কমে। আমরা অনেকেই মনে করি ফল খাওয়া মানেই ফল কেনো, কাটো এবং মুখে পুরে দাও। কিন্তু এটা আসলে ফল খাওয়ার সঠিক উপায় নয়। কারণ ফল এর উপকারিতা পাওয়ার জন্য ফল খেতে হবে সঠিক সময়ে। হ্যাঁ, ফল খাওয়ারও নির্ধারিত সময় আছে যা অনেকেই জানেন না। সে বিষয়ে জেনে নিই চলুন।

ফল খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময়ঃ

১. সকালে খালি পেটেঃ

আপনি নিশ্চয়ই খুব অবাক হচ্ছেন এটি শুনে? ফল সকালে খালিপেটে বা খাওয়ার মাঝখানে খেতে হয়। কারণ এই সময়ে হজম মোটামুটি দ্রুত হয় এবং বিভিন্ন ধরণের এনজাইম ব্যবহৃত হয় ফল হজমের জন্য। ফলে চিনি থাকে যা শরীর দ্বারা শোষিত হতে সময় লাগে। খাওয়ার মাঝখানে বা খালি পেটে যখন ফল খাওয়া হয় তখন ফলের পুষ্টি উপাদান যেমন- ফাইবার ও চিনি শরীরে ভালোভাবে প্রসেসড হয়। তাই এই সময়ে ফল খেলেই আপনি উপকৃত হতে পারবেন।

২. প্রি অথবা পোস্ট ওয়ার্কআউটঃ

ফল খাওয়ার আরকটি শ্রেষ্ঠ সময় হচ্ছে ওয়ার্কআউট এর আগে অথবা পরে। ব্যায়াম করার আগে অথবা ব্যায়াম করার পর পরই আপনি ফল খেতে পারেন। ওয়ার্কআউটের পূর্বে ফল খেলে ফলের চিনি আপনাকে দ্রুত এনার্জি পেতে সাহায্য করবে এবং ওয়ার্কআউটের পরে শরীরের নিঃশেষিত শক্তি পুনরায় সঞ্চিত হতে সাহায্য করবে।

ফল খাওয়ার সবচেয়ে খারাপ সময়ঃ

১. ঘুমাতে যাওয়ার আগেঃ

ঠিক ঘুমুতে যাওয়ার আগেই ফল খাওয়া মোটেই ভালো নয়। কারণ এতে রক্তের চিনির মাত্রা ও ইনসুলিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং ঘুমাতেও সমস্যা হয়। তাই সন্ধায় ফল খাওয়া এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

২. ওজন কমানোর সময়ঃ

যাদের ওজন কমানো বেশ কঠিন তাদের দুপুরের খাবারের পরে ফল না খাওয়া উচিৎ। এর ফলে শরীরে ক্যালরির ঘাটতি দেখা দিবে এবং শরীরে সঞ্চিত চর্বি এনার্জি সৃষ্টিতে কাজে লাগবে। আপনি যখন ওজন কমানোর একটি সীমার মধ্যে পৌঁছে যাবেন তখন আর ফল এড়িয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

ফল খাওয়ার সাধারণ নির্দেশিকাঃ

১. শুধু ফলঃ

কোন খাবারের সাথে ফল মিশিয়ে খাওয়ার চেয়ে একবারে বেশি ফল খাওয়া ভালো। দৈনিক দুই থেকে আড়াই কাপ ফল খাওয়া উচিৎ। ফ্রুট সালাদ বা ২ টি আপেল খেতে পারেন। ফল খাওয়ার ১-২ ঘন্টা পর্যন্ত পেট ভরা থাকে। এই সময়ে ফল ভালোভাবে হজম হয় এবং শোষিত হয়।

অজুর সময় কথা বললে অজুর ক্ষতি হবে কি তাহলে জেনে নিন?

null
নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় বেসরকারি একটি টেলিভিশনের জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

আপনার জিজ্ঞাসার ২০৩৭তম পর্বে অজুর সময় কথা বললে অজুর ক্ষতি হবে কি না, সে সম্পর্কে বাগেরহাটের রামপাল থেকে চিঠিতে জানতে চেয়েছেন সৈয়দ জাহিদুর রহমান। অনুলিখনে ছিলেন জহুরা সুলতানা।

প্রশ্ন : অজু করার সময় পাশের লোকের সঙ্গে কথা বললে অজুর ক্ষতি হবে কি?

উত্তর : অজুর সময় কথা বলা জায়েজ, অজুর কোনো ক্ষতি হবে না। তবে স্বাভাবিকভাবেই আল্লাহর বান্দা যখন একসঙ্গে দুটি কাজ করতে যাবে, তখন কোথাও ভুল হতেই পারে। এ জন্য কেউ কেউ মনে করেন যে, অজু করার সময় কথা না বলাই ভালো।

অজুর সময় কোনো কথা বললে অজু নষ্ট হয়ে যাবে, এই মর্মে হাদিসে কোনো বক্তব্য প্রমাণিত হয়নি। অজুর সময় আপনি কথা বলতে পারেন, কথা বলা জায়েজ রয়েছে