জোকস: সে প্রতিদিনই ৪০ সেকেন্ডের কম সময় নেয়!

তিনজন বান্ধবী এক জায়গায় বসে তাদের স্বামীকে নিয়ে গর্বভরে গল্প করতেছে…

১ম জনঃ আমার স্বামী একজন চেম্পিয়ান গলফারের মত। সে গত বিশ বছরধরে বিছানায় একই stroke আমাকে আদর করতেছে।

২য় জনঃ আমার স্বামী চেম্পিয়ান কার রেইসারের মত। সে যখন আমাকে আদর করে তখন কিছুক্ষণ পরপরই তার স্পিড বাড়িয়ে দেয়।

৩য় মহিলা চুপ করে ছিলেন। অন্য দুজন তাকে বললঃ আর আপনার?

কিছুক্ষণ ভাবার পর ৩য় জন বললঃ আমার স্বামী অলিম্পিকে 400মিঃ সোনাজয়ী দৌড়বিদের মত।
অন্য দুজনঃ কিভাবে?

৩য় জনঃ সে প্রতিদিনই ৪০ সেকেন্ডের কম সময় নেয়!

মানুষ যখন ক্ষুদ্ধ ও রাগান্বিত হয়, তখন সে শয়তানের হাতের খেলার ’বল’ হয়ে যায়।

“শয়তানের গোমরাহ করার
প্রচেষ্টা”
বনী ইসরাঈলের এক বুযুর্গকে শয়তান
গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট করার জন্যে
বারবার চেষ্টা করেছেন; কিন্তু
পারেননি। একদিন তিনি বিশেষ
কোন প্রয়োজনে কোথাও
যাচ্ছিলেন। শয়তানও তখন তার
সঙ্গী হয়ে পড়ল। পথে রিপুকাম ও
ক্ষোভের অনেক হাতিয়ারই ব্যবহার
করল সে। মাঝে মধ্যে তাকে ভয়
দেখাবারও চেষ্টা করল। কিন্তু ব্যর্থ
হলো বারবারই।
বুযুর্গ একবার পাহাড়ের পাদদেশে
বসেছিলেন। শয়তান তখন পাহাড়ের
উপরে উঠে একটি পাথর ছেড়ে দিল।
বুযর্গ যখন লক্ষ করলেন বিশাল একটি
পাথর তার দিকে গড়িয়ে পড়ছে। তখন
তিনি আল্লাহর যিকিরে মশগুল হয়ে
পড়লেন। পাথর তাকে পাশ কেটে
অন্য দিকে গড়িয়ে পড়ল। শয়তান বাঘ
ও সিংহের আকৃতি ধরে তাকে ভয়
দেখাতে চাইল। তাতেও কাজ
হলোনা। একবার বুযুর্গ নামায
পড়ছিলেন। শয়তান তখন সাপের
আকৃতি ধরে বুযুর্গের মাথা থেকে পা
পর্যন্ত জড়িয়ে ধরল। অতঃপর তার
ফনাটি সিজদার স্থানে বিছিয়ে
দিল। বুযুর্গ এতেও ভীত হলেন না।
এবার শয়তান পূর্ণ নিরাশ হয়ে
সম্পূর্ণ নিজের আকৃতিতে সেই
বুযুর্গের সামনে এলো এবং বলল :
আপনাকে গোমরাহ করার সকল
কৌশলই আমি অবলম্বন করেছি।
কিন্তু তার কোনটিই কাজে আসেনি।
তাই আমি এখন আপনার সাথে বন্ধুত্ব
করতে চাচ্ছি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি
এখন থেকে আপনাকে আর ভ্রষ্ট করার
চেষ্টা করবনা। সুতরাং আপনিও
বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিন। বুযুর্গ
বললেন : এটাতো তোর সর্বশেষ
কৌশল। দুর্ভাগা, তোর ভীতি
প্রদর্শনেও আমি ভীত হইনি। তোর
বন্ধুত্বেরও আমার কোন প্রয়োজন
নেই।
শয়তান তখন বলল : আমি কি
আপনাকে একথা বলে দিব, মানুষকে
আমি কিভাবে গোমরাহ করি?
বুযুর্গ বললেন : বল।
শয়তান বলল : তিনটি বিষয়ের
দ্বারা-
১. কার্পণ্য, ২. ক্রোধ ও ৩. নেশা।
শয়তান বলল : মানুষের মধ্যে যখন
কার্পণ্য সৃষ্টি হয়, তখন সঞ্চয়ের
নেশায় পড়ে যায়। খরচ করেনা।
অন্যের হক নষ্ট করে। আর মানুষ যখন
রাগান্বিত হয়ে পড়ে, তখন সে
আমাদের হাতের খেলনায় পরিণত
হয়। যেমন ছোট বাচ্চাদের হাতে
খেলার বল থাকে ঠিক তেমন। আমরা
তার ইবাদত বন্দেগীর মোটেও
পরোয়া করিনা। সে যদি স্বীয় দু’আর
দ্বারা মৃতকে জীবিতও করে তবুও
আমরা নিরাশ হইনা। আমরা একটি
কথায় তার সকল বন্দেগী মাটিতে
মিশিয়ে দেই। আর মানুষ যখন নেশা
করে মাতাল হয়ে পড়ে, তখন আমরা
ছাগলের মত তার কান ধরে যে কোন
পাপের দিকে নিয়ে যাই এবং খুব
সহজেই নিয়ে যাই।
ফকীহ আবুল লাইস (রঃ). বলেন : এ
ঘটনায় জানা গেল মানুষ যখন ক্ষুদ্ধ ও
রাগান্বিত হয়, তখন সে শয়তানের
হাতের খেলার ’বল’ হয়ে যায়। ছোট
শিশুরা যেমন ’বল’ এদিক-ওদিক ছুড়ে
মারে, শয়তানও তাকে অনুরুপ ইচ্ছামত
এদিক সেদিক নিতে থাকে। তাই
রাগের সময় আমাদের ধৈর্য্য ধারণ
করা চাই, যাতে শয়তানের হাতের
ক্রীড়ানক হতে না হয়।
শিক্ষা : উল্লেখিত
ঘটনা থেকে আমরা একটি শিক্ষা
নিতে পারি যে, আল্লাহওয়ালাদের
সংস্পর্শে এসমস্ত শয়তানের ধোঁকা
থেকে বাঁচতে পারব।
————————–০০০———————–

সে আমার সম্পত্তি নয় সে আমার সম্পদ

সারাদিন শুধু অফিস, অফিস আর অফিস। এই, তোর ইচ্ছে করে না আমাকে সময় দিতে? তাহলে ভালোবাসলি কেন? আমাকে বিয়ে করলি কেন?’
চোখজোড়া আগুনের মত হয়ে আছে হিয়ার।
বউ-এর কাছে এমন ব্যাবহার সবসময়ই প্রত্যাশিত ঈশানের। ভালোবাসার প্রকাশ হয় এতে। মোজাইক করা ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে আছে ঈশান নিশ্চুপ। বউ-এর মেজাজ এখন ঊনপঞ্চাশে। এই মুহূর্তে ভালো কথা বললে বউ পেয়ে বসবে। তাই প্রতিক্রিয়াটা হওয়া চাই বিপরীত।
মনে মনে ঈশানও রেগে আছে। বউটা একদম বে-আক্কেল। স্বামী এত গরমের মধ্যে জ্যাম ঠেলে অফিস সেরে বাসায় এসেছে, কোথায় স্বামীকে একটু আদর করে ঠাণ্ডা শরবত বানিয়ে দেবে, তা না উল্টো ঝাড়ি!
-জানো হিয়া, আজ কি হয়েছে?
-চুপ কোনো কথা না।
-একটা মেয়ে….
‘একটা মেয়ে’ কথাটা শুনে ঈশানের দিকে ফিরে তাকায় হিয়া। ‘কি হয়েছে একটা মেয়ে?’ -কলার চেপে ধরে সে।
-বাসে একটা মেয়ে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল।
-ও, আর ওমনি তুই মজনু হয়ে গেছিস তাই না? দাড়া মজা দেখাচ্ছি।
-কি মজা?
-তোর আজ ভাত বন্ধ। যা গিয়ে গোসল কর।
বাড়ন্ত ভুড়িটা একটু আগে চলছে ঈশানের। আর ঈশান ভুড়ির ঠিক পিছনে। এক মাত্র ছেলে এসে জাপটে ধরে ঈশানকে।
-আব্বু তোমার পেট এত মোটা কেন?
-জানিনা আব্বু।
-তুমি কি মহিলা?
-মহিলাদের পেট মোটা হয়?
-হুম, আম্মুরও তো ছিল, যখন আমি আকাশে ছিলাম।
ঈশান থতমত খেয়ে যায়। ছয়বছর বয়সী ছেলে এত কিছু জানে কিভাবে?
-তোমাকে এসব কে বললো?
-কেন কাল তুমিই তো ছবি দেখিয়ে বলেছো।
-কি বলেছি?
-একটা ছবিতে আম্মু মোটা ছিল তখন আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম এ ছবিটা কার? তখনই তো তুমি বললা।
ঈশান সাহেব জিহ্বার আগায় কামড় বসিয়ে দেন। ছেলেটা এরকম ইচড়েপাকা হবে এটা ভাবা যায় না ।
চলো বাবা, আজ আবার ছবি দেখবো। -ঈশান সাহেব বললেন তার ছেলেকে।
ছবি দেখানোর এক পর্যায়ে ঈশান সাহেবের ছেলে তাকে জিজ্ঞেস করলো, আব্বু এই ছেলেটা আর এই মেয়েটা কে? ঈশান সাহেব উত্তর দিলেন, এরা তোমার আব্বু আম্মু।
পিচ্চি ছেলে মাথায় হাত দিয়ে বললো, আমার আব্বু আম্মু এত ছোট! তাহলে তোমরা কারা?
ঈশান সাহেব একটু লজ্জা পেয়ে বললেন, এটা আমাদের ছোট কালের ছবি
তার ইঁচড়েপাকা ছেলে মাথায় হাত দিয়ে বললো, তোমরা এত ছোট বয়সে বিয়ে করেছিলে! আব্বু আমিও করবো
ওয়ারড্রব এর কোনা ঘেসে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শাড়ির কোণা পেচাতে পেচাতে এসব দেখছিল হিয়া। অবস্থা এখন বড়ই বেগতিক। এই ছেলে বাবা মার মান সম্মান শেষ করে দিবে।
হিয়ার মুচকি হাসিটা কানা চোখে দেখছিল ঈশান। খুব শান্তি পায় সে। হিয়ার হাসির মাঝে যেন স্বর্গ খুঁজে পাওয়া যায়। আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে…..দেখতে আমি পাইনি, তোমায় দেখতে আমি পাইনি….. হুম হিয়ার মাঝেই লুকিয়ে আছে শান্তি। ভালোবাসা আর কাছে থাকার অটুট বন্ধন।
আজ থেকে বেশ কিছু বছর আগের কথা- কলেজগামী এক তরুণীকে দেখে ভীষণ ভালো লাগে ঈশানের। কলেজ পোশাকে সব মেয়েকে ভালো লাগে না, কিন্তু এ মেয়েটা ঈশানের বুকের ভেতরে থাকা কলিজার ভেতর তীর ছুড়ে দিয়েছে। ভাব জমায় ঈশান। কিন্তু না, ভাব হয় না। সুন্দরী মেয়েদের ইগো বেশি।
তবে কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধুত্ব হয়। ঈশান সেটা চায় না। ঈশান চায় ভালোবাসতে, কাছে টানতে। কলেজ থেকে কতদিন যে হিয়ার পিছু নিয়েছে তার হিসেব নেই। কিন্তু হিয়া বন্ধু ছাড়া কিছুই ভাবে না তাকে। প্রেক্টিক্যাল খাতাও লিখে দিতো হিয়া। ঈশানকে মানসিক অনেক সাপোর্ট দিলেও তারা শুধুই বন্ধু।
না, এভাবে চলে না। ঈশান চাচ্ছে না এভাবে।
-দেখ হিয়া, তুই যদি আমাকে ভালো নাই বাসিস তাহলে প্লিজ লিভ মি…
-দেখ ঈশান আমরা বন্ধু। খুব ভালো বন্ধু
-আমাকে ভালোবাসতে সমস্যা কোথায় তোর?
-আমার পরিবার….
-যদি তোর পরিবার কে রাজী করাই?
-আমি জানিনা।
-শোন তাহলে, আজ থেকে এই মুহূর্ত থেকে আমাদের সব কিছু শেষ!
হিয়া ধীর পায়ে ঈশানের থেকে দূরে সরে যায়। এক দিন, দুই দিন যায়। হিয়ার মন আর মানছে না। সে তার অজান্তেই ঈশানের হয়ে গেছে। কিন্তু প্রতিটা মেয়ের কাছেই তার পরিবার আগে। কখনোই চাইবে না পরিবার কষ্ট পাক….
নাহ…ঈশানকে চাই। কলেজের শেষ দিন আজ। এর পর কে কোথায় যায় তার কোনো ঠিক নেই। ঈশানকে খুঁজছে হিয়া। পাচ্ছে না। কোথাও পাচ্ছে না। কোনো জায়গায় নেই সে।
সেদিন তো পেলোই না,এর পরের তিন বছরেও ঈশানকে পেলো না হিয়া। হটাৎ একদিন ঈশান তার বাসায়। ঈশান ভালো জায়গায় পড়ে,ভবিষ্যত উজ্জল। এখন নিশ্চয় হিয়ার আর আপত্তি নেই…কিছু শোনার আগেই ঈশানের বুকে ঝাপিয়ে পড়ে হিয়া। সবার সামনে। হাত দিয়ে মারতে থাকে তাকে। ‘তুই আমাকে ছেড়ে চলে গেছিলি,তুই জানিস না ভালোবাসি তোকে আমি। ‘
ছেলেটাও আবেগী হয়ে পড়ে। সবার সামনেই শক্ত করে ধরে মেয়েটা কে। কিছু বছর পর পারিবারিক ভাবেই বিয়ে হয় তাদের। সংসার আলো করে আসে ছোট্ট একটা ছেলে। তবে তারা এখনো একে অপরকে তুই করে বলে। হিয়ার নির্দেশ এটা। বিয়ের পর এটা হিয়ার প্রথম চাওয়া ছিল। দরজায় খিল দিয়ে ঈশান যখন রূমে ঢুকলো হিয়া সরে গিয়ে এই কথাটাই বলেছিল-
-এই শোন, আমি আগে তোর বন্ধু পরে বউ। যদি কখনো বউ হিসেবে আমার কাছে কিছু লুকাতে চাস তাহলে বন্ধু হিয়াকে বলবি। নইলে তোর খবর আছে।
ঈশান হাসে। তারো ইচ্ছে করে রবি ঠাকুরের মতো বলতে, ‘আমি পাইলাম, ইহারে আমি পাইলাম, সে আমার সম্পত্তি নয় সে আমার সম্পদ’
আর এভাবেই শুরু হয় দুটো মনের লুকানো স্বপ্ন যাত্রা।
এভাবেই আজ তারা দুজন দুজনের। একটি বিশেষ দিন কিছুক্ষণ পরই। হিয়া মনে মনে ক্ষেপছিল। এই ছেলেটা ভুলে গেছে এই দিনটাকে। কিছুই আনলো না। হাতে করে একটা তরমুজ এনেছে। কিপ্টা কোথাকার।
রাত দশটা। হিয়া ডাইনিং সাজায়। পিতা, পুত্র খেতে আসে। হিয়াও খায়। হিয়া বারবার ঈশানের দিকে তাকাচ্ছিল। তার চোখে মুখে আজকের দিনের অনুভুতির ছিটেফোঁটা ও নেই। খাওয়া শেষে হিয়া কঠিন গলায় বললো, ‘তরমুজ কাটবো?’
বাম পাশের দাঁত দিয়ে ভাত চিবুতে চিবুতে নিষেধ করল ঈশান।
রাত বারোটা। ছেলেটা ঘুমিয়ে পড়েছে। ড্রয়িং রুমে টিভি দেখছিল হিয়া। ঈশান ডেকে বললো, ‘হিয়া তরমুজ খাবো, গরম পড়েছে খুব’
তরমুজ কাটতে যেয়ে হিয়া প্রচণ্ড রকম শক খেলো। তরমুজের ভেতর এটা কি? হাত দিয়ে ধরতেই টোন দিলো, ‘হ্যাপি সেভেন্থ এনিভার্সারি।’
হিয়া এখনো কিছু বুঝে উঠতে পারছে না। ভেতরে একটা লাল খামও আছে।
ভিজে গেছে তরমুজের রসে। হিয়া খুলে দেখে। ‘একটু ছাদে আসবা?’ লিখাটা দেখেই হিয়া দৌড় দিয়ে ছাদে উঠে।
একটা পাঞ্জাবি পরে আছে ঈশান। হিয়া ধীর পায়ে তার দিকে এগুয়।
-কি ভেবেছিলে? আমি ভুলে যাবো?
-তুই একটা শয়তান…এত ভালোবাসিস কেন আমায়?
হিয়া কেদে দিচ্ছে। ঈশানের বুকে মাথা রাখে। ঈশান তার একটা হাত চেপে ধরে। হিয়া আরো আবেগী হয়ে যাচ্ছে। রাতের আকাশে একটুও মেঘ নেই। আকাশের দক্ষিণ পশ্চিম কোণে একটা নৌকা ভাসছে। অর্ধ চাদ! আজ তাদের পূর্ণিমা রাত! অর্ধ না, পূর্ণ পূর্ণিমা আর পূর্ণ ভালোবাসা।
পেছনে বোমা ফোটার মত কয়েকটা বেলুন ফোটার আওয়াজ আর পার্টি স্প্রে হিয়া আর ঈশানকে এলোমেলো করে দিলো।
‘হ্যাপি সেভেন্থ এনিভার্সারি টু মাই প্যারেন্টস’ ছোট্ট ছেলেটা হাসতে হাসতে বললো। বাবা মা দুজনই ছেলেটাকে কাছে টেনে নিল। এক সাথে চাদের আলো দেখছে সবাই।

সুপারম্যান ঠিক করলো, একদিন সে গৃহিণীর সব কাজ করবে, তারপর?

সুপারম্যান

মনোয়ারা বেগম রুটি বেলছিলেন। স্বামীর অফিস দশটায়, এখনই উঠে পড়বেন ঘুম থেকে। তার আগেই নাস্তা রেডি করতে হবে, কাপড়-চোপড় ইস্ত্রি করতে হবে, পল্টুকে ওঠাতে হবে, পল্টুকে ব্রাশ করানো, খাওয়ানো… কত কাজ…!

মনোয়ারা একবার ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বেলনের গতি বাড়ালেন। ঠিক সেসময় রান্নাঘরের সামনের জানালার ওপর কী যেন এসে ধাক্কা খেল। চিল টিল নাকি?

মনোয়ারা আঁতকে উঠলেন। চিল ঈগল কোথায়, জলজ্যান্ত মানুষ! রান্নাঘরের জানালার গ্রিলের সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছে, বোঝা যাচ্ছে। সে দ্রুত টাল সামলে উঠলো। আরে অদ্ভুত তো, এই ব্যাটা কি পাইপ ধরে উঠে এসেছে? নাকি উড়ে এসেছে? এগুলো কী ধরণের বেয়াদবি? পোষাকও কেমন উদ্ভট! নীল রঙের স্কিন টাইট জামা, বুকের কাছে বড় করে লেখা ‘এস’! এস আবার কী? প্রেমিকার নামের আদ্যক্ষর?

গলায় ওড়নার মত লাল কাপড় বাঁধা, তাও সেটা পেছন দিকে ঝুলছে। আর ইয়ে, বাকি সবকিছু নাহয় মেনে নেয়া গেল, তাই বলে আন্ডারওয়্যার…

উদ্ভট পোশাক পরা ভদ্রলোক (নাকি অভদ্রলোক!) লজ্জিত মুখে বললেন, ‘ইয়ে, আপা, মাফ করবেন! নাকে বড্ড লেগেছে… এই নতুন কস্টিউমটা ভালো হয় নাই। দর্জি মাপে ভুল করছে। লাল কাপড়টা পুরা বেসাইজ বানাইছে… হুটহাট তারের সঙ্গে বেঁধে হুমড়ি খেয়ে পড়ি… এই যে, এইমাত্রও… এই এলাকায় ভালো কোনো দর্জি আছে?’

মনোয়ারা বিরক্ত গলায় বললেন, ‘আপনি জানালায় কী করছেন! অদ্ভুত বেয়াদব তো… তার মধ্যে আবার খাজুরে আলাপ লাগিয়েছে… সরেন, সরেন আপনি জানালা থেকে… পল্টুর আব্বা…’

‘আপা, ভুল বুঝবেন না। আপনি আমাকে চিনতে পারেন নাই, বুঝছি। সুপারম্যান ইদানিং আসলে কেউ দেখে না, সবাই ব্যাটম্যান আয়রনম্যানের দিকে ঝুঁকছে… আমি সুপারম্যান। এই যে, এই যে দেখেন ‘S’। সুপারম্যানের এস।

মনোয়ারা সুপারম্যানের কথায় বিশেষ পাত্তা দিলেন না। আপাতত তিনি এই নষ্ট হওয়া পাঁচ মিনিট নিয়ে বেশি চিন্তিত।

‘আচ্ছা, বুঝলাম। আপনি সুপারম্যান, মানে গল্প মুভি কার্টুনের আসল সুপারম্যানই। যাই হোক… কী চান? আমার তাড়া আছে, প্লিজ, দ্রুত বিদায় হোন!’
‘আপা, আমি আসলে নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানাইতে আসলাম।’
‘কী?’
‘নারী দিবসের শুভেচ্ছা, আপা। আমি আজকে ভেবে দেখলাম, এই যে আমি সুপারম্যান, উইম্যানদের প্রতি তো আমার একটা দায়িত্ব আছে। তাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে উইম্যানদের নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানায়ে আসি!’

‘অ।’ মনোয়ারা নারী দিবসের শুভেচ্ছা প্রাপ্তি বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ বোধ করলেন না।

সুপারম্যান রান্নাঘরের মধ্যে উঁকি দিয়ে দেখলো। রান্নাঘর মনে হয় সে জীবনে খুব বেশি দেখে নি। রান্নাঘরে ম্যানরাই উঁকি দেয় না, সে তো সুপারম্যান! তাকে নিশ্চয়ই দেশ জাতি উদ্ধার করে বেড়াতে হয়। রান্নাঘরে ঢোকা তো দেশ জাতি উদ্ধারের মধ্যে পড়ে না।

মনোয়ারা এবার বিরক্তই হলেন, ‘আপনার শুভেচ্ছা জানানো শেষ হয়েছে?’
‘হ্যাঁ? ও, হ্যাঁ আপা, শেষ। আপনাকে ব্যস্ত মনে হচ্ছে খুব। কী এমন কাজ, বলেন তো। আমি তো উঁকিঝুঁকি মেরে তেমন কাজের কিছু পাইলাম না। আপনি এত ব্যস্ত হচ্ছেন কেন?’

‘আপনি তো সুপারম্যান, আপনার কাছে খুব কঠিন কিছু হওয়ার কথা না নিশ্চয়ই। যদি এতই সহজ মনে হয়, আপনি দুয়েকটা কাজ করে দিয়ে যান। নাইলে ফোটেন, প্লিজ। শুভেচ্ছা টুভেচ্ছায় কিছু হয় না ভাই। পারলে কাজে হেল্প করেন, না হলে সময় নষ্ট করবেন না।

সুপারম্যানের সম্ভবত এই কথা বেশ প্রেস্টিজে লেগে গেল! সুপারম্যানের জন্য এইগুলা কোনো কাজ? রুটি বানানো, থালাবাসন ধোয়া… হাবিজাবি আরও কী সব, ধুর! কোনো ব্যাপার হইল! সুপারম্যান বাস ট্রেন থামায় দেয়… কী কয় এই মহিলা?

‘দুই একটা না আপা। আমি আজকে আপনার সব কাজ করে দিতেছি। এইটাই আমার নারী দিবসের কর্মসূচি হোক, মন্দ কী! দাঁড়ান, আমি আসতেছি।’

এই বলে সুপারম্যান জানালার গ্রিল খুলতে উদ্যত হলো। মনোয়ারা চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘আরে, দাঁড়ান, কী করছেন এইসব, নামেন তো, আপনি নামেন। ভদ্রভাবে দরজা দিয়ে ঢোকেন। বিল্ডিংয়ের নিচে নেমে লিফট দিয়ে উপরে উঠে আসেন, লিফটের ৬।’


সুপারম্যান রুটি গোল করার চেষ্টা করছে। কিছুতেই গোল হচ্ছে না! গোল হওয়া পরের বিষয়, কিছুই হচ্ছে না। পুরো আটার দলা বেলনের সঙ্গে লেপটে যাচ্ছে। এই কাজ কেউ করে কীভাবে।

মনোয়ারা সুপারম্যানকে রুটি বানানোর কাজ দিয়ে স্বামীকে ঘুম থেকে তুলে তার কাপড়চোপড় ইস্ত্রি করে সব কিছু রেডি করে ঠিক করে দিয়ে আসলেন। এসে দেখলেন, সুপারম্যান পনেরো মিনিট চেষ্টা করে একটা রুটি বানানো দুরের কথা, বেলতেও পারে নি। এদিকে পুরো রান্না ঘর আটা ছিটিয়ে একাকার অবস্থা, নিজেও গায়ে মেখে ভরিয়ে ফেলেছে।

মনোয়ারা রুটি বানানোর দায়িত্ব নিজেই নিলেন। পল্টুর বাবা খেতে বসবেন এখনই, তার সময় নেই, অফিসে দেরি হয়ে যাবে। মনোয়ারা পাঁচ মিনিটের মধ্যে রুটি বানিয়ে শেষ করলেন। এই সময়ের মধ্যে সুপারম্যানকে তিনি শুধু সবজির তরকারিটা খুন্তি দিয়ে নাড়তে বলেছিলেন। রুটি বানানো শেষ করে তিনি দেখলেন, সুপারম্যান তা করতে গিয়েই তার ‘লাল ওড়নার’ কোনায় আগুন ধরিয়ে ফেলেছে। এরপর ফু দিয়ে সেই আগুন নেভাতে গিয়ে চুলা সুদ্ধ নিভে গেছে। আশেপাশের কয় বাসার চুলা নিভে গেছে কে জানে!


মনোয়ারা স্বামীকে নাস্তা খাওয়ালেন। ততক্ষণে সুপারম্যানকে গতরাতের কিছু এঁটো থালাবাসন ধুয়ে দেয়ার কাজ দিয়ে গেলেন। স্বামী অফিসের জন্য বেরোনোর পর মনোয়ারা রান্নাঘরে গিয়ে দেখলেন, সুপারম্যান সাহেব তার ‘সুনিপুণ দক্ষতায়’ পুরো রান্নাঘর পানিতে ভাসিয়ে ফেলেছে। থালা ধুয়েছে মোট দেড়টা। দুটা প্লেট, একটা হাফপ্লেট!

মনোয়ারা সুপারম্যানকে নতুন কাজ দিলেন। তিনি থালাবাসন ধুয়ে ঠিকঠাক করে নেবেন, ততক্ষণে সুপারম্যান পল্টুকে ঘুম থেকে তুলে ব্রাশ করিয়ে মুখ ধুইয়ে খাবার টেবিল পর্যন্ত নিয়ে আসুক। তাতেও কাজ কম এগোবে না। বাচ্চারা তো সুপার-ব্যাট-স্পাইডার এসব ম্যানদের পছন্দই করে। তাদের পছন্দের উইম্যান অবশ্য একটাই- মা!

পল্টুকে সামলাতে গিয়ে সুপারম্যান বুঝতে পারল, কবি কেন বলে গেছেন, ‘বাচ্চা ভয়ংকর কাচ্চা ভয়ংকর!’ পল্টু একবার তার নাক ধরে টান দেয়, আরেকবার গালে ঠাস ঠাস থাপ্পড় লাথি মারে, আরেকবার কান ধরে, আরেকবার চুল ধরে টান দেয়। সুপারম্যানের দু চোখে পানি চলে এল। হায় রে, এই দিনও দেখা লাগলো! বড় বড় গুন্ডা মাস্তান সাইজ হয়ে গেল সুপারম্যানের হাতে, কিন্তু এই আড়াই বছরের দেড় ফুট বাচ্চা কিছুতেই ঠাণ্ডা হয় না! চোখ গরম করে তাকালেও বিপদ, সঙ্গে সঙ্গে ভ্যাঁ করে কেঁদে ওঠে!

বাচ্চার কান্না শুনে মনোয়ারা বেগম ঘরে এসে দেখলেন, পল্টু সুপারম্যানকে ঘোড়া বানিয়ে তার পিঠের ওপর বসে আছে। পাশে পেস্টের টিউব টুথব্রাশ এসব ছড়ানো, ছিটানো। মনোয়ারা মেজাজ তুঙ্গে উঠে গেল!

‘একটা বাচ্চা সামলানো হয় না আপনাকে দিয়ে? কিসের সুপারম্যান আপনি?’
সুপারম্যান মুখ কাচুমাচু করে বললো, ‘আপা, আপনার পিচ্চি ডেঞ্জারাস!’


পুরো ঘরে পেস্ট ছড়ানো ছিটানো। মনোয়ারা সুপারম্যানকে ঘর মোছার দায়িত্ব দিয়ে পল্টুর দায়িত্ব নিজে নিয়ে নিলেন। বিশ মিনিটের মধ্যে পল্টুকে খাইয়ে দাইয়ে স্কুলের জন্য রেডি করে নিজেও রেডি হয়ে ঘরে এসে মনোয়ারা দেখলেন, সুপারম্যান ঘর মোছার বালতি নিয়ে মেঝের ওপর পড়ে আছে। ঘরের দুই স্কয়ারফিটও মোছা হয়নি!

‘আপা, সরি, একটু রেস্ট নিলাম। মাজা তো ব্যথা হইয়া গেল ঘর একটু মুইছাই… কাজটা কঠিন আছে।’
‘আপনার জন্য তো কোনো সহজ কাজই খুঁজে পেলাম না! আপনি পারেনটা কী বলেন তো?’

সুপারম্যান হতাশ গলায় বললো, ‘দেখেন আপা, আমি একজন সুপারহিরো। আমি উড়তে পারি!’
‘সেটা তেলাপোকাও পারে।’

সুপারম্যানের প্রেস্টিজ সদ্য ছ্যাকা খাওয়া প্রেমিকের মনের মত চুরমার হয়ে গেল। ‘আপা, আমার অনেক শক্তি!’
‘অনেক শক্তি গণ্ডারেরও আছে! আপনাকে তবু ধন্যবাদ। তবু হেল্প করতে চেয়েছেন, এজন্য। যে কোনো ম্যান এতটুকু হেল্প করতে চাইলেও সবকিছু একটু হলেও সহজ হত। যদিও, আমাদের হেল্পের দরকার নেই।’

সুপারম্যান ব্যাপারটা বুঝলো না বোধহয়। সে উঠে দাড়াতে দাঁড়াতে বললো, ‘আপা, কিছু বললেন?’
মনোয়ারা বেগম বললেন, ‘না, কিছু বলি নি। আমি অফিসে যাব, পল্টুকেও যাওয়ার পথে স্কুলে দিয়ে যাব। আমরা বের হই তাহলে?’

সুপারম্যান ভাবতে থাকলো, এই মহিলা প্রতিদিন সকালে এত কাজ করে, এরপর আবার অফিসেও যায়? তার নিজের কাজগুলো কখন করে? কীভাবে করে? একবার ভাবলো বলবে, আপা, লাস্ট একটা হেল্প করি, পল্টুরে আমি স্কুলে দিয়া আসি। উড়ায় নিয়ে গেলাম, জ্যাম ট্যামের কাহিনী নাই!

ভাবলেও সে কিছু বললো না। থাকুক! বেশি রিস্ক হয়ে যায়… আপার বাচ্চা বড় ডেঞ্জারাস!

জেনে নিন | দাজ্জাল কোথায় আছে, সে কী এখন জীবিত!

দাজ্জাল কোথায় আছে

একদিন রাসূল (সাঃ) বললেন, “ আমি তোমাদেরকে জড়ো করেছি এ জন্য যে তামিম আদ দারি একজন খ্রিস্টান ছিল এবং একটু আগে আমার কাছে সে এসেছে এবং মুসলিম হয়েছে। আর সে আমার কাছে এমন একটা কাহিনী বর্ণণা করেছে, যা তোমাদের কাছে আমি দাজ্জালের ব্যাপারে যা বলেছিলাম তার সাথে মিল আছে” রাসূল (সাঃ) বললেন, লাখমান জুদাম নামক স্থান থেকে কিছু খ্রিস্টান আরব গোত্রের কিছু লোক তারা যখন জাহাজে করে যাচ্ছিল, বড় ঢেউ খেলে তাদের জাহাজ ওলটপালট হয়ে গেল, আর একটা অজানা দ্বীপে তরী ফেলার আগ পর্যন্ত তারা এক মাস ধরে দিকভ্রান্ত অবস্থায় ঘুরপাক খাচ্ছিল।

সেই দ্বীপের সন্ধান পেলে তারা নৌকায় করে সেই দ্বীপ অভিমুখে যাত্রা শুরু করল, এটা ছিল রাতের বেলা, তারা সকালে সেই দ্বীপে পৌছল। এরপর তারা একটা জন্তুকে দেখল, যেটার সারা শরীর ছিল পশমে ভর্তি, তাই সে জন্তুটির সামনের দিক পেছনের দিক থেকে আলাদা করা যাচ্ছিল না। তারা তাকে বলল, “ওহে, তুমি কে?”, জন্তুটি উত্তর দিল, “আমি জাসসাসা” তারা জিজ্ঞেস করল, “জাসসাসা কি” সে এই প্রশ্নের উপেক্ষা করে বলল, তোমরা আমার সাথে একটা আশ্রমে আস, সেখানে একটা লোক বসে আছে সে তোমাদের সাথে দেখা করতে চায়। তারা এটা বর্ণণা করছেন নিজের ভাষায়, সেটা শুনে আমরা কিছুটা সংশয়ে পড়ে গেলাম, আমাদের কাছে মনে হল সে বিপদজনক কিছু হতে পারে। আমরা ভেতরে গেলাম, তাকে দেখলাম, সে অতিকায় এক লোক, এমন অতিকায় কাউকে আমরা কখনও আগে দেখি নি। লোকটিকে তার হাঁটু থেকে গোড়ালি পর্যন্ত লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। আমরা বললাম, “ওহে, তুমি কে?” সে বলল, “তোমরা তো আমাকে দেখলে, তোমরা কারা সে সম্বন্ধে আমাকে কিছু বল” তো এরপর তারা বলল, “আমরা আরব, আমরা সাগরে পথ হারিয়েছি এরপর এই দ্বীপে এসে পৌছেছি” লোকটি অতঃপর বলল, “আমাকে বাইসান নামক স্থানের তালগাছ সম্পর্কে কিছু বল” বাইসান হচ্ছে আশ-শামের একটি অঞ্চল। তারা বলল, “বাইসানের তালগাছ সম্পর্কে তুমি কি জানতে চাও?”, সে বলল, “সেগুলোতে কি ফল ধরে?”, তারা বলল, “হ্যাঁ, ধরে” এরপর লোকটি বলল, “এমন একটা সময়ের আগমন হবে যখন সেই গাছে আর ফল ধরবে না। সে বলল, “আমাকে তাবারিয়াতে যে একটা হ্রদ আছে না, সেটা নিয়ে কিছু বল, সেই হ্রদে কি এখন পানি আছে?”।. তাবারিয়া ফিলিস্তিনের একটি হ্রদ। তারা উত্তর দিল, “হ্যাঁ”, লোকটি তখন বলল, “এমন একটা সময়ের আগমন হবে যখন সেই পানি শুকিয়ে যাবে”।. আল্লাহু আলম, ইহুদীরাই এ হ্রদ শুকিয়ে ফেলবে। এরপর সে তাদের কাছে জানতে চাইল, জুগারে বসন্ত কালে কি পানি থাকে কিনা, তারা উত্তর দিল, থাকে। সে বলল, “লোকেরা কি সেই পানিকে সেচকাজে ব্যবহার করে, তারা বলল, হ্যাঁ করে, আর সেখানে অনেক পানি আছে, লোকে সেগুলো কৃষিকাজে ব্যবহার করে। সে জবাবে আর কিছু বলল না। তারপর সে বলল, “সেই নিরক্ষর নবী সম্পর্কে আমাকে কিছু বল”।. এই নিরক্ষর নবী হচ্ছে নবী মুহাম্মদ (সাঃ)। তারা বলল, “তিনি মক্কা ছেড়ে গিয়েছেন আর এখন মদীনায় আছেন”।. সে জিজ্ঞেস করল, “আরবরা কি তার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে?”, তারা বলল, “হ্যাঁ”।. সে জিজ্ঞেস করল, “উনি তাদের সাথে কেমন আচরণ করছেন? তার সাথে আরবদের যুদ্ধে কে জিতেছে?”, তারা উত্তর দিল, “তিনি জয়লাভ করেছেন আর এখন তারা তার অনুগত। তাদের জন্য এটাই কল্যাণকর যে তারা তাকে মেনে নেবে”।. এবার লোকটির পরিচয় দেবার পালা। সে বলল, “আমি হচ্ছি মসীহ। এটা সময়ের ব্যাপার যে আমাকে মুক্ত করে দেয়া হবে আর আমি সারা বিশ্ব ভ্রমণ করব, এবং আমি ৪০ দিনের মধ্যে প্রতিটি শহর এবং গ্রামে প্রবেশ করব, মক্কা এবং তাইয়্যেবা-এ দুটো শহর ছাড়া, তাইয়্যেবা হচ্ছে মদীনা। আমাকে সেখানে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। আমি যখনই সেখানে ঢুকতে যাব, সেখানে কিছু ফেরেশতা থাকবে, তারা মক্কা এবং মদীনার প্রতিটি প্রবেশপথে পাহারা দেবে। এতটুকু বলে, রাসূল (সাঃ) তার হাতের লাঠি দিয়ে মিম্বরে আঘাত করে ৩ বার বললেন, “এটাই হল তাইয়্যেবা”।. তারপর তিনি বললেন, “আমি কি তোমাদেরকে আগে এমনটি বলি নি?”, লোকে উত্তর দিল, “হ্যাঁ বলেছেন”, তিনি বললেন, “আমি তোমাদেরকে তামিমের গল্পটি শোনাতে চেয়েছি কারণ সে যা বলেছে আর আমি তোমাদের আগে যা বলেছি তার মধ্যে মিল আছে”।. এরপর রাসূল (সাঃ) বললেন, “সে এখন আশ-শামের সাগরে অবস্থান করছে”। আশ-শামের সাগর হচ্ছে ভূমধ্যসাগর, অথবা ইয়েমেনের সাগর। আর ইয়েমেনের সাগর হচ্ছে লোহিত সাগর কিংবা আরবসাগর। তারপর রাসূল (সাঃ) বললেন, “না”, তিনি পূর্বদিক নির্দেশ করে ৩ বার বললেন, “সে পূর্ব দিকে আছে”।. এর মানে আমরা বুঝতে পারলাম, দাজ্জালের অবস্থান মদীনার পূর্বে, কিন্তু পূর্বের ঠিক কোথায় আছে, তা কেবল আল্লাহই জানেন। এই হাদীস থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে, এর মধ্যে একটা হচ্ছে, আদ-দাজ্জাল এখন জীবিত অবস্থায় আছে এবং তামিম আদ দারি তাকে দেখেছিলেন। রাসূল (সাঃ) তার বক্তব্যকে অনুমোদন দিয়েছিলেন এবং আমরা এও জানি যে দাজ্জাল ৪০ দিনে সারা দুনিয়া ভ্রমণ করবে এবং সে মক্কা, মদীনা শহর ছাড়া পুরো বিশ্বে অবস্থান করবে।

-সহিহ মুসলিম, বই নং- ৪১, হাদিস নং- ৭০২৮

জেনে নিন | কোরআন হাত থেকে পড়ে গেলে কি করবেন

কোরআন হাত থেকে পড়ে গেলে যা করবেন

পবিত্র কোরআনে কারিম আল্লাহ তায়ালার কালাম। অতএব যে আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের ওপর ইমান রাখে, তার ওপর কোরআনে কারিমের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা ও অপমান থেকে তা রক্ষা করা অবশ্য কর্তব্য। কোনো কোরআনের কপি যদি, পুরনো হয়, ছিড়ে যায় ও তার পৃষ্ঠাগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়, তাহলে এমন জায়গায় রাখা যাবে না, যেখানে ওইসব পাতার অমর্যাদা হয়, ময়লা-আবর্জনায় পতিত হয়, মানুষ বা জীব-জন্তু দ্বারা পিষ্ট হয়।

প্রথমেই বলি হাত থেকে পড়ে গেলে যা করবেন-

আমাদের সমাজে প্রচলন রয়েছে যে, কারো হাত থেকে ভুলে বা অন্য কোনোভাবে কোরআনে কারিম পড়ে গেলে, কোরআনের ওজন পরিমাণ চাল দান করে দিতে হয়। আসলে এর কোনো শরয়ি ভিত্তি নেই। কারো হাত থেকে কোরআন পড়ে গেলে এ জন্য সে অনুতপ্ত হবে, ভবিষ্যতে যেন অার কোরআন না পড়ে সে জন্য সতর্ক থাকবে।

কোরআন হাত থেকে পড়ে গেলে যা করবেন
কোরআন হাত থেকে পড়ে গেলে যা করবেন

এভাবে শুধু পবিত্র কোরআনে কারিম নয়, হাদিস গ্রন্থ থেকে শুরু করে, কায়দা, আমপাড়া এমনকি ইসলামি বই-পুস্তক যেখানে কোরআনের আয়াত লিপিবদ্ধ আছে সেসবেরও একই হুকুম। এদিকে লক্ষ্য রেখেই ইসলামি স্কলাররা বলেন, যত্রতত্র বিশেষ করে পোস্টার হ্যাণ্ডবিলে কোরআনের আয়াত বা হাদিসের উদ্ধৃতি না লেখা। কারণ, এসবের সংরক্ষণ হয় না।

পুরনো কোরআন যদি বাঁধাই করে পাঠ উপযোগী করা সম্ভব হয়, তাহলে পরিত্যক্ত না রেখে ব্যবহার করা শ্রেয়। অনুরূপভাবে প্রকাশক বা কারো অবহেলা ও ভুলের কারণে কোরআনে কারিমে যদি ভুল ছাপা হয়, আর সংশোধন করা সম্ভব হয়, তাহলে সংশোধন করে পাঠ উপযোগী করা জরুরি।

তবে পুরনো বা ভুলছাপার কোরআন যদি একেবারেই পাঠ উপযোগী করা সম্ভব না হয়, তাহলে অসম্মান ও বিকৃতি থেকে সুরক্ষার জন্য কোরআনের ওই কপিগুলো নিরাপদ স্থানে দাফন করা জরুরি। নিরাপদ স্থান বলতে ওই স্থানকে বুঝায়, যেখানে মানুষ চলাচল করে না, ভবিষ্যতে অপমানের সম্মুখিন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

পুরনো ও ব্যবহার অনুপযুক্ত কোরআন সুরক্ষার আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে তা পুড়িয়ে দেয়া। হজরত উসমান (রা.) কোরাইশি হরফের কোরআন রেখে অবশিষ্ট কোরআনের কপিগুলো পোড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন মর্মে একটি বর্ণনা ইমাম বোখারি (রহ.) উল্লেখ করেছেন।

তবে পুরনো কোরআনের কপি পোড়ানোর ক্ষেত্রে আলেমরা বলেন, এসব ভালো করে পুড়ে ছাই করা জরুরি, কারণ অনেক সময় পোড়ানোর পরও হরফ অবশিষ্ট থাকে। পুরনো কোরআন দাফন করা অপেক্ষা পোড়ানো উত্তম। কারণ, দাফনের পর কখনো ওপর থেকে মাটি সরে গেলে দাফনকৃত কোরআনের অসম্মান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পোড়ানো ও পোড়ানোর পর ছাইগুলো দাফন করা অধিক শ্রেয়।

অনেকে ব্যবহার অনুপযুক্ত কোরআনের কপি পানিতে ফেলে দেন। এটা ঠিক না। কারণ, পানিতে ভাসমান অবস্তায় এসব কোরআনের কপি যে কোনো ময়লা-আবর্জনা কিংবা নাপাক স্থানে গিয়ে ঠেকতে পারে। তাই এ পদ্ধতি সঠিক নয়। তবে হ্যাঁ, একান্তই যদি পানিতে ভাসিয়ে দিতে হয়, তাহলে প্রবহমান নদীতে ভারী কোনো কিছু বেঁধে তার পর ফেলতে হবে ।

আমেরিকাবাসী আমি আসছি | লাদেনের ছেলের গোপন চিঠি ফাঁস

লাদেনের ছেলের গোপন চিঠি ফাঁস

লাদেনের সন্ত্রাস-সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী যে একমাত্র হামজাই হতে পারে, সেটা আগেই অনুমান করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। ওসামা বিন লাদেনের সেই ছেলের লেখা একটি চিঠি থেকে আরো স্পষ্ট হলো তার সন্ত্রাসবাদী মনোভাব। আট বছর আগের একটি চিঠি সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন মার্কিন গোয়েন্দারা। যেখানে সে তার বাবাকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যে, বাবার সঙ্গে যা হয়েছে তার প্রতিশোধ সে নেবেই।

বর্তমানে হামজার বয়স ২৮। ২২ বছর বয়সেই সে তার বাবাকে ওই চিঠি লিখেছিল। এক প্রাক্তন এফবিআই কর্তা, যিনি ৯/১১ হামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

নিয়েছিলেন, তিনিই সম্প্রতি এই চিঠি প্রকাশ্যে এসেছেন। আলি সউফান নামে ওই গোয়েন্দা ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর চিফ ছিলেন। তার মতে, হামজা যখন ছোট ছিল তখন থেকেই স্থির হয়ে গিয়েছিল যে লাদেনের পরে আল-কায়েদা চালাবে সেই।

লাদেনের ছেলের গোপন চিঠি ফাঁস
লাদেনের ছেলের গোপন চিঠি ফাঁস

সউফান জানান, দীর্ঘদিন বাবার দেখা পায়নি হামজা। সেইসময়ই এই চিঠি লেখে সে। হামজা বাবাকে লিখছে, ‘প্রত্যেকটা হাসি, যা তুমি আমাকে উপহার দিয়েছ, প্রত্যেকটা কথা যা তুমি আমাকে বলেছ সব মনে আছে। আল্লার নামে আমি জিহাদের পথ বেছে নিচ্ছি।’ আল-কায়েদার একাধিক প্রচারমূলক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে হামজাকে। লন্ডন, ওয়াশিংটন, প্যারিসে বারবার হামলার হুমকি দিতে দেখা গেছে তাকে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ‘specially designated global terrorist’ তকমা দেয়া হয়েছে হামজাকে। ওসামাকেও এই তকমা দেয়া হয়েছিল। বাবার ভাষাতেই কথা বলতে দেখা যায় হামজাকে। মূলত প্রতিশোধ নেওয়ার কথাই উঠে আসে হামজার ভাষণে। তার মূল বক্তব্য হল, ”আমেরিকাবাসী আমি আসছি। তোমাদের বুঝিয়ে দেব। বাবার সঙ্গে যা করেছ, তার বদলা নেবই।”

লাদেনের মৃত্যুর পর তার পরিবারকে লেখা অনেক চিঠিই প্রকাশ্যে আনা হয়। একটি চিঠিতে দেখা যাচ্ছে, হামজার মাও তাকে বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করতে উৎসাহিত করছে।

এবার গাড়ির কারখানায় কাজ করছেন মার্ক জাকারবার্গ!

এবার গাড়ির কারখানায় কাজ করছেন মার্ক জাকারবার্গ!

যে হাতে তিনি ফেসবুক তৈরি করেছেন, সে হাতে যে গাড়ি তৈরি করা যাবে না, এমন কোনো কথা নেই। ফেসবুক নির্মাতা মার্ক জাকারবার্গ একজন আমেরিকান কম্পিউটার প্রোগ্রামার ও সফটওয়্যার ডেভেলপার। তবে তিনি যে নিজ হাতে গাড়ি বানাতে পারেন, এ বিষয়টি অন্য কারো বিশ্বাস করা কঠিন। কিন্তু সম্প্রতি এমন কাজই করলেন জাকারবার্গ। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে টপ গিয়ার।

এবার গাড়ির কারখানায় কাজ করছেন মার্ক জাকারবার্গ!
এবার গাড়ির কারখানায় কাজ করছেন মার্ক জাকারবার্গ!

সম্প্রতি ফোর্ড মোটর কারখানায় জাকারবার্গকে গাড়ি তৈরির কাজে হাত লাগাতে দেখা গিয়েছে। কী করছিলেন তিনি সে কারখানায়? তিনি ফোর্ড এফ-১৫০ মডেলের গাড়ির অ্যাসেম্বলি লাইনে কাজ করছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিয়ারবর্নের ফোর্ড ফ্যাক্টরিতে তাকে দেখা গেছে, কিছু ছোট যন্ত্রাংশ স্থাপন করতে, গাড়ির গোঁজ ও স্ক্রু লাগাতে। এছাড়া তিনি একটি গাড়ির পরিদর্শন স্টিকারেও স্বাক্ষর করেন।
সম্প্রতি জাকারবার্গ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এ বছরে তিনি যত বেশি সম্ভব সফর করে অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। আর এ অভিজ্ঞতা অর্জনের অংশ হিসেবেই তিনি ফোর্ড গাড়ির ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধিক বিক্রিত ফোর্ড এফ-১৫০ মডেলের গাড়ির অ্যাসেম্বলি লাইনের কাজে হাত লাগান। তাকে এ কারখানা পরিদর্শনে আমন্ত্রণ জানান ফোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান উইলিয়াম বিল ফোর্ড জুনিয়র।
ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা তার সেই অভিজ্ঞতার করা জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটিতে পোস্টের মাধ্যমেও। বহুদিন ধরে যে কর্মীরা গাড়ি কারখানায় কাজ করে উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রেখেছেন তাদের সঙ্গেও কিছু সময় কাটিয়েছেন জাকারবার্গ।