হযরত ইবরাহীম এর সেই তিনটি মিথ্যা কথা

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন যে, لم يَكْذِبْ إبراهيمُ عليه الصلاةُ والسلام إلاّ ثلاثَ كَذَباتٍ، ‘ইবরাহীম (আঃ) তিনটি ব্যতীত কোন মিথ্যা বলেননি’। উক্ত তিনটি Continue reading “হযরত ইবরাহীম এর সেই তিনটি মিথ্যা কথা”

হযরত আবু বকর(রা) নবীজিকে যেভাবে চাদরের মতো ঢেকে রাখতেন

মদীনার মসজিদ। ফজরের সালাত শেষ হয়েছে। সাহাবীগণকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘তোমাদের মধ্যে আজ কে রোযা রেখেছে? কে ক্ষুধার্তকে খাবার খাইয়েছে? কে রোগী Continue reading “হযরত আবু বকর(রা) নবীজিকে যেভাবে চাদরের মতো ঢেকে রাখতেন”

হযরত আবু বক্কর (রাঃ) এর ক্ষুধার কাহিনী

প্রচন্ড রোদের মধ্যে হযরত আবু বকর (রাঃ) তাঁর ঘর থেকে বের হয়ে আসলেন। মসজিদ-ই-নববীর দিকে হাঁটতে শুরু করলেন আবু বকর (রাঃ)। পথেই দেখা হয়ে গেল উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর সাথে। Continue reading “হযরত আবু বক্কর (রাঃ) এর ক্ষুধার কাহিনী”

হযরত আবুদ্দারদা (রাঃ) রাসূল (সাঃ)-এর একজন সাহাবী

তার চারপাশে বহু লোকজন। বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্নজন এসেছেন। তার কাছে থেকে সবাই কিছু এলেম শিখতে চান। কুরআনের আয়াতের মর্ম শুনতে চান। রাসূল (সাঃ)-এর হাদীস শুনতে চান।
তিনি হযরত আবুদ্দারদা (রাঃ)। রাসূল (সাঃ)- Continue reading “হযরত আবুদ্দারদা (রাঃ) রাসূল (সাঃ)-এর একজন সাহাবী”

হযরত সাদ সালামি (রা) এর ১টি ঘটনা

হযরত সাদ সালামি আল্লাহর নবীর একজন সাহাবী ছিলেন । তিনি অত্যন্ত গরীব সাহাবী ছিলেন। গায়ের রং ছিল খুবই কালো এবং মুখের মধ্যে ছিল বসন্তের দাগ | একদিন সাদ (রা: ) রাসূলে পাকের দরবারে বসে কাঁদতে ছিলেন। Continue reading “হযরত সাদ সালামি (রা) এর ১টি ঘটনা”

হযরত ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এর প্রখর মেধার প্রমান

হযরত ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এর মেধা ছিল প্রখর।

ফতোয়ার ব্যাপারে তার সতর্কতা ছিল তুলনাহীন। একবার ইমাম সাহেবের মজলিসে এক ব্যক্তি এসে বললো, এল লোক বলেছে যে, কোন কাফের জাহান্নামে যাবে না’ এ ব্যক্তির ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম কী?

ইমাম সাহেব তার ছাত্রদেরকে বললেন, “তোমরা এ লোকটির কথার জবাব দাও।”

ছাত্ররা বললো, লোকটি কাফের। কারণ সে ‘নফছ’ কে অস্বীকার করছে (অর্থাৎ কোরআনের সেসব আয়াতকে অস্বীকার করছে যার অর্থ স্বতঃ প্রকাশমান)

ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) বললেন, তাবীল কর। (অর্থাৎ কোন ওজর পেশ করে লোকটিকে কুফুরী থেকে বাচাঁও।)

ছাত্ররা বললো, এখানে তাবীল করার সুযোগ নেই। তাবীল করা অসম্ভব।

ইমাম সাহেব বললেন, “তাবীল আছে। আর তাহলো জাহান্নামে যাওয়ার সময় কেউ কাফের থাকবে না, সবাই মুমিন হয়ে পড়বে।

কারণ তখন দোযখ দেখবে তা অস্বীকার করার কোন উপায় থাকবে না। আর তখন দোযখীরা সবাই শরীয় অর্থে কাফের থাকলেও আভিধানিক অর্থে মুমিন হয়ে যাবে। আর সে মুমিন অবস্থায় দোযখে যাবে। কাফের অবস্থায় দোযখে যাবে না। তাই লোকটিকে কাফের হিসেবে ফতোয়া দেয়া যায় না।”

সুতরাং ইমাম সাহেবের মেধা এবং সতর্কতা কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে।

কেউ কি তার সীমা খুঁজে পাবে?

(আল-এফাযাতুল য়্যাওমিয়্যাহ, খন্ড-১, পৃষ্ঠা-১৯৬)

আল্লাহর ইচ্ছার সাথে নিজের ইচ্ছাকে এরূপ শর্তহীন ভাবে মিলিয়ে দিলে আল্লাহর সাহায্য নেমে আসে। এ অপূর্ব ঘটনা গ্রামবাসী স্বচক্ষে দেখলো।

(এরশাদাতে হাকীমুল উম্মত, খন্ড-২, পৃষ্ঠা- ৫৭)

কুচকুচে কালো সাহাবী হযরত জাহেয রা.

কুচকুচে কালো সাহাবী হযরত জাহেয রা.। গ্রাম থেকে শাক-সবজি সংগ্রহ করে শহরে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। খুব ভালোবাসতেন রাসূল সা. তাঁকে। বলতেন “জাহেয আমাদের গ্রাম আমরা জাহেযের শহর“।
একদিন তিনি উদোম শরীরে বাজারে শাক-সবজি বিক্রি করছিলেন। রাসূল সা. পিছন থেকে এসে তাঁর বোগলের নিচ দিয়ে হাত ঢুকিয়ে ঘাড়কে এমন ভাবে ধরলেন যেনো সে নড়তে না পারে। ধরার সাথে সাথে তিনি স্বজোরে বলতে লাগলেন, এই ! কে ধরেছো আমাকে? ছাড়ো ! ছাড়ো বলছি ! এদিকে রাসূল সা. ও ধরে রেখে বলতে লাগলেন, এই গোলামকে কে ক্রয় করবে……? সুলভ মূল্যে বেঁচে দিবো। রাসূল সা.-এর আওয়াজ শুনে জাহেয রা. চুপ হয়ে গেলেন। রাসূলের গায়ে ছিলো চাঁদর জড়ানো। হাত উঁচু করে জাহেযকে ধরায় রাসূল সা. এর সিনা মোবারক অনাবৃত হয়ে পড়েছিলো। সুযোগ বুঝে জাহেয রা. নিজের নগ্ন পিঠকে রাসূলের সিনার সাথে মিলিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন।

কিছুক্ষণ পর রাসূল সা. তাঁকে ছেড়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, জাহেয ! তুমি চুপ হয়ে গেলে যে? আবার আমার সিনার সাথে তোমার পিঠ ঠেকিয়ে দিলে! জাহেয রা. বললেন, ওগো প্রিয় রাসূল সা. আমিতো নিঃস্ব । নিতান্তই হতদরিদ্র। কোনো পুঁজি নেই।
হাশরের মাঠে যদি আল্লাহ আমাকে জিজ্ঞেস করেন, জাহেয! আমার কাছে কি এনেছো তুমি ? জবাবে বলবো, প্রভূ ! উপস্থাপন করার মতো কিছুই নেই। তবে, আমার পিঠখানা পরীক্ষা করে দেখুন, তাতে তোমার হাবীবের পরশ আছে। একথা শুনে
রাসূল সা. তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।

আহ্ ! তিনিতো অন্তত রাসূল সা. এর পরশ পেয়েছেন। আমাদের তো তাও নেই। কোন সম্বল নেই। কোন পুঁজি নেই। রিক্ত হাত। শুন্য থলে। আমরা কী পেশ করবো তাঁর কাছে। আমরা তো এমন হতভাগ্য যে, আমাদের চোখ তাঁর হাবীবকে
দেখেনি। এমন দূর্ভাগা আমাদের নাক তাঁর ঘ্রাণ নিতে পারেনি। এমন বঞ্চিত তাঁর সাথে এক পথে চলতে পারিনি। আমরাতো এমন রিক্ত যে , আমাদের হাত তাঁকে ছুঁতে পারেনি। তবে আমাদের কী হবে? কী আছে আমাদের?
হ্যাঁ আছে। আমাদের অন্তরে মদীনা অলার প্রেম আছে। হৃদস্পন্দনে তাঁর অনুরাগ আছে। প্রতি রক্তকনিকায় তাঁর ভালোবাসা আছে। মহব্বত আছে। এই প্রেম আর অনুরাগকেই আমরা প্রভুর সামনে পেশ করবো সেদিন। প্রভু অন্তর্যামি। তিনি দেখেন।
বুঝেন। উপলব্ধি করেন।
হে প্রভু ! তাঁর ভালোবাসাকে পুঁজি করেই জীবন কাটানোর তৌফিক দিন। তাঁর পদাঙ্ক অনুস্মরণ করে আমরণ চলার তৌফিক দিন। মদীনা অলার প্রেমানলে জ্বলে জ্বলে নিজকে নিঃশ্বেষ করার তৌফিক দিন। আমীন।।

হযরত ওমর (রাঃ) এর “আল ফারুক” উপাধির ইতিহাস

আল ফারুক” উপাধির ইতিহাস:
হযরত ওমর (রাঃ) ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেই রাসূল (সঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, ”হে আল্লাহর রাসূল (সঃ) বর্তমানে মুসলমানের সংখ্যা কত?
রাসূল (সঃ) উত্তর দিলেন, ”তোমাকে নিয়ে ৪০ (চল্লিশ) জন।”
হযরত ওমর (রাঃ) বললেন, ”এটাই যথেষ্ট। আজ থেকে আমরা এই চল্লিশ জন্যই কাবা গৃহে গিয়ে প্রকাশ্যে মহান আল্লাহ তায়ালার ইবাদাত করবো। ভরসা মহান আল্লাহর। অসত্যের ভয়ে আর সত্যকে চাপা পড়ে থাকতে দেব না।”

রাসূল (সঃ) হযরত ওমরের (রাঃ) এই সদিচ্ছার উপর খুশি মনে অনুমতি দিলেন। হযরত ওমর (রাঃ) সবাইকে নিয়ে তরবারি হাতে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দিতে দিতে কাবা প্রাঙ্গণে গিয়ে উপস্থিত হলেন। মুসলিম দলের সাথে হযরত ওমর (রাঃ) কে এভাবে কাবা প্রাঙ্গণে দেখে উপস্থিত কাফের কুরাইশগণ যার পর নাই বিস্মিত ও মনোক্ষুণ্ন হয়ে পড়লেন।

তাদের মনোভাব দেখে হযরত ওমর (রাঃ) বজ্রকণ্ঠে গর্জন করে বললেন, ”আমি তোমাদের সাবধান করে দিচ্ছি, কোন মুসলমানের কেশাগ্র স্পর্শ করলে ওমরের তরবারি তোমাদের বিরুদ্ধে উত্তোলিত হবে।”
কাবায় উপস্থিত একজন কুরাইশ সাহস করে বললেন, ”হে খাত্তাব পুত্র ওমর! তুমি কি সত্যিই মুসলমানহয়ে গেলে?
আরবরা তো কখনো প্রতিজ্ঞাচ্যুত হয় না। জানতে পারি কি, তুমি কোন জিনিস পেয়ে এমনভাবে প্রতিজ্ঞাচ্যুত হলে?
হযরত ওমর (রাঃ) উচ্চকণ্ঠে জবাব দিলেন, ”মানুষ যার চেয়ে বেশি পাওয়ার কল্পনা করতে পারে না, আমি আজ তেমন জিনিস পেয়ে প্রতিজ্ঞাচ্যুত হয়েছি। সেই জিনিসটি হল আল কুরআন।” হযরত ওমর (রাঃ) এর এরূপ তেজোদীপ্ত কথা শুনে আর কেউ-ই কোন কথা বলতে সাহস পেল না। বিমর্ষ চিত্তে কাফের কুরাইশগণ সবাই সেখান (কাবা প্রাঙ্গণ) থেকে চলে গেল। অতঃপর রাসূল (সঃ) সবাইকে নিয়ে কাবা ঘরে নামায আদায় করলেন।
সেখানে মুসলমানদের এটাই প্রথম নামায। এর আগে মুসলমানরা অতি গোপনে ধর্ম কর্ম পালন করতেন। পোশাক- পরিচ্ছদের পার্থক্যও রক্ষা করতে পারতেন না। এজন্য কে মুসলমান, কে পৌত্তলিক তা চেনার উপায় ছিল না। এ ঘটনার পর মুসলমানরা পোশাক- পরিচ্ছদ ও ধর্ম কর্মে পৃথক জাতিরূপে পরিগণিত হলেন। এই ঐতিহাসিক পরিবর্তন উপলক্ষে রাসূল (সঃ) হযরত ওমর (রাঃ)কে ‘আল ফারুক’ বা সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী উপাধিতে ভূষিত করলেন।

যে চিঠি পাঠ করে কেঁদে দাঁড়ি ভেজালেন হযরত উমর (রা.)….

হযরত উমর (রাঃ) এর খিলাফতের প্রথম দিকে হযরত আবু উবাইদা বায়তুল মাল দেখাশুনা করতেন। ঈদের আগের দিন খলীফার স্ত্রী বললেন, ‘আমাদের জন্য ঈদের নতুন কাপড় না হলেও চলবে, কিন্তু ছোট বাচ্চাটি ঈদের নতুন কাপড়ের জন্য কাঁদছে’।
খলীফা বললেন, ‘আমার নতুন কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই’। খলীফা পত্নী উম্মে কুলসুম খলীফার আগামী মাসের বেতন থেকে অগ্রিম নেয়ার জন্য তাঁকে অনুরোধ করলেন।
খলীফা উমর (রাঃ) হযরত আবু উবাইদাকে খলীফার এক মাসের অগ্রিম বেতন দেয়ার জন্য চিঠি পাঠালেন।

সমগ্র মুসলিম জাহানের খলীফা যিনি, যিনি অর্ধ পৃথিবী শাসন করছেন, তাঁর এ ধরণের চিঠি পাঠ করে হযরত আবু উবাইদার চোখে পানি এসে গেল। উম্মতে আমীন হযরত আবু উবাইদা (রাঃ) বাহককে টাকা না দিয়ে সিদ্ধান্ত চেয়ে চিঠি লিখলেন, ‘আমীরুল মুমিনীন! অগ্রিম বেতন বরাদ্দের জন্য দুটি বিষয়ে আপনাকে ফয়সালা দিতে হবে। প্রথমত আগামী মাস পর্যন্ত আপনি বেঁচে থাকবেন কি না?
দ্বিতীয়ত, বেঁচে থাকলেও মুসলমানেরা আপনাকে খিলাফতের দায়িত্বে বহাল রাখবে কিনা?’
চিঠি পাঠ করে হযরত উমর এত কেঁদেছেন যে তাঁর চোখের পানিতে দাঁড়ি ভিজে গেলো। আর হাত তুলে হযরত আবু উবাইদার জন্য দোয়া করলেন, ‘আল্লাহ আবু উবাইদার উপর রহম কর, তাঁকে হায়াত দাও’।
স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘প্রত্যেক জাতির একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি আছেন, আমার উম্মতের বিশ্বস্ত ব্যক্তি হচ্ছেন আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ’।