দুহাত কাটার পরেও হাতের অবশিষ্টাংশ দিয়ে ইসলামের পতাকা দরছিলেন যে সাহাবী

হযরত মুসআব ধনীর দুলাল ছিলেন। কিন্তু ইসলাম গ্রহন করার পর তাঁর উপর চরম নির্যাতন চালানো হয়। দীর্ঘদিন বন্দী করে রাখা হয়। একদিন বন্দী জীবনের শৃংখল ভেংগে আবিসিনায় চলে যান। সেখান থেকে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন একটি পোশাক পরিধান করে মদীনায় আসেন। হযরত মুসআবের এই দুরবস্থা দেখে আল্লাহর রাসুল (সা) এর চোখ অশ্র“ সিক্ত হয়। কেননা মুসআব খুবই আরাম আয়েশের জীবন যাপন করতো। শুধুমাত্র ইসলাম গ্রহন করার কারণে তার এই দুরবস্থা।

মুসআব মদীনায় আসার পর ওহুদ যুদ্ধ সংগঠিত হয়। উক্ত যুদ্ধে মুসআবের হাতে ছিল ইসলামের পতাকা। যুদ্ধের ময়দানে শত্র“র প্রচন্ড আঘাতে মুসআবের ডান হাত কেটে যায়। এরপর তিনি বাম হাত দিয়ে ইসলামের পতাকা উড্ডীন রাখেন। একটু পরে বাম হাতও কাটা যায়। দুহাত কাটা যাওয়ার পর দুই হাতের অবশিষ্টাংশ দিয়ে ইসলামের পতাকা বুকে ধরে রাখলেন। যতক্ষণ প্রাণ ছিলো ইসলামের পতাকা মাটিতে পড়তে দেন নাই। অবশেষে শত্রু “ পক্ষের তীরের আঘাতে তিনি শহীদ হন।

মানুষ যখন ক্ষুদ্ধ ও রাগান্বিত হয়, তখন সে শয়তানের হাতের খেলার ’বল’ হয়ে যায়।

“শয়তানের গোমরাহ করার
প্রচেষ্টা”
বনী ইসরাঈলের এক বুযুর্গকে শয়তান
গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট করার জন্যে
বারবার চেষ্টা করেছেন; কিন্তু
পারেননি। একদিন তিনি বিশেষ
কোন প্রয়োজনে কোথাও
যাচ্ছিলেন। শয়তানও তখন তার
সঙ্গী হয়ে পড়ল। পথে রিপুকাম ও
ক্ষোভের অনেক হাতিয়ারই ব্যবহার
করল সে। মাঝে মধ্যে তাকে ভয়
দেখাবারও চেষ্টা করল। কিন্তু ব্যর্থ
হলো বারবারই।
বুযুর্গ একবার পাহাড়ের পাদদেশে
বসেছিলেন। শয়তান তখন পাহাড়ের
উপরে উঠে একটি পাথর ছেড়ে দিল।
বুযর্গ যখন লক্ষ করলেন বিশাল একটি
পাথর তার দিকে গড়িয়ে পড়ছে। তখন
তিনি আল্লাহর যিকিরে মশগুল হয়ে
পড়লেন। পাথর তাকে পাশ কেটে
অন্য দিকে গড়িয়ে পড়ল। শয়তান বাঘ
ও সিংহের আকৃতি ধরে তাকে ভয়
দেখাতে চাইল। তাতেও কাজ
হলোনা। একবার বুযুর্গ নামায
পড়ছিলেন। শয়তান তখন সাপের
আকৃতি ধরে বুযুর্গের মাথা থেকে পা
পর্যন্ত জড়িয়ে ধরল। অতঃপর তার
ফনাটি সিজদার স্থানে বিছিয়ে
দিল। বুযুর্গ এতেও ভীত হলেন না।
এবার শয়তান পূর্ণ নিরাশ হয়ে
সম্পূর্ণ নিজের আকৃতিতে সেই
বুযুর্গের সামনে এলো এবং বলল :
আপনাকে গোমরাহ করার সকল
কৌশলই আমি অবলম্বন করেছি।
কিন্তু তার কোনটিই কাজে আসেনি।
তাই আমি এখন আপনার সাথে বন্ধুত্ব
করতে চাচ্ছি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি
এখন থেকে আপনাকে আর ভ্রষ্ট করার
চেষ্টা করবনা। সুতরাং আপনিও
বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিন। বুযুর্গ
বললেন : এটাতো তোর সর্বশেষ
কৌশল। দুর্ভাগা, তোর ভীতি
প্রদর্শনেও আমি ভীত হইনি। তোর
বন্ধুত্বেরও আমার কোন প্রয়োজন
নেই।
শয়তান তখন বলল : আমি কি
আপনাকে একথা বলে দিব, মানুষকে
আমি কিভাবে গোমরাহ করি?
বুযুর্গ বললেন : বল।
শয়তান বলল : তিনটি বিষয়ের
দ্বারা-
১. কার্পণ্য, ২. ক্রোধ ও ৩. নেশা।
শয়তান বলল : মানুষের মধ্যে যখন
কার্পণ্য সৃষ্টি হয়, তখন সঞ্চয়ের
নেশায় পড়ে যায়। খরচ করেনা।
অন্যের হক নষ্ট করে। আর মানুষ যখন
রাগান্বিত হয়ে পড়ে, তখন সে
আমাদের হাতের খেলনায় পরিণত
হয়। যেমন ছোট বাচ্চাদের হাতে
খেলার বল থাকে ঠিক তেমন। আমরা
তার ইবাদত বন্দেগীর মোটেও
পরোয়া করিনা। সে যদি স্বীয় দু’আর
দ্বারা মৃতকে জীবিতও করে তবুও
আমরা নিরাশ হইনা। আমরা একটি
কথায় তার সকল বন্দেগী মাটিতে
মিশিয়ে দেই। আর মানুষ যখন নেশা
করে মাতাল হয়ে পড়ে, তখন আমরা
ছাগলের মত তার কান ধরে যে কোন
পাপের দিকে নিয়ে যাই এবং খুব
সহজেই নিয়ে যাই।
ফকীহ আবুল লাইস (রঃ). বলেন : এ
ঘটনায় জানা গেল মানুষ যখন ক্ষুদ্ধ ও
রাগান্বিত হয়, তখন সে শয়তানের
হাতের খেলার ’বল’ হয়ে যায়। ছোট
শিশুরা যেমন ’বল’ এদিক-ওদিক ছুড়ে
মারে, শয়তানও তাকে অনুরুপ ইচ্ছামত
এদিক সেদিক নিতে থাকে। তাই
রাগের সময় আমাদের ধৈর্য্য ধারণ
করা চাই, যাতে শয়তানের হাতের
ক্রীড়ানক হতে না হয়।
শিক্ষা : উল্লেখিত
ঘটনা থেকে আমরা একটি শিক্ষা
নিতে পারি যে, আল্লাহওয়ালাদের
সংস্পর্শে এসমস্ত শয়তানের ধোঁকা
থেকে বাঁচতে পারব।
————————–০০০———————–

জেনে নিন | ইঞ্জিল শরিফে মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে ভবিষ্যতবাণী যা নিয়ে সারাবিশ্বে হৈচৈ পড়ে গেছে

ইঞ্জিল শরিফে মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে ভবিষ্যতবাণী

তুরস্কে এক যাদুঘরে ১৫শ বছর আগের ইঞ্জিল শরিফ সংরক্ষিত থাকার সংবাদ পাওয়া গেছে। এ ইঞ্জিল শরিফে হযরত ঈসা আ. হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর আগমনের সংবাদ দিয়েছেন। এ সংবাদে সারাবিশ্বে হৈচৈ পড়ে গেছে। বিশ্বের খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীগণ তুরস্কের যাদুঘরে থাকা চামড়ায় স্বর্ণখচিত লেখা এই পুরোনো ইঞ্জিল শরিফ পেতে আগ্রহী হয়ে যাদুঘর কর্তৃপক্ষের কাছে এর কপি প্রদানের আবেদন জানায়।

জানা যায়, ইঞ্জিলের এই পুরোনো নুসখাটি স্বর্ণের পানি দিয়ে হাতের লেখায় রচিত। আর এতে ১৪ মিলিয়ন অক্ষর রয়েছে।

ইঞ্জিল শরিফে মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে ভবিষ্যতবাণী
ইঞ্জিল শরিফে মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে ভবিষ্যতবাণী

সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ, ১৫শ বছর আগের পুরোনো ইঞ্জিল (বাইবেল) শরিফে ইসলামের নবি মুহাম্মদ (সা.) এর নাম ও তার পরিচয় স্পষ্টভাবে থাকায় খ্রিস্টানরা তাদের পোপ ও ধর্মজাযকদের এই প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন, মুহাম্মদ সা. এর পরিচয় পবিত্র ইঞ্জিলে সুস্পষ্টভাবে থাকা সত্ত্বেও তারা কেন তা গোপন করলেন? মুহাম্মদ (সা.) কে নবি হিসেবে তারা কেন মেনে নিলেন না?

ব্রিটেনের দৈনিক মেইলে জানিয়েছে, এই পুরোনো ইঞ্জিল শরিফে উদ্ধৃত হয়েছে, মুহাম্মদ সা. আল্লাহ প্রেরিত শেষ নবি। হযরত ঈসা (আ.) মুহাম্মদ সা. এর আগমনের সুসংবাদ দিয়েছেন এই কিতাবে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের বরাতে কুদরত ডটকম জানায়, ওই ইঞ্জিল শরিফের জায়গায় জায়গায় মুহাম্মদ সা. এর ধর্মকে সত্য ও সঠিক ধর্ম বলা হয়েছে। তুরস্কের দৈনিক ‘হুরমত’ জানায়, ইস্তাম্বুল শহরের একটি যাদুঘরে ১৫শ বছর আগের এ দুর্লভ ইঞ্জিল শরিফটি সংরক্ষিত আছে।

সূত্র: কুদরত ডটকম / আওয়ার ইসলাম