কঠোর লকডাউন এ মিথ্যা বললেন হাসপাতালে যাচ্ছে ব্যাগে পাওয়া গেল শেরওয়ানি-পাগড়ি

সারাদেশে ঈদের পর ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন মানুষকে সচেতন ও অপ্রয়োজনীয় ভাবে বাইরে না যেতে দেওয়ার বাস্তবায়নে মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ, ও জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংস্থার লোকজন। তবুও মানুষ বিভিন্ন অজুহাতে বের হচ্ছেন ঘর থেকে কারণ অকারণেই বের হচ্ছে অনেকেই পাশাপাশি বের হওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য জিজ্ঞেসাবাদে মিথ্যা ও বলছে জনগন।

এমন জিজ্ঞাসাবাদে মিথ্যা বলার বিষয়টি এবার সামনে এসেছে নোয়াখালীথেকে। নোয়াখালীতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বলছেন মিথ্যা কথা।

এরকমই অটোরিকশাযোগে ২ জন যাতায়েত করলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থামিয়ে জিজ্ঞেসাবাদ করলে তারা বলেন যে তারা হাসপাতালে যাচ্ছেন। অপরদিকে ব্যাগ তল্লাশি করে পাওয়া গেলো শেরওয়ানি ও পাগড়ি।

২৫ জুলাই রবিবার নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান রনি লকডাউন বাস্তবায়নের মধ্যে কিছু ঘটনা নিয়ে তার নিজের ফেসবুকে দুপুর ২ টায় একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ফেসবুক স্ট্যাটাসেই তিনি এসব ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন।

নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান রনি দুপুর ২টায় নিজের ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে লেখেন, দুই জন ব্যক্তি অটোরিকশাযোগে হয়তো কোথাও যাচ্ছিল, তারা লকডাউনে কি কাজে বাসা থেকে বেরহয়েছে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিগন্যাল দেয়া হলে তারা তাদের অটোরিকশাটি থামল।

অতঃপর আমি (আসাদুজ্জামান রনি)
জিজ্ঞেস করলাম, এই সময় কোথায় যাচ্ছেন? তারা তাদের উত্তরে জানাল তারা হাসপাতালে যাচ্ছেন। তবে তাদের সাথে থাকা ব্যাগ দেখে একটু মনে খটকা লাগাল।

আমি (আসাদুজ্জামান রনি) বললাম, ব্যাগটা কি একটু দেখব? লোকটি তারপর বাধ্য হয়ে ব্যাগটি এগিয়ে দিল। তার ব্যাগের ভিতরে ছিলো বিয়ের শেরওয়ানি আর পাগড়ি।

আমি (আসাদুজ্জামান রনি) তারপর আবারো জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা হাসপাতালে কি আজকাল বিয়েও হয়? লোকটি তখন তার সরল স্বীকারোক্তি দিয়ে বলল, মিথ্যা বলেছি।

এ ঘটনা ছাড়াও তিনি অন্যএক ঘটনার বিষয়েও তিনি তার ফেসবুকে স্ট্যাটাসে লিখেছেন।

সেখানে বলা হয়েছে, অটোরিকশায় একটি পরিবার যাচ্ছিল যাদের সদস্য সংখ্যা ছিলো তিন জন। স্বামী, স্ত্রী ও তাদের আনুমানিক তিন বছরের একটি মেয়ে।

তাদের পরিবার লকডাউনে কি কাজে বাসা থেকে বেরহয়েছে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিগন্যাল দেয়া হলে দেখতে পেলাম তাদের পরিবারের ছোট্ট মেয়েটি তার বাবার নাক চেপে ধরেছে। তারপর খেয়াল করলাম, তার বাবা মাস্ক পড়েননি। এতটুকু একটা মেয়ের সচেতনতা ও বাবার প্রতি ভালোবাসা দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম।

এছাড়া স্ট্যাটাসের শেষে তিনি লিখেছেন, আমরা আর কয়েকটা দিন চেষ্টা করি, খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হতে। আশা করি, খুব তাড়াতাড়ি দুঃসময় কেটে যাবে।

রিপোর্ট২৪বিডি/এইচ এ

আরো পড়ুন : বন্দুক নিয়ে সেলফি তুলতে গিয়ে প্রাণ গেলো তরুণীর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

BengaliEnglish