ছেলের কুকুরের কামড় এ মৃত্যু অতঃপর আত্নহত্যা মায়ের

মাদারীপুরের কালকিনিতে এক ওষুধ ফার্মেসির কর্মচারীর এক কুকুরের কামড় এর ফলে গুরুতর আহত ও পরবর্তীতে নিহত হন। তার মৃত্যুর পরে আআত্নহত্যা করেন তার মা

নিহতের নাম নয়ন পাল বয়স ৩৪ কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নয়ন পাল।

নিহত নয়ন পৌর এলাকার দক্ষিণ রাজদী গ্রামের গৌতম পালের ছেলে। তিনি উপজেলা সদরের হাওলাদার ওষুধ ফার্মেসির কর্মচারী ছিলেন।

বৃহস্পতিবার ২২ জুলাই সকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নয়ন পাল।

এদিকে নয়ন পালের মা মহামারী করোনা ভাইরাসে যেভাবে দেশে মানুষের প্রাণ হানি হচ্ছে সে বিষয় নিয়ে খুব চিন্তিত থাকতেন তার নিজের পরিবারের কেউ যেনো এই মহামারীতে প্রাণ না হারায়।

তবে মহামারী করোনা ভাইরাসে প্রাণ না হারালেও তার বড় ছেলের কুকুরের কারণে প্রাণ হারিয়েছে যার ফলে তার নিজের পরিবারের একজনের প্রাণ হারানোর বিষয়টা কোনো ভাবেই মানতে পারেননি।

তার বড় ছেলে নয়নের মৃত্যুর কথা শুনে তিনি আর তার ভিতরের কষ্টটা সইতে না পেরে ২২ জুলাই দুপুরে বিষপানে করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান নয়ন পালের মা মেঘনা পাল (৬০)।

পরবর্তীতে শুক্রবার ২৩ জুলাই সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নয়ন পালের মা মেঘনা পাল (৬০) তিনিও মারা যান।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যয়, প্রায় ১৭দিন আগে নয়ন পালকে একটি কুকুর কামড় দেয়। কুকুরের কামড় দেওয়ার ফলেগুরুতর ভাবে আহত হন নয়ন পাল। পরবর্তীতে তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতি হলেই তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

কিন্তু বাড়ি ফেরার পর নয়ন পাল বুধবার সকালে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন এরপর তাকে ঢাকার মহাখালীতে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় নয়ন পালের।

এদিকে করোনা ভাইরাস নিয়ে চিন্তার পরে করোনায় মৃত্যু না হলেও কুকুরের কামড়ে সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলের মৃত্যুর খবর মানষিক দিক দিয়ে শোক সইতে না পেরে নয়ন পালের মা মেঘনা পাল (৬০) বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। মেঘনা পালের বিষপানের বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কালকিনি হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এরপর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে ২৩ জুলাই শুক্রবার সকালে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে তাদের প্রতিবেশী মেহেদী হাসান ও দিদার হোসেন বলেন, সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বড় ছেলে নয়নের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছিলেন মা মেঘনা পাল। যার ফলে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় কিন্তু পরবর্তীতে তিনিও মারা যান।

প্রতিবেশী মেহেদী হাসান ও দিদার হোসেন আরও জানান, নয়নের বাবা আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে মারা গেছেন। নয়ন পালের মা তাকে লালন পালন করে বড় করেছিলেন। এবং ছেলের পর মা তারা দুজনই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন। তাদের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় এক শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রিপোর্ট২৪বিডি/ এ এন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

BengaliEnglish