ফুলের রাজ্য গদখালী

ফুল পবিত্রতার প্রতিক । পৃথিবীর সৃষ্টির শুরু থেকেই মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির সাথে সাথে ফুলের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে । জন্ম ,মৃত্যু , বিবাহ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান সহ নানাবিধ অনুষ্ঠানে ফুলের ব্যবহার হচ্ছে। ফুল নিয়ে বিশ্বের খ্যাতনামা কবি, শিল্পী ও সাহিত্যিকরা আবৃত্তির সুরে সুরে ফুলের গুনো কীর্তন করেছেন।

 

কালের সাক্ষী হয়ে শত বছরের ইতিহাস নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য বৃক্ষ। দু’ধারে সগর্বে দাঁড়িয়ে থাকা এ বৃক্ষরাজির বুক চিরে চলে গেছে বাংলাদেশ-ভারতের সংযোগস্থল যশোরের বোনপোল রোড। সাপের মতো আঁকাবাঁকা চকচকে চওড়া রোডের উপর দিয়ে যাওয়ার আনন্দ হঠাৎ আচমকাই থমকে গেছে ইতিহাসে।

 

যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি ইউনিয়ন ৷ যশোর শহর থেকে প্রায় পঁচিশ কিলোমিটার দূরের এ ইউনিয়ন বিখ্যাত হয়েছে ফুল চাষের কারণে ৷ ইউনিয়নের পানিসারা, হাড়িয়া, কৃষ্ণচন্দ্রপুর, পটুয়াপাড়া, সৈয়দপাড়া, মাটিকুমড়া, বাইসা, কাউরা, ফুলিয়া ইত্যাদি গ্রামের প্রতি ইঞ্চি জমি চাষিরা কাজে লাগিয়েছেন ফুল চাষে৷

 

বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের মতো ফুল চাষের ধারাবাহিকতায় আঁশির-দশকের শুরুতে বাংলাদেশ বাণিজ্যিক ভাবে ফুল চাষের যাত্রা শুরু হয় । ১৯৮২ সালে ছোট্ট একটি নার্সারির মাধ্যমে গদখালিতে ফুলের চাষ শুরু করেন শের আলী সরদার ৷ দেশে বাণিজ্যিকভাবে ফুলচাষের পথিকৃৎ বলা যায় তাঁকেই ৷ তাঁর সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়েই গদখালি এলাকায় সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি চাষি ঝুঁকেছেন ফুল চাষে।

 

বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি যোগ্য ফুল চাষাবাদ শুরু করা হয়েছে। ‍ফুল উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে প্রকল্প পরিচালনা করছে ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম। তাছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয় ব্যাপকভাবে ফুল চাষের উপর সাহায্য সহযোগিতা করছেন। US সরকারের সহযোগিতায় USAID প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে ফুল উৎপাদন করা হচ্ছে। গদখালি অঞ্চলের চাষীরা বড় বড় উৎসবকে সামনে রেখে নানান জাতের দেশি বিদেশি ফুলের চাষ করছেন । এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রজনীগন্ধা, গোলাপ, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা, রথস্টিক, জিপসি, গ্যালেনডোলা, চন্দ্রমল্লিকা ইত্যাদি।

 

গদখালিতে যশোর রোডের দুই ধারে খুব ভোরে বসে ফুলের বাজার। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকাররা এখানে আসেন ফুল ক্রয় করতে। গদখালিতে উৎপাদিত নানা ধরনের ফুল বিদেশে রপ্তানি করা হয়। সারা বছর ফুল উৎপাদন ও বিক্রয় হলেও গদখালির চাষিরা বসন্তবরণ, ভালোবাসা দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পহেলা বৈশাখের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এ দিনগুলোতেই সবচেয়ে বেশি ফুল বিক্রয় ও দামও ভালো পাওয়ার কারণে এ সময়কে লক্ষ্য করে চাষিরা বেশি ফুল উৎপাদন করেন।

 

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির তথ্য মতে, গদখালি এলাকার হাজার হাজার একর জমিতে বছরজুড়ে উৎপাদিত নানা জাতের দেশি-বিদেশি ফুলের বার্ষিক বাজারমূল্য প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ৷ ভ্রমণের অন্যতম স্থান হতে পারে ফুলের রাজ্য গদখালী । পর্যটন কেন্দ্র গদখালী এলাকায় ফুলচাষ দেখতে এখন সেখানে পর্যটকরাও ঘুরতে আসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

BengaliEnglish