বন্দুক নিয়ে সেলফি তুলতে গিয়ে প্রাণ গেলো তরূণীর

গুলিভর্তি বন্দুক নিয়ে সেলফি তুলতে গিয়ে নিজের মাথার খুলি উড়িয়ে প্রাণ হারিয়ে ফেললেন রাধিকা গুপ্তা (২৬)।

বর্তমান যুগে হাতে স্মার্ট ফোন মানেই সেলফি তোলা তবে সেলফি তোলা অতঃপর সেটি সোশাল মিডিয়া তে আপলোড দেওয়ায় এক অন্যরকম ব্যাপার স্যাপার

আর এই সেলফি কে কেন্দ্র করে মানুষ নানা সময় নানা ভাবে নানা হাসি ঠাট্টার মুহুর্ত থেকে ভয়ানক মুহুর্ত চায় সেই স্মৃতিটি যেনো সেলফি তুলে সংরক্ষণ করে রাখতে পারে স্মার্ট ফোনে।

তবে মাঝে মাঝে ভয়ানক মুহুর্ত এর সময় সেলফি নিতে যেয়ে ঘটে যায় দুর্ঘটনা যার ফলে প্রাণ ও হারাতে হয়। এমনটিই ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের হারদুই অঞ্চলে রাধিকা গুপ্তা (২৬) নামে এক তরুণীর।

রাধিকা গুপ্তা বিভিন্ন পোজে সেলফি তুলতে খুব পছন্দ করতেন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে নানা হাসি ঠাট্টার মুহুর্ত থেকে ভয়ানক মুহুর্ত সময় তিনি চেত সেই সব মুহুর্ত গুলো যেনো সেলফি তুলে সংরক্ষণ করে রাখতে পারে স্মার্ট ফোনে।

তার সবসময় সাহসী কিছু একটা করে দেখানোর শখ ছিল। আর এই সাহস দেখাতে যেয়েই সুস্থ ভাবেই আনন্দের সাথে ২৬ বছর বয়সী এই তরুণীর মৃত্যু ঘটে।

জানা যায়, রাধিকা গুপ্তা তার থুতনিতে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে সেলফি তুলছিলেন। তবে সেলফি তোলার সময় তার একটি হাত মোবাইলের স্ক্রিনে থাকলেও ছবি তোলার সময় তার অন্য হাতটি ছিলো বন্দুকের ট্রিগারে। অতঃপর অসাবধানতা বশত বন্দুকের ট্রিগারে চাপ পড়ে যায় এবং সাথে সাথে গুলি বেরিয়ে সোজা তরুণী রাধিকা গুপ্তার মাথায়।

রাধিকা তার শ্বশুরের বন্দুক নিয়ে সেলফি তুলছিলেন। বন্দুক থেকে বের হয়ে আসা গুলি তার গলা ও ঘাড় ছিদ্র করে মাথা দিয়ে বের হয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

রাধিকার শ্বশুর জানান, তার ছেলে আকাশ গুপ্তার সঙ্গে রাধিকার বিয়ে আধা বছর ও হয়নি তাদের বিয়ে হয় গত মে মাসে। যেই বন্দুকটির সাথে সেলফি তুলছিলো রাধিকা সেটি তাদের লাইসেন্সপ্রাপ্ত। তবে পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য ১২-বোর একনলা বন্দুকটি থানায় জমা করে রাখা হয়েছিল।

গত বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) আমার ছেলে আকাশ থানা থেকে বন্দুকটি বাড়িতে ফেরত আনে। বন্দুকটি তাদের বাড়ির দোতলায় রাখা হয়েছিল। ঠিক যেদিন আকাশ বন্দুকটি বাড়িতে নিয়ে আসে ওইদিনই বিকেলে বাড়ির সদস্যরা গুলির শব্দ শুনতে পান। রাধিকার ঘরে গিয়ে যখন বাড়ির সদস্যরা দেখেন তখন তারা দেখতে পান রাধিকার ঘর রক্তে ভাসছে। রাধিকার হাতে রয়েছে সেই একনলা বন্দুকটি এবং তার সামনে রয়েছে মোবাইলটি।

মোবাইলটি বাড়ির সদস্যরা পড়ে থাকতে দেখেন। আর মোবাইলের স্ক্রিনে বন্দুকসহ রাধিকার সেলফি দেখতে পাওয়া যায়। তখন বাড়ির কারোর ই আর বুঝতে কোনো সমস্যা হয়নি যে সেলফি তুলতে গিয়েই গিয়েই এই পরিণতি ঘটে।

পুলিশ বন্দুক ও মোবাইল ফোন দুটি জিনিসই জব্দ করেছে। এবং রাধিকা কেও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, রাধিকা গুপ্তার ফোন থেকে একটি ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে যা সম্ভবত তার মৃত্যুর কিছু মুহুর্ত আগে তোলা সেলফি।

রাধিকা গুপ্তার স্বামী আকাশ জানান, তার স্ত্রী রাধিকা গুপ্তা থানা থেকে বন্দুক বাসায় ফিরিয়ে আনার পর থেকেই প্রচুর উৎসাহিত ছিলেন। সে একনলা বন্দুকটি তার পাশে রেখে বেশ কয়েকটি ছবিও তুলেছিলেন।

অপরদিকে রাধিকার বাবা ধারণা শ্বশুরবাড়ির লোকজনই যৌতুকের জন্য রাধিকাকে খুন করেছে এ বিষয় নিয়ে রাধিকা গুপ্তার বাবা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

রিপোর্ট২৪বিডি/এ এল ইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *